২০ অক্টোবর ২০২০
সরকারের প্রতি জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি

‘করোনার ভ্যাকসিন সংগ্রহে বুকিং দিন ও এন্টিজেন-এন্টিবডি টেস্ট করুন’


কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ১৯তম অনলাইন সভায় অগ্রীম টাকা জমা দিয়ে সরকারকে ভ্যাকসিন সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শেষ হওয়া সভায় অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ সহিদুল্লার সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

কোভিড ভ্যাকসিন বিষয়ক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের গৃহীত পদক্ষেপ নিয়ে অলোচনা করা হয় এবং দ্রুত ভ্যাকসিন সংগ্রহের ও বিতরণের জন্য কয়েকটি দিকে লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দেয়া হয়। তারা বলেন, পৃথিবীর সকল দেশ ভ্যাকসিন সংগ্রহে প্রতিযোগিতা করছে। কয়েকটি দেশ ভ্যাকসিন কেনার জন্য অগ্রিম টাকাও জমা দিয়েছে।

সভায় বলা হয়, ভ্যাকসিন এলান্সে বা গ্যাভির ভ্যাকসিন পেতে দেরী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমতাবস্থায় বাংলাদেশেরও উচিৎ অগ্রীম অর্থ জমা দিয়ে ভ্যাকসিন বুকিং করা। সভায় আরো বলা হয, কোনো কোনো টিকার জন্য প্রয়োজনীয় তাপমাত্রার কোল্ড চেইন ব্যবস্থা বাংলাদেশে নেই। ভ্যাকসিন নির্বাচনের ক্ষেত্রে সে বিষয়টির দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এবং উল্লেখিত তাপমাত্রার কোল্ড চেইন ব্যবস্থা করতে হবে। কোন একটি ভ্যাকসিন সংগ্রহে চেষ্টা না করে একাধিক উৎসের সাথে যোগাযোগ ও ভ্যাকসিন সংগ্রহের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। বিশেষ করে যে সব দেশে ভ্যাকসিন তৈরিতে সে দেশের সরকারের সম্পৃক্ততা আছে তাদের সাথে যোগাযোগ করা প্রয়োজন। ভ্যাকসিন প্রাপ্তির পর ভ্যাকসিন প্রদানের কার্যক্রম প্রাতিষ্ঠানিকভাবে করতে হবে এবং এখনই ভ্যাকসিন বিতরণ পরিকল্পণা (ডিপ্লয়মেন্ট প্ল্যান) চূড়ান্ত করা প্রয়োজন। ভ্যাকসিন প্রদানের পরবর্তী সময়ে ভ্যাকসিনের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার ফলোআপ করার ব্যবস্থাও থাকতে হবে। ভ্যাকসিন বিষয়ক বিশেষ কমিটিতে নাইট্যাগ ও জাতীয় পরামর্শক কমিটির প্রতিনিধি রাখার পরামর্শ দেয় জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি।

সভায় বলা হয়, যে সব প্রতিষ্ঠান ট্রায়াল কার্যক্রমের উপযুক্ত ও দক্ষ তাদেরই কেবল ভ্যাকসিনের ট্রায়ালে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। আইসিডিডিআরবি’র সাথে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, আইইডিসিআর ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানসমূহকে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।

সভায় বলা হয়, বর্তমানে পিসিআরের মাধ্যমে যে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হচ্ছে এর পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। কোভিড-১৯ পরীক্ষার পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারলে আরো বেশী কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত করা সম্ভব। এ উদ্দেশ্যে জাতীয় পরামর্শক কমিটি এন্টিজেন ও এন্টিবডি টেস্টের জন্য একাধিকবার পরামর্শ দিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ও এ ব্যাপারে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে রোগ নির্ণয়ে এন্টিজেন টেস্টের নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এন্টিজেন ও এন্টিবডি টেস্টের ব্যাপারে একটি নীতিমালা ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুমোদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে যে সব জেলায় পিসিআর টেস্টের সুবিধা নেই এবং বিশেষায়িত হাসপাতালে এন্টিজেন টেস্টের পরিকল্পনা দাখিল করা হয়েছে। এন্টিজেন টেস্ট কিটের যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে একটি সাবধানতার বিষয়ও এখানে রয়েছে যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ ধরণের কিটের এখনও অনুমোদন দেয়নি।

