০৯ এপ্রিল ২০২০

বেসরকারি হজ ব্যবস্থাপনার দুটি প্যাকেজ ঘোষণা

সর্বনিম্ন মূল্য ৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা
-

বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলো চলতি বছরের হজযাত্রীদের জন্য সর্বনিম্ন ৩ লাখ ১৭ হাজার টাকা নির্ধারণসহ দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। ‘ইকোনমি’ নামে অন্য প্যাকেজটির মূল্য ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৬১ হাজার ৮০০ টাকা।

হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে হজযাত্রীদের আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে পছন্দের প্যাকেজের সমুদয় টাকা স্ব স্ব এজেন্সির ব্যাংক একাউন্টে জমা করে নিবন্ধন সম্পন্ন করারও অনুরোধ জানিয়েছে।

আগামী ২ মার্চ থেকে হজের মূল নিবন্ধন শুরু হবে।

রাজধানীর নয়া পল্টনে একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, এজেন্সিগুলো তাদের সেবার মান অনুযায়ী প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে। তবে তা কোনোভাবেই হাব ঘোষিত সর্বনিম্ন প্যাকেজের কম হতে পারবে না।

এর আগে বুধবার ধর্ম মন্ত্রণালয় তিনটি সরকারি প্যাকেজ ঘোষণা করে সোমবার মন্ত্রিসভায় সেগুলো অনুমোদিত হবার পর। সেগুলোর মূল্য যথাক্রমে ৩ লাখ ১৫ হাজার, ৩ লাখ ৬০ হাজার ও ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা। অবশ্য সরকার বেসরকারি এজেন্সিগুলোর জন্য ৩ লাখ ৫৮ হাজার টাকা একটি নমুনা প্যাকেজ দিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, বেসরকারি এজেন্সিগুলো সরকার ঘোষিত প্যাকেজগুলোর সাথে মিল রেখে আলাদা প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে। তবে তা কোনোভাবেই সরকার ঘোষিত সর্বনিম্ন প্যাকেজের কম হতে পারবে না।

হজ প্যাকেজের ক্ষেত্রে সরকারি বেসরকারি উভয়ক্ষেত্রে বিমানভাড়া এক লাখ ৩৮ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। আর দূরত্ব বিবেচনায় বাড়ি ভাড়ার তারতম্যের কারণে প্যাকেজের মূল্যে তারতম্য হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি উভয় সর্বনি¤œ প্যাকেজে বাড়ি ভাড়া ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৬১২ টাকা এবং সরকারি দ্বিতীয় প্যাকেজে বেসরকারি অপর প্যাকেজে বাড়ি ভাড়া ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৬৩১ টাকা। যাতে প্রথমটিতে মসজিদুল হারাম চত্বরের সীমানা থেকে এক-দেড় হাজার কিলোমিটারের বাইরে এবং দ্বিতীয়টিতে এক-দেড় হাজার কিলোমিটারের মধ্যেই হাজীদের রাখা হবে।

হাব সভাপতি জানান, এবার সর্বনি¤œ মূল্যে যে প্যাকেজ ধরা হয়েছে সেটি যে এলাকায় হাজীদের রাখার পরিকল্পনা নিয়ে করা হয়েছে যেখান থেকেও হাজীরা পায়ে হেঁটেই মসজিদুল হারামে নামাজ ও ইবাদাতে যেতে পারবেন। কারণ যে কুদাই এলাকায় হাজীদের রাখা হবে হজের সময় সেই স্থান থেকে মসজিদুল হারাম পর্যন্ত গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। তবে আজিজিয়া নামক স্থানে রাখলে হাজীদের মসজিদুল হারামে আসতে গাড়ির ব্যবস্থা করতে হবে। খাওয়ার খরচ ২৮ হাজার টাকাসহ অন্যান্য সকল খরচ প্রায় সব প্যাকেজেই একই হারে ধরা হয়েছে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৩০ জুলাই ২০২০, ৯ জিলহজ্জ ১৪৪১ হিজরি সনের পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এ বৎসর সর্বমোট ১,৩৭,১৯৮ জন হজযাত্রী হজব্রত পালন করবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৭,১৯৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১,২০,০০০ জনের কোটা রয়েছে।

