০৬ অক্টোবর ২০২২, ২১ আশ্বিন ১৪২৯, ৯ রবিউল আওয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

ইসরাইলি হামলায় গাজায় ইসলামিক জিহাদের ২ শীর্ষ নেতা নিহত


গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের হামলায় ২৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ইসলামিক জিহাদ গ্রুপ নামে একটি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে ইসরাইল। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে।

নিহতদের মধ্যে ছয়টি শিশু এবং জিহাদ গ্রুপ বা পিআইজের নেতা খালেদ মনসুর ও তাইসির জাবারি-সহ গোষ্ঠীর আরো বেশ কয়েকজন সদস্য রয়েছেন।

ইসরাইলি এক কর্মকর্তা বলছেন, শুক্রবার থেকে ফিলিস্তিন চার শ’র মতো রকেট ও মর্টার নিক্ষেপ করেছে।

ইসরাইল বলেছে যে পিআইজের ‘তাৎক্ষণিক হুমকির’ কারণে তারা এই অভিযান শুরু করেছে।

২০২১ সালের মে মাসে ১১ দিন ধরে চলা সংঘর্ষের পর এটিই ইসরাইল এবং গাজার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর সঙ্ঘাত।

ওই বছর দুই শ’ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি এবং ১২ জনের মতো ইসরাইলি নিহত হয়েছিলেন।

ইসরাইল তার এই চলমান অভিযানের নাম দিয়েছে 'ব্রেকিং ডন' এবং এক সপ্তাহ ধরে এই অভিযান চলতে পারে বলে সতর্ক করেছে।

ইসরাইল বলছে, গাজায় বিমান হামলার পাশাপাশি, অধিকৃত পশ্চিম তীরে অভিযানে পিআইজে'র ১৯ জন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গাজায় বিমান হামলার মধ্যেই শনিবার ইসরাইলি শহরগুলোতেও অনবরত ক্ষেপণাস্ত্রের সতর্কতা সাইরেন বাজতে শোনা গেছে।

গাজায় নতুন করে আবারো সহিংসতায় ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুর এবং দুই শ’ জনের আহত হওয়ার ঘটনায় ‘ইসরাইলি আগ্রাসনকে’ দায়ী করেছে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

যদিও হামাসের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো রকেট ছোঁড়া হয়নি বলে মনে হচ্ছে।

ইসলামিক জিহাদের সাথে হামাসের মতাদর্শিক মিল রয়েছে এবং প্রায় শই গোষ্ঠীটির সাথে হামাস তাদের কর্মকাণ্ড সমন্বয় করে থাকে।

হামাসকে লক্ষ্য করে ইসরাইলি বিমান হামলারও কোনো খবর নেই।

হামাসের উপরে হামলা সহিংসতা আরো বৃদ্ধি করবে।

শুক্রবার রাতে হামাস জোরালো এক বিবৃতি জারি করে বলেছে যে, ইসরাইলি হামলার বিরুদ্ধে ‘প্রতিরোধী গোষ্ঠীগুলো’ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে।

কিন্তু হামাস যেহেতু গাজার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তাই সম্ভবত বাস্তবসম্মত কোনো বিবেচনা থেকে এখন আরো বেশি সংশ্লিষ্ট হওয়া থেকে বিরত রয়েছে গোষ্ঠীটি।

গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু বাড়লে হামাসের এই হিসাব হয়ত বদলে যেতে পারে।

হামাস যদি এবারের সংঘর্ষে যোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তবে তা দ্রুত আরো তীব্র হয়ে উঠবে।

ইসলামিক জিহাদ উত্তর পশ্চিম তীর থেকে তাদের একজন নেতাকে গ্রেফতারের প্রতিশোধ নিতে পারে, এমন আশঙ্কায় ইসরাইল গাজার সাথে তার ক্রসিংগুলো বন্ধ করে দিয়েছে।

এতে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানুষের জীবন ইতোমধ্যেই অনেক কঠিন হয়ে উঠেছে।

শনিবার কোনো জ্বালানি সরবরাহ না আসায় গাজার একমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী স্টেশন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ কোম্পানিটির একজন মুখপাত্র।

ওদিকে ইসরাইলি এক কর্মকর্তা বলেছেন, গাজা থেকে ছোঁড়া চারশ’টি রকেট এবং মর্টারের মধ্যে ৭০টি ইসরাইলি ভূখণ্ড পর্যন্ত পৌঁছায়নি। সেগুলো গাজা উপত্যকায় পড়েছে।