জাতীয় পরামর্শক কমিটি মনে করে, তিন পদ্ধতিতে (পিসিআর, এন্টিজেন ও এন্টিবডি টেস্ট) কোভিড-১৯ পরীক্ষা কার্যক্রম পাশাপাশি থাকলে তা কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জাতীয় পরামর্শক কমিটির সভায় বলা হয়েছে, এখন সেরোসার্ভিল্যান্স নিয়ে কাজ করার সময় এসে গেছে। এ জন্য এন্টিবডি টেস্টও চালু করা প্রয়োজন। যে সব কারণে কোভিড-১৯ পরীক্ষা কমে গেছে সেগুলো দূর করে কোভিড-১৯ পরীক্ষার সংখ্যা আরও বাড়ানো দরকার এবং তা করা গেলে বিশ্বমহামারী নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সংক্রমণ পরিস্থিতির একটি পরিষ্কার চিত্র পাওয়া যাবে। কোভিড-১৯ পরীক্ষা বাড়ানোর জন্য জনগণের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। নমুনা সংগ্রহের বুথের তালিকা প্রকাশ্য স্থানে প্রদর্শন (ডিসপ্লে) করা প্রয়োজন। এ ছাড়া নমুনা সংগ্রহের ও পরীক্ষার মান বৃদ্ধির জন্য সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন। পরীক্ষা দ্রুত করার জন্য অটো এক্সট্রাকশনের (স্বয়ংক্রিয় সংগ্রহ) ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। সকল বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের ল্যাবরেটরি ব্যবস্থাপনা কমিটি/দলের সাথে জাতীয় পরামর্শক কমিটির ল্যাবরেটরী সাবকমিটির একটি যৌথ সভার প্রস্তাব করেছে।

জাতীয় পরামর্শক কমিটি মনে করে, হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের কারণে স্বাস্থ্যকর্মীদের পাশাপাশি তাদের পরিবার পরিজনও কোভিড-১৯ সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ছে। এ সভা মনে করে স্বাস্থ্যকর্মীদের হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের পর কোয়ারান্টিনের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য কর্মীদের জন্য নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা আবশ্যক। স্বাস্থ্য কর্মীদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের অনুদান প্রাপ্তি নিশ্চিত করার জন্য সঠিক তালিকা প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ের কাছে দাখিল করা প্রয়োজন। তালিকাটি জাতীয় কারিগরি পরামশর্ক কমিটির সভাপতির নেতৃত্বে একটি সাবকমিটি গঠন করে এবং ডাক্তার, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীদের সংশ্লিষ্ট দফতরকে সম্পৃক্ত করে প্রস্তুত করার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। যে সকল মেডিকেল টেকনোলজিস্ট কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষায় কাজ করেছে সরকার ইতোমধ্যে প্রমার্জনার মাধ্যমে তাদের নিয়োগ প্রদান করেছে। এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবক মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অন্তর্ভুক্ত হননি। তাদের নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করার জন্য জাতীয় কারিগরি পরামশর্ক কমিটি সরকারের নিকট সুপারিশ করছে। কোভিড-১৯ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে জনসাধারণ এর মধ্যে এক ধরণের শৈথিল্য দেখা যাচ্ছে। জনসাধারণকে আরও সচেতন ও কোভিড-১৯ প্রতিরোধে সক্রিয় অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মাস্ক বিষয়ক ক্যাম্পেইন দ্রুত বাস্তবায়নের পরামর্শ দেয়া হয়। জনপ্রচারণার উদ্দেশ্যে তৈরী ভিডিওতে বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিত্বদেরকে উপস্থাপন প্রয়োজন বলে সভায় মত প্রকাশ করা হয়। দূর্গাপূজা হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব, যা আগামী অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। কোভিড-১৯ মহামারীর পরিস্থিতিতে সীমিত পরিসরে ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে দূর্গাপূজা উদযাপন করার জন্য সভায় পরামর্শ দেয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহযোগিতায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দূর্গাপূজার আচরণবিধি প্রস্তুত করে দেয়া প্রয়োজন বলে সভা মনে করে।


আরো সংবাদ

ফেনীতে বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার উপজাতি কিশোরী অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে নৌযান-শ্রমিকরা ফাইনালে খেলার স্বপ্ন জিইয়ে থাকলো মাহমুদউল্লাহ বাহিনীর প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ২০২০ সালের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি : পর্বসংখ্যা-৯৪ গণিত সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন নবম-দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া : বাংলা দ্বিতীয় পত্র বাংলা দ্বিতীয় পত্র প্রথম অধ্যায় : প্রথম পরিচ্ছেদ-ভাষা অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি : বিজ্ঞান ষষ্ঠ অধ্যায় : পরমাণুর গঠন প্রয়োজনীয় বই- প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ সহায়িকা অষ্টম শ্রেণীর প্রস্তুতি : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অধ্যায়-৫ : সামাজিকীকরণ ও উন্নয়ন রুবেলের বলে আগুন ঝরছেই

সকল