০৭ আগস্ট ২০২০
৩০ মেয়র-কাউন্সিলর-কর্মচারী আক্রান্ত

দেশের পৌরসভাগুলোতে করোনা আতঙ্ক

দেশের পৌরসভাগুলোতে করোনা আতঙ্ক - ছবি : সংগৃহীত
24tkt

সারাদেশে পৌরসভার ৬ জন মেয়র, ৭ জন কাউন্সিলর এবং ১৭ জন কর্মচারীসহ মোট ৩০ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. আবদুল আহাদ মৃত্যুবরণ করেছেন। এ ঘটনায় পৌরসভাগুলোতে আতংক বিরাজ করছে।

জানা যায়, করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই মেয়র, কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এসব কাজ করতে গিয়ে অনেকে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। করোনায় আক্রান্ত মেয়ররা হলেন, গফরগাঁও পৌরসভার মেয়র এসএম ইকবাল হোসেন সুমন, পটুয়াখলী পৌরসভার মেয়র মহিউদ্দিন আহাম্মেদ, দাউদকান্দি পৌরসভার মেয়র নাইম ইউছুফ, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, চন্দনাইশ পৌরসভার মেয়র মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম ও চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার মেয়র মোঃ মিজানুর রহমান। কাউন্সিলরদের মধ্যে রয়েছেন, দাউদকান্দি পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফারুক প্রধান, ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সালাউদ্দিন, কক্সবাজার পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোঃ সালাউদ্দিন, ০২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মিজানুর রহমান, রাজৈর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বাদল মাতুব্বর, দাগনভূঞা পৌরসভার ০৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউল হক এবং চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মফিজুর রহমান।

পৌর কর্মচারীদের মধ্যে আক্রান্তরা হলেন, জয়নাল আবেদীন ফকির নৈশপ্রহরী সেনবাগ পৌরসভা, মিন্টু মিয়া চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী দাউদকান্দি পৌরসভা, এমএম রাজু চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আড়াই হাজার পৌরসভা, সাহাবুদ্দিন, এমএলএসএস চকোরিয়া পৌরসভা, ওমর শরীফ সড়কবাতি পরিদর্শক ভাংগা পৌরসভা, মো. মিজানুর রহমান টিকাদানকারী ভাংগা পৌরসভা, মুহাম্মদ আবদুর রব প্রধান সহকারী, মো. আল আমীন পাম্পচালক, সুব্রত চন্দ্র পাল টিকাদানকারী মীরকাদিম পৌরসভা, মো. নাসিরুল হাসান নাননু, কার্যসহকারী, কালিয়াকৈর পৌরসভা, মো. মহিউদ্দিন মহিন, সহকারী কর নির্ধারক, কক্সবাজার পৌরসভা ও সাবেরা সুলতানা, বিলক্লার্ক (পানিশাখা), চৌমুহনী পৌরসভা। কর্মচারীদের মধ্যে পাঁচ জন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন। তারা হলেন নিপা খাতুন টিকাদানকারী, মো. আতিকুল ইসলাম, সহকারী কর আদায়কারী, ফরিদা খাতুন, টিকাদানকারী সিরাজগঞ্জ পৌরসভা, মোঃ শামসুল আলম, লাইসেন্স পরিদর্শক মীর কাদীম পৌরসভা, লিমা আহাম্মেদ, পরিচ্ছন্নকর্মী, ধামরাই পৌরসভা। এরা ঢাকায়, স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং বাড়ীতে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন।

বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস এসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম তুষার বলেন, করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় পৌরসভাগুলোতে আতংক বিরাজ করছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে সকল প্রকার সেবামূলক কাজসহ উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নে ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে পারে। করোনা মোকাবেলায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলসভাবে সরকারের নির্দেশনা পালন করে আসলেও রাজস্ব আদায়সহ নানাবিধ সংকটে বেশীরভাগ পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী বেতন-ভাতা পাচ্ছেনা ০২ থেকে ৬৫ মাস পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রী করোনা সংকটে সম্প্রতি বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।

এদিকে এক বিবৃতিতে মিউনিসিপ্যাল এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-ম্যাব এর প্রেসিডেন্ট ও নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহাম্মেদ এবং ম্যাব এর সেক্রেটারী জেনারেল ও শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল করোনা মোকাবেলাসহ সকল প্রকার নাগরিক সেবা সচল রাখার স্বার্থে দীর্ঘদিনের অভুক্ত পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে আসন্ন বাজেটে ৬শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ বৃদ্ধিসহ করোনায় আক্রান্ত পৌরসভার জন প্রতিনিধি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরকার ঘোষিত আর্থিক প্রনোদনা প্রদানের দাবী জানিয়েছেন।


আরো সংবাদ