৩০ নভেম্বর ২০২০

বাড়িতে থাকতে পারছেন না ভিয়েতনাম ফেরত প্রবাসীরা

বাড়িতে থাকতে পারছেন না ভিয়েতনাম ফেরত প্রবাসীরা - ছবি : সংগৃহীত

বাড়িতে থাকতে পারছেন না ভিয়েতনাম ফেরত প্রবাসীরা। পরিচিতজন ও বিভিন্ন সমিতি বা সংস্থার কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ভিয়েতনামে গিয়েছিলেন তারা। ফিরেছেন শুন্য হাতে। ঋণের টাকার জন্য দিনরাত চাপ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তাই ঋণদাতাদের এড়িয়ে চলছেন ভিয়েতনাম ফেরত শতাধিক প্রবাসী।

ভিয়েতনাম ফেরত কয়েকজন প্রবাসী নয়া দিগন্তকে এসব কথা জানিয়েছেন। দালাল ও সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সিসহ দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি এসব বিদেশফেরত ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। সম্প্রতি ভিয়েতনামে গিয়ে প্রতারিত হয়ে দেশে ফিরেছেন কমপক্ষে ১২০জন বাংলাদেশী। তাদের মধ্যে আবার ৮৩ জন দেশে ফেরার পর হোম কোয়ারেন্টাইন থেকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার হয়ে জেলেও খেটেছেন। তাদেরই একজন নোয়াখালীর কোম্পাগঞ্জের মাহবুবুর রহমান। গতকাল সোমবার সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কথা হয় এই ভিয়েতনাম ফেরত প্রবাসীর সাথে। দোষীদের গ্রেফতার ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে আবেদন দিতে র‌্যাব হেডকোয়ার্টারে গিয়েছিলেন তিনিসহ ৮-১০ জন ভুক্তভোগী। পরে বিমানবন্দরের কম্পাউডারে অপেক্ষমাণ কয়েকজনের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের।

মাহবুবুর রহমান জানান, প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ কওে ফেব্রুয়ারিতে ভিয়েতনামে যান। মোবাইল কোম্পানিতে তাকে চাকরি দেয়া কথা দিয়েছিল দালাল ও রিক্রটিং এজেন্সি মাস ক্যারিয়ারের মালিক কামাল (বর্তমানে জেলে)। কিন্তু, ভিয়েতনামে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পাননি । তিনি বলেন, কাজ না পেয়ে রাস্তাঘাটে খেয়ে না খেয়ে কাটিয়েছি। মানুষের কাছ থেকে নিয়ে আমরা খেয়েছি। এখন আমরা সর্বহারা। মানুষের কাছ থেকে ধার দেনা করে গিয়েছি। মানুষ টাকার জন্য বাড়িতে আসছে। এখন আমরা বলতে গেলে ঘর ছাড়া। সরকারের কাছে আমাদের চাওয়া, তারা যেন আমাদের পাশে দাড়ায়।

মাহবুবুর রহমান বলেন, আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছিলেন, দালালদের গ্রেফতার করবেন। আজ কোনো দালাল গ্রেফতার হয়নি। এখন শুনছি মাস ক্যারিয়ারের কামাল, উনি নাকি জামিনে বের হয়ে আসছেন। জানি না কীভাবে তারা জামিন পায়।

তিনি বলেন, দূর প্রবাসে যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাজ করে টাকা পাঠায় সেই প্রবাসীদের গ্রেফতার হলো। আমরা জেল খাটলাম। আর মানব পাচারকারীরা ঘুরে বেড়ায়। তাদের গ্রেফতারের পরিবর্তে কেন আমাদের গ্রেফতার করা হলো, কেন আমাদের জেলে যেতে হলো? প্রশ্ন এই ভিয়েতনাম ফেরত প্রবাসীর। কথা হয় টাঙ্গাইলের মো. শাহাদত হোসেনের সাথে। গত ফেব্রুয়ারিতে ৪ লাখ টাকা খরচ করে ভিয়েতনাম যান তিনি। সেখানে গিয়ে দেখেন যে কোম্পানিতে গেছেন তার কোনো অস্তিত্ব নেই। থাকা খাওয়ারও ব্যবস্থা নেই। ‘ভিয়েতনাম কোনো মুসলমানের জন্য বিদেশ নয়’-যোগ করেন তিনি।

ভিয়েতনাম ফেরত টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজলার আব্দুল খালেক বলেন, মাস ক্যারিয়ারের মাধ্যমে ভিয়েতনাম গিয়েছিলাম। স্থানীয় দালাল বলেছিল সরাসরি কোম্পানিতে চাকরি, বেতন ৩০০ ডলার। সাড়ে ৪ লাখ টাকা দিতে হবে। এ চুক্তিতে ভিয়েতনামে গিয়ে দেখি সব ভুয়া। অনেক কষ্টের পর গত আগস্টে বাংলাদেশে ফিরে আসি। মানুষের কাছে ঋণ করে, ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে গেছি। এখন তারা টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে। দিনে বাড়িতে থাকতে পারি না। দালালের বিচার চাই। আমরা ক্ষতিপূরণ চাই। ভুক্তভোগী আরো কয়েকজনের সাথে সেখানে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারাও একই কথা বলেন। ঋণ করে বিদেশ গেছেন। ঋণের টাকা পরিশোধে চাপ দিচ্ছে সবাই। তাই ক্ষতিপূরণ চাই তাদের। পাশাপাশি দালাল চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে জোড় দাবি জানান তারা।

ভুক্তভোগীরা জানান, তারা র‌্যাব হেডকোয়ার্টারে গিয়ে দালালচক্র ও রিক্রুটিং এজেন্সিকে আইনের আওতায় আনা ও ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তির সহায়তার জন্য আবেদন করেছেন।


আরো সংবাদ