১৫ জুলাই ২০২০

ঈদগাহে নয়, মসজিদেই ঈদের নামাজ

বায়তুল মোকাররমে ৫টি জামাত
বায়তুল মোকাররমে পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। - ফাইল ছবি

দেশের ঈদগাহগুলোতে এ বছর ঈদুল ফিতরের জামাত হবে না। তবে মসজিদে জামাতের অনুমতি রয়েছে। এ কারণে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান ও কিশোরগঞ্জ শোলাকিয়ায় বৃহত্তম জামাত আয়োজনেরও কোনো তোড়জোড় নেই।

বায়তুল মোকাররম মসজিদেই সকাল ৭টা থেকে পৌণে এগারটা পর্যন্ত পরপর পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়াও আরো বেশ কিছু মসজিদে একাধিক জামাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মুসল্লির উপস্থিতি থাকলে প্রয়োজনে বাড়তি জামাতেরও ব্যবস্থা থাকবে জাতীয় মসজিদে।

শনিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে চাঁদ দেখা না যাওয়ায় আজ রোববারও ৩০ রমজান চলছে। আগামীকাল সোমবার থেকে শাওয়াল মাস শুরু এবং কালই ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।

কারোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যে প্রায় গৃহবন্দী মানুষ। গত ২৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশে টানা সাধারণ ছুটি চলছে। এরই মধ্যে রমজান শেষে এসেছে ঈদ। মধ্যপ্রাচ্যসহ অনেক দেশে আজ ঈদ পালিত হচ্ছে।

বায়তুল মোকাররমে পাঁচটি জামাত :
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হবে বলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। কাল সোমবার সকাল ৭টা থেকে পৌণে ১১টার মধ্যে অনুষ্ঠেয় এসব জামাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুসল্লিরা অংশ নিতে পারবেন।

সকাল ৭টায় প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইসলাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান। দ্বিতীয় জামাত হবে সকাল ৮টায়। এতে ইমাম থাকবেন পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী।

সকাল ৯টায় তৃতীয় জামাতে পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা এহসানুল হক ইমামতি করবেন। সকাল ১০টায় চতুর্থ জামাতে ইমামতি করবেন পেশ ইমাম মাওলানা মহিউদ্দিন কাসেম। সর্বশেষ জামাতটি অনুষ্ঠিত হবে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে। এতে ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের (ইফা) মুহাদ্দিস হাফেজ মাওলানা ওয়ালিয়ুর রহমান।

পাঁচটি জামাতের কোনোটিতে ইমাম অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মুফতী মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

ঈদ জামাতে ১৩ দফা নির্দেশনা :
এর আগে গত ১৪ মে ধর্ম মন্ত্রণালয় এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আসন্ন ঈদুল ফিতরের নামাজ খোলা জায়গা বা ঈদগাহে পড়া যাবে না। তবে নিকটস্থ মসজিদে পড়া যাবে। নামাজের সময় করোনার সকল স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণের জন্য ১৩ দফা নির্দেশনা দেয়া হয়।

নির্দেশানগুলো হলো- এবছর ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে ঈদের নামাজের জামায়াত নিকটস্থ মসজিদে আদায় করার জন্য অনুরোধ করা হলো। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে।

ঈদের নামাজের জামায়াতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের পূর্বে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবানুনাশক দ্বারা পরিস্কার করতে হবে। মুসল্লীগণ প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদে ওযুর স্থানে সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে; মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে।

প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে অজু করে মসজিদে আসতে হবে এবং অজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। ঈদের নামাজের জামায়াতে আগত মুসল¬ীকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে। এক কাতার অন্ত অন্ত কাতার করতে হবে। শিশু, বয়োঃবৃদ্ধ, যে কোন অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামায়াতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।

সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিতকল্পে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদে জামায়াত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করতে হবে।

করোনাভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করার জন্য খতিব ও ইমামগণকে অনুরোধ করা হয়।

দেখুন:

আরো সংবাদ

সকল