হাব সভাপতি জানান, হজযাত্রীগণ তাদের হজ প্যাকেজের সমুদয় অর্থ শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির ব্যাংক একাউন্ট অথবা সরাসরি এজেন্সিতে জমা দিয়ে মানি রসিদ সংরক্ষণ করবেন। কোনোক্রমেই মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে কোনো প্রকার লেনদেন করা যাবে না। নিজ উদ্যোগে মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে যার মেয়াদ ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ পর্যন্ত থাকতে হবে। প্রাক-নিবন্ধনের সময় জাতীয় পরিচয় পত্র/জন্মনিবন্ধনের যে নম্বর ব্যবহৃত হয়েছিল তা পাসপোর্টে ব্যক্তিগত পরিচিতি নম্বর হিসেবে উল্লেখ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় বিমান ভাড়া বাবদ ১লাখ ৩৮ হাজার টাকাসহ সর্বনি¤œ মোট ১ লাখ ৫১ হাজার ১৯০ টাকা জমা দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে পারবেন। তবে হজযাত্রীগণকে আগামী ৩০ মার্চ ২০২০ তারিখের মধ্যে প্যাকেজ মূল্যের সম্পূর্ণ টাকা অবশ্যই সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সিকে পরিশোধ করতে হবে। কুরবানী খরচ বাবদ প্রত্যেক হজযাত্রীকে কমপক্ষে সৌদি রিয়াল ৫২৫ সমপরিমাণ টাকা (১২০৭৫ টাকা) পৃথকভাবে নিজ দায়িত্বে সাথে নিতে হবে।

তিনি আরো জানান, ধর্ম মন্ত্রণালয় কর্তৃক বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যে যারা নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হবেন তারা এ বছর হজে যেতে পারবেন না। তাদের স্থলে প্রাক-নিবন্ধনের পরবর্তী ক্রমানুসারে নিবন্ধন সম্পাদিত হবে। প্রত্যেক হজযাত্রীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা (মেনিনজাইটিস ও ইনফ্লয়েঞ্জার টিকা) সনদ সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির কাছে জমা দিতে হবে। মাহরাম ব্যতীত কোনো নারী হজযাত্রী কোনোক্রমেই হজে যাওয়ার যোগ্য বিবেচিত হবেন না। নারী হজযাত্রীগণকে মাহরামের সাথে একত্রে নিবন্ধন করতে হবে। হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা সরকারি হাসপাতালে সম্পন্ন করা হবে। প্রত্যেক হজযাত্রীর জন্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা, মেনিনজাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা প্রতিষেধক টিকা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) গ্রহণ এবং স্বাস্থ্য সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। প্রত্যেক হজযাত্রী পাঁচ লিটার জম জমের পানি পাবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে হাব সভাপতি বলেন, ‘হাব’ হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া কমানোর বিষয়ে অনেক আগে থেকেই সোচ্চার রয়েছে। এবছর প্রথমে বিমান ভাড়া ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা ঘোষণার পর হাবের দাবির প্রেক্ষিতে ২ হাজার টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার করার মধ্য দিয়ে বিমান ভাড়া আরো কমানোর ব্যাপারে হাবের দাবির যৌক্তিকতা প্রমাণিত হয়েছে।

বাংলাদেশ হজ ব্যবস্থাপনায় ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে দাবি করে শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন বাংলাদেশে সম্পন্ন হওয়ার কারণে হজযাত্রীদের অনেক কষ্ট লাঘব হয়েছে। এ বছর আরো বেশি সংখ্যক হজযাত্রীদের সৌদি অংশের ইমিগ্রেশন বাংলাদেশে সম্পন্ন করার জন্য সকল প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন হাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা ইয়াকুব শরাফতী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ফজলুর রহমান, সহ-সভাপতি মো: শাহ আলম, জনসংযোগ সচবি ও আটাবরে মহাসচবি মাজাহারুল ইসলাম ভূঁইয়া, র্অথ সচবি আব্দুল কাদরে মোল্লা প্রমুখ।

দেখুন:

আরো সংবাদ