১৩ আগস্ট ২০২০

ঢাকা মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না কেউ

24tkt

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আগত রোগী এবং তাদের স্বজনরা মানছে না কোনো স্বাস্থ্যবিধি। ফলে অধিক হারে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি দিনের পর দিন বাড়ছে বলে মনে করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ঢামেকের করোনা ইউনিটেও চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ‘হযবরল’ উল্লেখ করে বিভিন্ন অভিযোগ করছেন রোগী ও তার আত্নীয়-স্বজনরা।

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর রনি মার্কেট এলাকা থেকে করোনা ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে ঢামেক হাসপাতালে আসেন কামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি। তিনি ১০টাকা দিয়ে একটি টিকেট কিনেন। পরে ডাক্তারে পরামর্শ নিতে লম্বা একটি লাইনে দাঁড়ান। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর ডাক্তারের সাক্ষাত পান। তার রোগের বিস্তারিত বিররণ শুনে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ২/৩ দিন পর এসে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক।

তার অভিযোগ- ঢামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটের চিকিৎসা ব্যবস্থার হযবরল অবস্থা। ডাক্তার, নার্সরা রোগীকে চিকিৎসা বা সেবা দিতে অনীহাবোধ করেন। হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ সঠিক নিয়মের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী না রাখায় রোগী ও তাদের স্বজনরা যেনতেন ভাবে চলা ফেরা করছে হাসপাতালে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এলে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে সুস্থ্য মানুষের শরীরে। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে বলা হয়েছে নিজের নিরাপত্তার জন্য। এ নিয়ম মানলেই মোটামুটি করোনা সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত হবেন আপনি ও আপনার পরিবার। অথচ ঢামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটগুলোতে দেখা যায় আগত রোগী ও তাদের স্বজনসহ অন্যান্য লোকজন হাসপাতালে কোনো স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই সরাসরি করোনা ইউনিটগুলোতে শুধুমাত্র একটি মাস্ক পরেই প্রবেশ করছেন। এতে তাদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমনকি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এসব লোকজনদের করোনা ইউনিটগুলোতে প্রবেশে কোনো বাধা ও দিক-নির্দেশনাও দিচ্ছে না। দেখা গেছে আবার অনেকেই মাস্ক না পরেই হাসপাতালে ঘুরছে।

ঢামেকের করোনা ইউনিটগুলোর সামনে গিয়ে দেখা যায়, করোনা ইউনিটে ভর্তি থাকা রোগীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অনেকেই ভেতরে প্রবেশ করছে শুধু একটি মাস্ক পরে। আবার তারা বেরিয়ে যাচ্ছেন। ইউনিটগুলোর সামনে নিরাপত্তায় নিয়োজিত নেই কোনো কর্মচারী বা আনসার সদস্যরাও।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, করোনা ইউনিটে আগত রোগী ও স্বজনরা শুধু একটি মাস্ক পরে করোনা ইউনিটে প্রবেশ করছেন। হাসপাতালের প্রবেশ মুখে তাদের কোনো বাধা দেয়া হচ্ছে না। হাসপাতালের প্রবেশ মুখে নেই কোনো স্বাস্থ্য সুরক্ষাসামগ্রী নেই। এসব লোকজন করোনা ইউনিট থেকে বের হয়ে কেউ বাসায় ফিরে যাচ্ছেন আবার কেউ কেউ অফিসে যাচ্ছে। তাদের কারণে হয়তো করোনা সংক্রমণ অধিক হারে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে অনেক চিকিৎসকই ধারণা করেছেন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়া করোনা আক্রান্ত রোগীর সামনে না যাওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। ঢামেকের করোনা ইউনিটের মূল প্রবেশ মুখে হাত জীবাণুমুক্ত করার জন্য কয়েকটি বেসিন বসানো হয়েছে। সেখানে নেই সাবান, স্যাভলোনসহ অন্য কোনো জিনিসপত্র। আছে শুধু আছে ময়লা-আর্বজনা। সেই জন্য করোনা ইউনিটে আগত রোগীর আত্নীয়-স্বজনরা সেসব বেসিনে হাত জীবাণুমুক্ত করা তো দূরের কথা সেদিকে ফিরেও দেখছে না।

করোনা ইউনিটের সামনে হাত জীবাণুমুক্ত করার জন্য কয়েকটি বেসিন বসিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেখানে গিয়ে দেখা যায়- কোনো বেসিনেই পানি নেই। একটি বেসিন ভাঙা। আবার নতুন ভবনের নিচতলার সামনে দু’টি বেসিন লাগানো হয়েছে। সেখানেও বেসিনে পানি থাকলেও হাত ধোয়ার জন্য সাবান বা স্যাভলোন নেই। তালিজোড়া দিয়ে চলছে করোনা ইউনিটগুলো।

এ ব্যাপারে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক বিষয়। হাসপাতলের করোনা ইউনিটে সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়া মানুষ প্রবেশ করছে, এটা তো মেনে নেওয়া যায় না। তা হলে তো করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ ব্যাপারটা সংশ্লিষ্টদেরকে বলে দিচ্ছি।

হাত জীবাণুমুক্ত করার জন্য বেসিনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বেসিনগুলো যেখানে লাগিয়েছি সেটা ঠিক হয়নি। আমরা আবার নতুন করে বেসিনগুলো লাগিয়ে দিচ্ছি। সেখানে হাত জীবাণুমুক্ত করার জন্য সাবানও দেওয়া হবে। পিপিই পরাসহ সবাই যেন হাত জীবাণুমুক্ত করে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে প্রবেশ করতে পারে এজন্য সেখানে আনসার সদস্যদের ডিউটি দেওয়া হবে।

এর কিছুক্ষণ পরেই হাসপাতালের সেন্ট্রাল মাইকে পরিচালক নির্দেশনা দিচ্ছিলেন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সুরক্ষাসামগ্রী পরে হাসপাতালে প্রবেশ করুন। আপনাদের অবহেলার জন্য অন্য কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হোক, এটা কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আনসার সদস্যরা আপনারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করুন। স্বাস্থ্যসুরক্ষা ছাড়া কাউকেই হাসপাতালে প্রবেশ করতে দেবেন না। এ ব্যাপারে কারো যদি অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে ’ বলে সতর্ক করা হয়।


আরো সংবাদ

অর্থবছরের প্রথম মাসে রাজস্ব আদায়ে ধস চার পুলিশ ও তিন সাক্ষীর সাত দিনের রিমান্ড আদেশ ব্যাঙ্গালুরুতে মহানবী সা:কে অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ পুলিশের গুলিতে নিহত ৩ সাত মেগা প্রকল্পে ২৭ হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে জাপান সাড়ে চার মাস পর হাইকোর্টে নিয়মিত বিচার কার্যক্রম শুরু দেশে মৃতের সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার ছাড়াল রাশিয়ার ভ্যাকসিনের কার্যকারিতায় সংশয় কাতার থেকে ফিরেছেন ৪১৩ বাংলাদেশী বৈরুত বিস্ফোরণের পর রাসায়নিক পণ্য নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বুলেটিন বন্ধ হলে স্বাস্থ্যবিধি মানতে অনীহা দেখা দিতে পারে : কাদের করোনা ভ্যাকসিন কেনার সিদ্ধান্ত আগামী সপ্তাহে

সকল