৩১ মে ২০২০

টাকা ফেরতের নিশ্চয়তায়ও হজের নিবন্ধনে সাড়া কম

করোনাভাইরাসের কারণে হজ যাওয়া সম্ভব না হলে টাকা ফেরতের নিশ্চয়তা দেয়ার পরও চলতি বছরের হজের জন্য নিবন্ধনে সাড়া কম। গতকাল পর্যন্ত কোটার মাত্র ৩০ শতাংশ হজযাত্রী নিবন্ধন করেছেন। গতকাল আবারো নিবন্ধনের সময় দুই সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হয়েছে। ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ গতকাল বুধবার সাংবাদিকদের বলেছেন, হজ না হলেও হজযাত্রীদের হজের টাকা ফেরত দেয়া হবে। তবে এ জন্য তিনি হজযাত্রীদের নিবন্ধনের জন্য বিমান ভাড়া ও সার্ভিস চার্জের ১ লাখ ৫১ হাজার ৯৯০ টাকার বেশি না দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ বছরের হজ নিয়ে অনিশ্চয়তার খবরের পরিপ্রেক্ষিতে এর আগে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী এক সংবাদ সম্মেলন হজে যাওয়া সম্ভব না হলে টাকা ফেরত দেয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে হজযাত্রীদের নিবন্ধন করে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

এদিকে গতকাল ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতেও বলা হয়েছে, বিদ্যমান করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে হজযাত্রী প্রেরণ সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সিকে জমাকৃত অর্থ হজযাত্রী বরাবর ফেরত দিতে হবে। ব্যাংকসমূহ, হজযাত্রী ও এজেন্সি সমূহকে হজযাত্রীদের কাছ থেকে বিমান ভাড়া ও সার্ভিস চার্জের বেশি টাকা না দেয়া এবং হজযাত্রীদেরও এর বেশি না দেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এজেন্সিগুলোকে হজের কাজ ব্যতীত অন্য কোনো খাতে হজের টাকা ব্যয় না করা এবং সৌদি আরবে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া বা অন্য কোনো খাতে অর্থ ব্যয় না করতে বলা হয়েছে।

অপর বিজ্ঞপ্তিতে হজের নিবন্ধনের সময় আরো দুই সপ্তাহ বৃদ্ধি করে আগামী ৮ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রাকনিবন্ধনের সিরিয়ালও প্রায় ৫৪ হাজার বৃদ্ধি করে ৬ লাখ ৭২ হাজার ১৯৯ করা হয়েছে। এই সিরিয়ালের মধ্য থেকে যে কেউ নিবন্ধন করতে পারবেন।
তবে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ বিষয়ক ওয়েবসাইটে দেয়া সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের এক চিঠি থেকে জানা যায়, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উত্তরণ না হওয়া পর্যন্ত হজ সম্পর্কিত পরবর্তী কার্যক্রম অপেক্ষমাণ রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। এ বছরের হজ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হতে পারে- এমন প্রতিবেদন নয়া দিগন্তসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

গতকাল ছিল হজযাত্রীদের নিবন্ধনের শেষ তারিখ। গত ২ মার্চ থেকে হজের নিবন্ধন শুরু হয়। প্রথম দফায় ১৫ মার্চ ছিল শেষ সময়। পরে তা বৃদ্ধি করে ২৫ মার্চ পর্যন্ত করা হয়। গতকাল আবারো ধর্ম মন্ত্রণালয় সময় বাড়িয়েছে। গতকাল এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৯৮ জন হজযাত্রীর কোটার মধ্যে নিবন্ধিত হজযাত্রীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৪১ হাজার ৮১০ দিন যা মোট কোটার সাড়ে ৩০ শতাংশের মতো। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার ১৭ হাজার ১৯৮ জনের মধ্যে নিবন্ধন করেছেন ৩ হাজার ৩৫৯ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ১ লাখ ২০ হাজারের মধ্যে মাত্র ৩৮ হাজার ৪৫১ জন।

হজ এজেন্সি মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হজের প্রাকনিবন্ধিত হজযাত্রীরা হজে যাওয়ার নিয়ত করেই তা করেছেন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে হজ হওয়া না হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে অনেকে নিবন্ধন করতে চাইছেন না। আবার একটা বড় অংশ করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও এই বছরে হজই করতে চাইছেন না। এই পরিস্থিতিতে এজেন্সিগুলো বারবার অনুরোধ করার পরও অনেকে নিবন্ধনের টাকা দিচ্ছেন না। অনেকে শেষ সময় পর্যন্ত অপেক্ষ করতে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এজেন্সি মালিক গতকাল নয়া দিগন্তকে বলেন, সারাদেশ যখন লকডাউনের মতো অবস্থা, সাধারণ ছুটি চলছে সেখানে হজের নিবন্ধনের জন্য আমরা হজযাত্রীদের সঙ্গে পীড়াপীড়ি করছি। নিজের কাছেও খারাপ লাগছে। কিন্তু আবার এটাও ভয় করছি সরকার যদি হজযাত্রীদের সিরিয়াল থেকে বাদ দিয়ে দেয় তাহলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও নিবন্ধনের সুযোগ নাও দেয়া হতে পারে।

আরেক এজেন্সি মালিক বলেন, আমাদের অফিস বন্ধ, কর্মকর্তা কর্মচারীদের ছুটি দেয়া হয়েছে। এই অবস্থায় সময় বৃদ্ধি করলে আর না করলেই কী। তিনি বলেন, সরকারের উচিত ছিল আপাতত নিবন্ধন স্থগিত রাখা। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে স্বল্প সময়ের নোটিশে নিবন্ধন করা। যেহেতু প্রাকনিবন্ধনের সিরিয়াল করাই আছে সেখানে আগে পরে গিয়ে হুমকি গিয়ে আগের মতো নিবন্ধন করার মতো কোনো পরিস্থিতির কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, সৌদি আরব যখন হজযাত্রীদের নামের তালিকা ও ডাটা চাইবে তার আগে যেকোনো সময় সরকার নিবন্ধন করিয়ে নিতে পারে।

জানতে চাইলে হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে হজের নিবন্ধন স্থগিত রাখার কোনো অনুরোধ করিনি। আমরাও চাই কার্যক্রম চলমান থাকুক। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে যারা নিবন্ধিত হচ্ছেন তারা যেন যেতে পারেন।

তিনি বলেন, সৌদি হজ মন্ত্রণালয় থেকে যে চিঠি দেয়া হয়েছে সেটাও আমরা দেখেছি। আমরা চাই হজযাত্রীদের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়। কোনো এজেন্সি যাতে হজের টাকা অন্য কোনো খাতে ব্যয় না করে। সৌদি আরবে বাড়ি ভাড়া ইত্যাদি যেন না করে।

সৌদি আরবের চিঠিতেও যাতে হজের প্রস্তুতিমূলক বাড়িভাড়াসহ এ ধরনের কাজগুলো না করা হয় তার ব্যাপারে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, যেহেতু এখনকার যে নিবন্ধন কার্যক্রম সেটি আমাদের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন সুতরাং এতে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা নেই এবং টাকাও ব্যাংক একাউন্ট থেকে তুলে অন্য খাতে ব্যয়ের সুযোগ নেই।


আরো সংবাদ