৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ন ১৪২৮, ২৪ রবিউস সানি ১৪৪৩ হিজরি
`

প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাবৃদ্ধি চায় না তিউনিসিয়ার জনগণ

প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাবৃদ্ধি চায় না তিউনিসিয়ার জনগণ - ছবি : সংগৃহীত

তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট সাঈদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে দেশটির স্থানীয়-আন্তর্জাতিক সেবা সংস্থা ও রাজনৈতিক দলগুলো।

শনিবার শত শত তিউনিসিয় নাগরিক দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের স্ফাক্স শহরে প্রেসিডেন্ট কায়েস সাঈদের ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পদক্ষেপ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।

দু’ শ’র মতো নাগরিক বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দেন ‘সংবিধানে হাত দেয়া লাল রেখা তুল্য’ ‘জনগণ চায় সংবিধান আবার কার্যকর করা হোক,’ ‘অভ্যুত্থান চাই না, বৈধ অবস্থা থেকে পেছনে যাওয়া মানি না।’

আনাদোলু এজেন্সিকে একজন বিক্ষোভকারী জানান, তাদের মূল দাবি হলো, বৈধতা ও সংবিধানের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের সমাপ্তি ঘটানো এবং সাঈদের বিশেষ সিদ্ধান্তগুলো বাতিল করা।

এদিকে, এক যৌথ বিবৃতিতে ক্ষমতা সম্প্রসারণে প্রেসিডেন্ট সাঈদের নেয়া পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়েছে ১৮টি স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সেবা সংস্থা।

লিখিত বিবৃতিতে দ্য ফ্রি কনস্টি্টিউশন পার্টির নেতা আবির মৌসি যিনি সাঈদের সমর্থক হিসেবে পরিচিত, বলেন, এ সিদ্ধান্তগুলো স্বৈরাচারী শাসনের শিকড় মজবুত করবে এবং প্রজাতন্ত্রের ধারণাকে অবদমিত করবে।
ক্ষমতা সম্প্রসারণের জন্য বুধবার সাঈদের জারি করা নতুন ডিক্রির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির আইনি ও নির্বাহী ক্ষমতা বিষয়ে বড় ধরনের সংশোধানী আনা হয়েছে এবং আইনের সাংবিধানিকতা পর্যবেক্ষণের জন্য ২০১৪ সালে গঠিত পর্ষদও বাতিল করা হয়েছে।

এতে মন্ত্রিপরিষদের সাথে পরামর্শ করে ডিক্রির মাধ্যমে আইন প্রণয়নের ক্ষমতা দেয়া হয়েছে রাষ্ট্রপতিকে।

এই ডিক্রি অনুসারে মন্ত্রিসভা আর পার্লামেন্টের কাছে নয়, রাষ্ট্রপতির কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ করবেন এবং মন্ত্রিসভার সদস্য নিয়োগ ও সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
গত ২৫ জুলাই সাঈদ দেশটির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেন, পার্লামেন্ট স্থগিত করেন এবং নির্বাহী কর্তৃত্ব গ্রহণ করেন।

তখন তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে, তার এ ‘ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা’ হলো দেশকে ‘বাঁচানোর’ জন্য। তবে, সমালোচকরা তার এ পদক্ষেপকে ‘অভ্যুত্থান’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

তিউনিসিয়াকে আরব দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র সফল গণতান্ত্রিক উত্তরণের দেশ হিসেবে দেখা হতো। মিসর, লিবিয়া এবং ইয়েমেনের মতো দেশগুলোও জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন শাসনকে উৎখাত করেছিল। কিন্তু তারা ইতোমধ্যে গণতন্ত্র হারিয়েছে।

সূত্র : আনাদোলু

দেখুন:


আরো সংবাদ