০৪ এপ্রিল ২০২০

প্রবাসীদের প্রতি সেন্টার ফর এনআরবি’র চেয়ারপারসনের চিঠি

প্রবাসীদের প্রতি সেন্টার ফর এনআরবি’র চেয়ারপারসনের চিঠি - সংগৃহীত

করোনা পরিস্থিতিতে দুর্বিপাকে পড়া প্রায় সোয়া কোটি প্রবাসীর প্রতি সেন্টার ফর এনআরবি’র চেয়ারপারসন এম এস সেকিল চৌধুরী কিছু অনুরোধ, আহ্বান ও আবদার করে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন। যার সূচনাতে সবার প্রতি সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে অকল্পনীয় করোনা সঙ্কট ব্যাখ্যা করেন। বলেন, এটা নিশ্চিত যে আপনারা এক কঠিন সময় পার করছেন। গোটা জাতি, দেশ ও বিশ্ব আজ অভিন্ন অবস্থার মুখোমুখি।

বিদেশ বিভুঁইয়ে আপনারা চরম মানসিক কষ্টের মধ্যে রয়েছেন। কারো আপনজন দেশে, নিজে বিদেশে, এ এক অসহনীয় অবস্থা। বহু দেশে কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আপনারা অনেকে আর্থিক কষ্টে রয়েছেন, দৈনন্দিন জীবন-যাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় প্রবাসী ও দেশের অর্থনীতির জন্য করণীয় কী এ নিয়ে আমরা গত দু'দিন বিভিন্ন খাতের অভিজ্ঞ মানুষ ও প্রবাসীসহ শ’দুয়েক মানুষের সাথে এক টেলি-কনফারেন্সের আয়োজন করি যাতে অর্থনীতিবিদ, গবেষক, সংসদ সদস্য, সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধি, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, ব্যাংকার, চিকিৎসক ও সমাজসেবীরা যোগদান করেন। আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা দেশের প্রতি প্রবাসীদের অবদান স্মরণ করেন এবং বিপদের সময় তাদের পাশে থাকার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। আলোচনায় প্রবাসী ও দেশের অর্থনীতি বিষয়ে উঠে আসা প্রস্তাবগুলি আমরা সরকারের কাছে তুলে ধরার ব্যবস্থা নিয়েছি।

বিশ্ব পরিস্থিতি বিশেষ করে চীন, ইতালি, ইউরোপ, বৃটেন ও আমেরিকার অবস্থা ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে জীবন বাঁচানোর জন্য কতিপয় অবশ্য পালনীয় বিষয় আপনাদের নজরে আনতে চাই যা আপনি, আপনার পরিবার, প্রতিবেশী ও দেশের কল্যাণে সহায়ক হবে।

১.আপনারা যারা ইতিমধ্যে দেশে এসে গেছেন তারা স্থানীয় প্রশাসনকে আপনাদের অবস্থান সম্পর্কে জানান, অন্যথায় বিপদকালীন সময়ে সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবেন।
অবশ্যই ১৪ দিন পর্যন্ত অন্য সবার থেকে আলাদা থাকুন এবং রোগের লক্ষণ অনুভব করলে নির্ধারিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিজেকে পরীক্ষা করান। মনে রাখবেন দেশের সাধ্য ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং চিকিৎসা সরঞ্জামও সর্বত্র সহজলভ্য নয়। বিশ্বব্যাপী বহু উন্নত দেশও এ চিকিৎসা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।

২. যারা বিদেশে অবস্থান করছেন তারা সেখানেই নিরাপদে থাকুন, এই মুহুর্তে দেশে আসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই রোগের প্রতিরোধ ব্যবস্থা বাংলাদেশের মত দেশে খুবই কঠিন। তাছাড়া আপনাদের কেউ আক্রান্ত থাকলে আপনাদের পরিবারের সদস্যরাও আক্রান্ত হবেন এবং ক্রমে এ রোগ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে।

৩. প্রবাসে কর্মস্থলে নিরাপদে থাকার চেষ্টা করুন এবং একে অন্যকে সাধ্যমত সহযোগিতা করুন। আর্থিক ও দৈনন্দিন জীবন যাপনে পরষ্পর নিরাপদ বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করুন। অবস্থানকারী দেশের আইন ও ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যই মেনে চলুন।

৪. জরুরী প্রয়োজনে মিশনের সাথে নিরাপদ মাধ্যমে যোগাযোগ রাখুন। মনে রাখবেন বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মকর্তাসহ কেউই স্বাস্থ্য ঝুঁকির বাইরে নয়।
৫. বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মক্ষেত্রে সমস্যা হলে আবশ্যই মিশনের সাথে যোগাযোগ করুন এবং জরুরি প্রয়োজনে দেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করুন।

৬. প্রবাসী সাংবাদিক ভাইবোনদের কাছে বিশেষ অনুরোধ, সর্তকতার সাথে যাচাই-বাছাই করে সঠিক তথ্য পরিবেশন করে প্রবাসী ও দেশবাসীকে সহায়তা করুন। রোগ-প্রতিরোধে জনমত গঠন করুন। এই কঠিন পরিস্থিতিতে আপনাদের অবদান খুবই মূল্যবান। সরকার ও রাষ্ট্রের দোষ-গুণ বিচারের সময় এটি নয়। জীবন বাঁচানোর প্রয়োজনে সকলকে একসাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। সরকার বা প্রতিষ্ঠানের ঘাটতি ও দুর্বলতাগুলো সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নজরে আনুন। প্রবাস থেকে যারা বিভিন্ন মাধ্যমে খবর প্রচার করছেন তাদেরকে অনুরোধ করছি, খেয়াল রাখবেন যাতে জনমনে অহেতুক ভীতি সৃষ্টি না হয়।

৭. প্রবাসী বন্ধুরা, বর্তমান পরিস্থিতিতে এবং পরবর্তী সময়ে আপনাদের জন্য কি কি আর্থিক ও কর্মসহায়ক পরিকল্পনা নেয়া যায় তা নিয়ে আমরা আমাদের সীমিত কার্যক্ষমতা ও পরিধির মধ্যে থেকে সরকারের সাথে ও বিশেষজ্ঞদের সাথে যোগাযোগ রাখছি যাতে কার্যকর একটি পন্থা বের করা যায়। এ ব্যাপারে আপনারাও আপনাদের সুচিন্তিত মতামত ই-মেইলের মাধ্যমে প্রদান করে এ কাজে সহায়তা করতে পারেন। দেশের সম্পদ, সক্ষমতা, বাস্তবায়ন কাঠামো ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে আমরা একটি পন্থা বের করতে চাই যাতে প্রবাসীরা এবং সর্বোপরি আমাদের দেশ উপকৃত হয় এবং নিরাপদ থাকে।

বিশ্বব্যাপী যেভাবে মৃত্যু ধেয়ে আসছে আমরা জানি না কে কোথায় থাকব। আসুন আমরা সকলে সকলকে সাধ্যমত সহযোগিতা করি। আপনারা সুস্থ থাকুন, নিরাপদে থাকুন ও স্ব স্ব ধর্মমতে বিপদ থেকে মুক্তির জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করুন। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমীন।


আরো সংবাদ