আর যেগুলো ইসরাইলি আকাশসীমায় পৌঁছেছে তার বেশিরভাগই 'আয়রন ডোম' ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে প্রতিরোধ করা হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলেছেন, ইসরায়েলে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ জানিয়েছে, ইসলামিক জিহাদের প্রায় ৩০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে দুটি অস্ত্রাগার এবং ছয়টি রকেট তৈরির কারখানা।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, এই হামলায় দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

শুক্রবারের প্রথম হামলার কথা উল্লেখ করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিড বলেছেন, ‘তাৎক্ষণিক হুমকির বিরুদ্ধে ইসরাইল একটি সুনির্দিষ্ট সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান’ চালিয়েছে।

আইডিএফ বলেছে যে, তারা পিআইজে-এর সাথে যুক্ত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

যার মধ্যে গাজা শহরে উঁচু ভবন প্যালেস্টাইন টাওয়ার রয়েছে।

ভবনটিতে শুক্রবারের হামলার পর প্রচণ্ড বিস্ফোরণে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।

ইরানের রাজধানী তেহরানে সফরকালে পিআইজে মহাসচিব জিয়াদ আল-নাখালা বলেছেন, ‘আমরা এই আগ্রাসনের জোরালো জবাব দেবো এবং এমন একটি লড়াই হবে যাতে আমাদের জনগণের জয় হবে।’

‘এই যুদ্ধের জন্য কোনো লাল রেখা নেই এবং তেল আবিব প্রতিরোধের রকেটের মুখে থাকবে।’

সোমবার রাতে পশ্চিম তীরে পিআইজে-এর প্রধান বাসেম সাদিকে ইসরাইল গ্রেফতার করার পর সর্বশেষ এই সঙ্ঘাতের সূত্রপাত।

ইসরাইলি আরব এবং ফিলিস্তিনিদের সিরিজ হামলায় ১৭ জন ইসরাইলি এবং দু’জন ইউক্রেনীয় নিহত হওয়ার পর ইসরাইলের গ্রেফতার অভিযানের অংশ হিসেবে জেনিন এলাকা থেকে বাসেম সাদিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হামলাকারীদের দু’জন জেনিন এলাকার ছিল।

আইডিএফ বলছে, তার বাড়িতে অবৈধ অস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ খুঁজে পেয়েছে।

পিআইজে ইরান সমর্থিত একটি গোষ্ঠী এবং এর সদর দফতর সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে অবস্থিত।

এটি ইসরাইলের উপরে রকেট হামলার সহ বেশ কিছু আক্রমণের জন্য দায়ী।

২০১৯ সালের নভেম্বরে, পিআইজের একজন কমান্ডারকে ইসরাইল হত্যা করার পরে ইসরাইল এবং পিআইজের মধ্যে পাঁচ দিনের সংঘর্ষ চলে।

ইসরাইলের ভাষ্য এই কমান্ডার ইসরাইলে আক্রমণের পরিকল্পনা করছিল। ওই পাঁচ দিনের সহিংসতায় ৩৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং আহত হন ১১১ জন। সে সময় ৬৩ জন ইসরাইলিরও চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছিল।

ইসরাইল জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৫ জন ফিলিস্তিনি ছিল। যাদের মধ্যে কয়েকজন রকেট হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

সূত্র : বিবিসি


আরো সংবাদ


premium cement
বুড়িচংয়ে অবৈধভাবে ভারত যাওয়ার সময় ৩০ রোহিঙ্গা আটক প্রিয় নবীর আগমনে খুশির জোয়ার উল্লাপাড়ায় অর্ধগলিত ভাসমান লাশ উদ্ধার চালু করার ১ ঘণ্টা পরেই বন্ধ ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫ নম্বর ইউনিট খুলনায় প্রকাশ্যে যুবককে কুপিয়ে হত্যা নারায়ণগঞ্জে মহানগর যুবদলের বিশাল কালো পতাকা মিছিল এক বছরের ব্যবসায়ই ইভ্যালির সব দেনা পরিশোধ সম্ভব : শামীমা টানা ৪ দিন বন্ধের পর ভোমরা স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানি শুরু রাণীসংকৈলে গরুকে বাঁচাতে গিয়ে মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে শাওনের মৃত্যু : মুন্সিগঞ্জ আদালতে পুলিশ ও সরকার দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন জাতিসঙ্ঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সফল হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

সকল