১৪ জুলাই ২০২০

মানবদেহে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের প্রয়োগ শিগগিরই

মানবদেহে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের প্রয়োগ শিগগিরই - ছবি : সংগৃহীত

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে এখন পর্যন্ত যে ভ্যাকসিন আবিস্কারের চেষ্টা চলছে তার মধ্যে সবচেয়ে উন্নত মনে করা হয় অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনকে। এখন পর্যন্ত দুটি পরীক্ষায় এটি সফল হয়েছে। তবে বাজারে আসতে হলে তৃতীয় আরেকটি পরীক্ষায় উত্তির্ণ হতে হবে, আর সেটি হতে পারে চলতি বছরের শেষ দিকে।

অবশ্য তৃতীয় পরীক্ষার আগেই চ্যাডক্স-১ এনকোভ -১৯ ভ্যাকসিনটি দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিলে মানব দেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হচ্ছে। এ দুই দেশে করোনা সংক্রমণ এখন দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকায় সেখানে ভ্যাকসিনটির পরীক্ষা চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

চলতি সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকায় অন্তত দুই হাজার, ব্রাজিলের সাওপাওলোতে দুই হাজার স্বাস্থ্য কর্মী স্বেচ্ছাসেবী এবং রিওডিজেনিরোতে এক হাজার মানুষের শরীরে ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছে অক্সফোর্ড কর্তৃপক্ষ।

লেম্যান ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে অক্সফোর্ড কর্তৃপক্ষ ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় ভ্যাকসিনটি পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করছে। এক বিবৃতিতে লেম্যান ফাউন্ডেশন বলছে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে ব্রাজিলে করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য একটি ভ্যাকসিন মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করবে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ওষুধপ্রস্তুতকারক কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকার সহায়তায় অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরিকৃত করোনার সম্ভাব্য ভ্যাকসিন চ্যাডক্স-১ এনকোভ-১৯ দেশের মানুষের শরীরে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অনুমোদন দেয় ব্রাজিলের স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ আনভিসা।

ব্রাজিলে সংক্রমণ এখনও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। একই চিত্র আফ্রিকা মহাদেশের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকাতেও। এ দুই দেশকে বেছে নেয়ার কারণ হিসেবে অক্সফোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশ দুটিতে করোনার ব্যাপক বিস্তার ঘটছে। এছাড়া অন্যান্য দেশে সংক্রমণ কমে আসায় পরীক্ষা চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

ব্রাজিল এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় অক্সফোর্ডের এই ভ্যাকসিনের পরীক্ষা চালানোর আগে ব্রিটেনেও পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছিল। চলতি বছরের শেষের দিকে এই ভ্যাকসিনটি মানবদেহে প্রয়োগের চূড়ান্ত ছাড়পত্র পেতে পারে বলে প্রত্যাশা করছেন গবেষকরা।

এর আগে, মঙ্গলবার অক্সফোর্ডের সহযোগী ভ্যাকসিনটির প্রস্তুতকারক কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা জানায়, করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য ভ্যাকসিনটি শূকরের দেহে পরীক্ষায় আশাব্যঞ্জক সাফল্য দেখিয়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরিকৃত কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনটি শূকরের দেহে এক ডোজের পরিবর্তে দুই ডোজ প্রয়োগ করায় তাতে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে। বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাসের অন্তত এক ডজন ভ্যাকসিন মানবদেহে পরীক্ষার পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া আরও শতাধিক ভ্যাকসিন তৈরির বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে।

তবে করোনাভাইরাসের কোনো ভ্যাকসিনই এখন পর্যন্ত ব্যাপক পরিসরে পরীক্ষা উতড়ে যেতে পারেনি। কোনো ভ্যাকসিনের নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেতে হলে শেষ অর্থাৎ তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সফল হতে হবে।

সূত্র: রয়টার্স ও বিবিসি


আরো সংবাদ