০৪ এপ্রিল ২০২০

দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫, নতুন আক্রান্ত নেই

দেশে আরো একজন করোনা আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এটা নিয়ে দেশে করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলেন ৫ জন। বুধবার সকালে করোনা আক্রান্ত ৬৫ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি তিনি কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তবে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আর কোনো করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়নি। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনা আক্রান্ত ৩৯ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের।

মৃত ব্যক্তির বয়স ৬৫ এবং তিনি পুরুষ। তার ডায়াবেটিস ও হাইপারটেনশনের সমস্যা ছিল। তিনি দেশের স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিউমোনিয়ার চিকিৎসা নিচ্ছিলেন গত ১৮ মার্চ থেকে। তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে গত ২১ মার্চ রাজধানীর কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে আনা হয়। অবশেষে বুধবার সকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

বুধবার দুপুরে আইইডিসিআর’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মীরজাদী সেব্রিনা ফোরা অনলাইনে নিয়মিত প্রেসব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। এ সময় তার সাথে ছিলেন আইইডিসিআর’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মককর্তা ড. এ এস এম আলমগীর। অধ্যাপক সেব্রিনা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইইডিসিআর-এ ৮২ জনের নমুনা (কোভিড-১৯) পরীক্ষা করা হয়। কিন্তু কারো দেহে এই ভাইরাস পাওয়া যায়নি। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে আছে ৪৭ জন এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে রয়েছে ৩৭ জন।

তিনি বলেন, আইইডিসিআর-এ করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করা হয়েছে মোট ৭৯৪ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২ জন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি গেছেন। তাদের দেহে পর পর দু’বার পরীক্ষার পর ভাইরাস পাওয়া যায়নি। এটা নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৭ জন।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ফ্লোরা বলেন, কিছুদিনের মধ্যে আইইডিসিআর ছাড়াও আরো কয়েকটি স্থানে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করানো যাবে। এগুলো ঢাকার শিশু হাসপাতালে, চট্টগ্রামে ট্রপিক্যাল মেডিসিন ইনস্টিটিউটে, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।

তিনি জানান, বাংলাদেশে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন (সমাজে মানুষের মধ্যে) ছড়াচ্ছে না। তবে একটি স্থানে এমন হয়েছিল। সেখানে সংক্রমণ বেশি ছিল। আমরা সে স্থানটি লকডাউন করে যাদের মধ্যে করোনা ছড়াতে পারে তাদের নমুনা এনে পরীক্ষা করেছি। পরীক্ষায় পজিটিভের হার কম ছিল। কিন্তু পরে দেখা যায় সেখানকার দু’জন বিদেশফেরত দু’জনের সংস্পর্শে এসেছিলেন।

অধ্যাপক ফ্লোরা জানান, আইইডিসিআরে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজার ৭৩০ জন কল করেছিলেন। সব কলই ছিল কোভিড-১৯ সংক্রান্ত কল। তিনি বলেন, আইইডিসিআির-এ মোট ১৭টি নাম্বার আছে। তবে দুইটি নাম্বারের কল করার জন্য আমরা সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এ দুটি হান্টিং নাম্বার। এখানে কল করলে যে নাম্বার খালি থাকবে সেখানে চলে যাবে, এটা সহজ হবে সকলের জন্য। এ দুটি নাম্বার হলো- ০১৬৫৫ এবং ০১৯৪৪৩৩৩২২২।


আরো সংবাদ