২৯ মে ২০২০

করোনাকালে বিদেশ ফেরতদের ৮৭ ভাগেরই আয়ের উৎস নেই

করোনাকালে বিদেশ ফেরতদের ৮৭ ভাগেরই আয়ের উৎস নেই - সংগৃহীত

কোভিড-১৯ বৈশ্বিক মহামারির সময়ে দেশে ফেরত আসা অভিবাসী কর্মীদের ৮৭ ভাগেরই এখন কোনো আয়ের উৎস নেই। নিজের সঞ্চয় দিয়ে তিন মাস বা তার বেশি সময় চলতে পারবেন এমন সংখ্যা ৩৩ শতাংশ। ৫২ শতাংশ বলছেন, তাদের জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির ‘বিদেশফেরত অভিবাসী কর্মীদের জীবন ও জীবিকার ওপর কোভিড-১৯ মহামারীর প্রভাব’ শীর্ষক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

শুক্রবার অনলাইনে সংবাদ সম্মেলনে ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির পক্ষে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। জরিপে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী করোনা সংক্রমন শুরুর পর ফেরত এসেছেন এমন ৫৫৮ জন প্রবাসী কর্মীর সাথে কথা বলে জরিপটি পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে ৮৬ শতাংশই ফিরেছেন মার্চে। জরিপর অংশগ্রণকারীদের ৪৫ শতাংশ এসেছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন ওমান এবং কুয়েত থেকে। বাকিরা মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ইতালি, মালদ্বীপসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ফিরেছেন।

ব্র্যাকের ২০ জন কর্মী ঢাকা, টাঙ্গাইল, মুন্সিগঞ্জ, শরীয়তপুর, নরসিংদী, সিলেট, সুনামগঞ্জ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, খুলনা এবং যশোরে রয়েছেন এমন প্রবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জরিপটি পরিচালনা করা হয়।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৪০ শতাংশ বলেছেন, করোনার কারণে তারা দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। ৩৫ শতাংশ বলছেন, তারা ছুটিতে এসেছিলেন। ১৮ শতাংশ বলেছেন, তারা পারিবারিক কারণে চলে এসেছেন। ৭ শতাংশ বলেছেন, তাদের ফেরার সাথে করোনার কোন সম্পর্ক নেই।

কোয়ারিন্টেনের বিষয়ে জানতে চাইলে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮৪ শতাংশ বলেছেন, তারা ১৪ দিনের কোয়ারিন্টেনে ছিলেন। ১৪ শতাংশ বলেছন, তারা কোয়ারেন্টিন ঠিকমতো মানতে পারেননি। দুই শতাংশ বলেছেন, তারা এক সপ্তাহ কোয়ারেন্টিনে ছিলেন।

ফেরত আসার পর বর্তমান অবস্থা জানতে চাইলে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৭৪ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা এখন প্রচণ্ড দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও ভীতির মধ্যে রয়েছেন।
ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির ১২ জন কাউন্সিলর অবশ্য তাদের সবাইকে মনোসামাজিক সেবা দিয়েছেন।
২৯ শতাংশ অভিবাসী বলেছেন তাদের প্রতিবেশী এবং আত্মীয়-স্বজনেরা তাদের ফিরে আসাকে স্বাভাবিকভাবে নেয়নি এবং তাদের প্রতি সহযোগিতামূলক মনোভাব প্রদর্শন করেনি। তবে ৯৭ শতাংশ বলেছেন, এক্ষেত্রে পরিবার সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

জরিপে অংশ নেয়া অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ জানান, তাদের নিজেদের সঞ্চয় বলতে এখন আর কিছু নেই। ১৯ শতাংশ জানান, তাদের যে সঞ্চয় আছে তা দিয়ে আরো এক-দুই মাস চলতে পারবেন। নিজেদের সঞ্চয় দিয়ে তিন মাস বা তার বেশি সময় চলতে পারবেন এমন সংখ্যা ৩৩ শতাংশ। ১০ শতাংশ জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে ইতোমধ্যেই আনুষ্ঠানিক এবং অনানুষ্ঠানিক উৎস থেকে তারা ঋণ গ্রহণ করেছেন। ১৪ শতাংশ প্রবাসী তাদের সঞ্চয়ের ব্যাপারে কোনো প্রকার তথ্য দিতে রাজি হননি।

মোবাইল ফোনে সাক্ষাতকার গ্রহণের মাধ্যমে পরিচালিত এই জরিপে দেখা যায়, ফেরত আসা অভিবাসীদের শতকরা ৮৪ ভাগ এখনো জীবিকা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা করতে পারেননি। ৬ শতাংশ জানিয়েছে, তারা পুনরায় বিদেশ যাওয়ার কথা ভাবছেন। বাকীরা কৃষিভিত্তিক ছোটো ব্যবসা, মুদি দোকান বা অন্য কিছু করার পরিকল্পনা করছেন।
বিদেশফেরত এই অভিবাসীরা কোনো ধরনের সহায়তা পেয়ছেন কী না জানতে চাইলে ৯১ শতাংশ বলেছেন তারা এখনো সরকারি বা বেসরকারি কোনো জায়গা থেকে কোনো সাহায্য সহযোগিতা পাননি। বাকি ৯ শতাংশ সরকারি বা বেসরকারি কোনো না কোনো জায়গা থেকে সামান্য হলেও সহযোগিতা পেয়েছেন।

ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান বলেন, ‘বিদেশফেরত প্রবাসীদের বর্তমান অবস্থা, তাদের সঙ্কট এবং করোনা তাদের জীবন ও জীবিকার ওপর কী কী প্রভাব ফেলেছে সেটা জানতেই এই জরিপ। ফেরত আসা ৮৭ শতাংশেরই এখন কোনো আয়ের উৎস নেই। ৫২ শতাংশ বলছেন, তারা জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা চান। আমরা দেখছি অনেকে ফেরত আসছে। সামনের দিনগুলোতে অনেক মানুষ চাকরি হারিয়ে ফিরে আসতে পারেন। সরকার তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এই প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর কাজটি শুধু সরকারের একার নয়। সরকারি-বেসরকারি সংস্থা সবাই মিলে কাজটি করতে হবে। কারণ এই প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতি সবসময় সচল রেখেছেন। এমনকি করোনার সময়ও তারা বিদেশ থেকে টাকা পাঠাচ্ছেন’।

শরিফুল হাসান জানান, ঈদকে সামনে রেখে শুধু মে মাসের ১৯ দিনে ১০৯ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকা। আর জানুয়ারি থেকে ধরলে মোট তারা পাঠিয়েছেন ৫৫ হাজার কোটি টাকা। কজেই এই সঙ্কটময় সময়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। বিশেষ করে যারা বিদেশে আছেন এবং যারা ফিরে আসছেন।

সমস্যা সমাধানে পাঁচটি পরামর্শ দিয়েছে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি। এগুলো হলো, ফিরে আসা প্রবাসী ও তাদের পরিবারের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ না করে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি নিরূপণ করে মনোসামাজিক সহায়তাসহ টেকসই পুনরেকত্রীকরণ কর্মসূচি গ্রহন করা, দক্ষতা বৃদ্ধি ও আয়বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে সহজ শর্তে বিভিন্ন ধরনের ঋণ সুবিধা, গন্তব্য দেশের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জোরপূর্বক দেশে ফেরত পাঠানো বন্ধ করা এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তারা যেন কাজে ফিরতে পারেন সেই উদ্যোগ নেয়া।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অভিবাসীদের নানা ধরনের সেবা দিতে ২০০৬ সাল থেকে কাজ করে যাচ্ছে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচি। বিদেশ ফেরতদের পুনরেকত্রীকরণের জন্যও ব্র্যাকের একাধিক উদ্যোগ রয়েছে। করোনার সময় ফেরত আসা এক হাজার ২৩৩ জন প্রবাসী এবং ৬৮টি পরিবারকে কাউন্সিলিং সেবা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৭ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত অভিবাসী ও তার পরিবারকে নগদ অর্থ সহায়তা, কমপক্ষে ৫ হাজার অভিবাসীকে অর্থনৈতিকভাবে পুণরেকত্রীকরণের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদানের কার্যক্রমসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচি।


আরো সংবাদ

ঝালকাঠিতে নারীকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা, বসতঘর ভাংচুর দুই সন্তানের পিতা প্রেমিকের লাশ উদ্ধার, আটক বিবাহিতা প্রেমিকা দেশের কয়েক’টি অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে পুলিশের টিকটক ভিডিও দেখে ছেলে খুঁজে পেল তার নিখোঁজ বাবাকে চীনের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনায় মন-মেজাজ ভালো নেই মোদির : ট্রাম্প পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন দায়িত্বে সাকলায়েন কর্মস্থলে ফিরছে মানুষ, সড়ক-মহাসড়কে গাড়ির চাপ দেশে এক দিনে আক্রান্তের সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়ালো, মৃত ২৩ দেবিদ্বারে করোনায় মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন করছে ‘ওরা ৪১ জন’ আমফানে ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সমবেদনা জানালেন প্রিন্স চার্লস ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার হিড়িক চলছে : রিজভী

সকল

পাকিস্তান, নেপাল সীমান্তেও অতিরিক্ত সৈন্য পাঠাচ্ছে ভারত (৯৭২৯)ভারতে গেলেই গ্রেফতার! নোবেলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ত্রিপুরায় (৯০৩৮)হামলা হতে পারে চীনে, সেনাবাহিনীকে ব্যাপক যুদ্ধপ্রস্তুতির নির্দেশ (৭১২৪)আমার বন্দী কবুতরটি ছেড়ে দিন, মোদী কাছে এক পাকিস্তানির আবেদন (৫৮৬৯)এবার লিবিয়ায় যুদ্ধবিমান ‘পাঠালো’ রাশিয়া (৫৭৮৪)রাতে নৌকার ছাদে জানাজা পড়ে লাশ ফেলা হতো সাগরে : খোদেজা বেগমের দুঃসাহসিক সমুদ্রযাত্রা (৫৬১৪)ভারতীয় ড্রোন ভূপাতিত করল পাকিস্তান (৫৫৮২)এশিয়ায় ভারতকে পেছনে ফেলে শীর্ষে তুরস্ক (৫০৪২)‘আপনার স্ত্রী দেশদ্রোহী, অনুষ্কাকে তালাক দিন' (৪৯৪২)দেশে এক দিনে করোনায় আক্রান্ত ২০০০ ছাড়ালো, মৃত্যু ১৫ (৪৫৫৫)