০৯ এপ্রিল ২০২০

অলিম্পিকে পতাকা বহন ও গেমসে মশাল প্রজ্জ্বলন দুটোই সম্মানের : দীপক বিস্টা

দীপক বিস্টা - ছবি : সংগৃহীত

সাউথ এশিয়ান গেমসের গত দুই আসরে মশাল প্রজ্জ্বলন করেছেন দুই দেশের দুই বিখ্যাত ফুটবলার। ২০১০ সালে ঢাকায় কাজী সালাহউদ্দিন ও ২০১৬ সালে গৌহাটি গেমসে বাইচুং ভুটিয়া। এবার নেপাল ১৩তম এসএ গেমসে মশাল জ্বালাবেন তায়কোয়ানডোতে চারবারের স্বর্ণপদক জয়ী কৃতি খেলোয়াড় দীপক বিস্টা।

সাধনা করলে ফল পাবে। এই নীতিতে বিশ্বাসী দীপক বিস্টা এমন সম্মানে অভিভুত, ‘এটা আমার জীবনের বিশেষ দিন হবে। অনেক পদক জিতেছি জীবনে। কিন্তু এটা পদক জয়ের চেয়েও অনেক বড় সম্মানের। যত দিন বেচে থাকব এই মুহুর্ত মনে রাখব।’

দীপক বিস্টার ক্যারিয়ারের সাথে বাংলাদেশের নামটিও জড়িত। ২০১০ ঢাকা এসএ গেমসে স্বর্ণপদকই তার আন্তর্জাতিক শেষ স্বর্ণপদক। ২০১২ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেন তিনি। বর্তমানে তায়কোয়ান্ডতোর সঙ্গেই রয়েছেন দীপক। গেমসে নেপাল তায়কোয়ানডো দলের কোচ। তার স্ত্রী আয়শা সায়কাও একজন তারকা তায়কোয়ানডো খেলোয়াড়। এসএ গেমসে স্বর্ণ পদক রয়েছে আয়শারও। স্ত্রী সহ আরো কয়েকটি স্বর্ণ পদক প্রত্যাশা করছেন দীপক, ‘সে  (আয়শা ) ভালো ক্রীড়াবিদ। মা হবার পরেও তার ইভেন্টে সে এখনও শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে। আয়শা ছাড়াও আরো কয়েকটি ইভেন্টে স্বর্ণ প্রত্যাশা করছি।’

নেপালে জাতীয় খেলা ভলিবল। জনপ্রিয়তার শীর্ষে কিন্তু ফুটবল। অন্য ডিসিপ্লিনের সবাইকে ছাপিয়ে নিজেকে বিশেষ উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন তায়কোয়ানডো খেলোয়াড় দীপক বিস্টা। ১৯৯৯, ২০০৪, ২০০৬ ও ২০১০ সালের গেমসের আসরে টানা চার এসএ গেমসে তায়কোয়ানডোতে স্বর্ণ পদক জেতেন দীপক। শুধু দক্ষিণ এশিয়ার গেমসই নয় এশিয়ান গেমসেও পদক রয়েছে। ২০০২ বুশান ও ২০০৬ দোহা এশিয়ান গেমসে দু’টি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিলেন তিনি। টানা দুই এশিয়াডে দুই পদক পাওয়া একমাত্র নেপালী ক্রীড়াবিদ তিনিই। এটাই মূলত তাকে নেপালের সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রীড়াবিদ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ১৯৯৯ সালের পর আবারো এসএ গেমসের আয়োজক নেপাল। আয়োজক কর্তৃপক্ষকে তাই মশাল প্রজ্জ্বলনের জন্য ভাবতে হয়নি। সবার আগেই নাম চলে আসে দীপক বিস্টার।

এ রকম আরেকটি বিশেষ সম্মান পেয়েছিলেন ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে। নেপাল দলের পতাকা বহন করেছিলেন তিনি। অলিম্পিকের পতাকা বহন ও এসএ গেমস মশাল জ্বালানো দু’টোকে আলাদাভাবে দেখছেন এই কৃতি ক্রীড়াবিদ, ‘দু’টি ভিন্ন সম্মানের। একজন ক্রীড়াবিদের স্বপ্ন থাকে অলিম্পিকে খেলা। অলিম্পিকে আমি অংশ নিয়েছি এবং দেশের পতাকা বহন করার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল। এসএ গেমস দক্ষিণ এশিয়ার অলিম্পিক হিসেবে পরিচিত। মশাল জ্বালানো গেমসের আনুষ্ঠানিকতা ও ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যের অংশ হওয়াটাও বিশাল গৌরবের।’

নেপালে তরুণরা ভলিবল ও ফুটবলেই বেশি আকৃষ্ট হয়। সেখান থেকে তায়কোয়ানডো বেছে নেয়ার কারণ জানালেন দীপক,  ‘ছোটবেলায় আমিও ভলিবল দিয়ে খেলাধূলার জীবন শুরু করেছিলাম। ইনজুরিতে পড়ার পর দেখলাম ভলিবলে পদক সংখ্যা কম। তায়কোয়ানডোতে অনেক পদক জেতা যায়। দেশের সুনাম বৃদ্ধি করার সুযোগ ও সম্ভাবনাও বেশি। এরপর থেকেই তায়কোয়ানডোতেই মনোযোগ দেই।’


আরো সংবাদ