১৬ অক্টোবর ২০২১, ৩১ আশ্বিন ১৪২৮, ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
`

মাহমুদ আব্বাসের পদত্যাগ চায় ৭৮ ভাগ ফিলিস্তিনি

মাহমুদ আব্বাস - ছবি : সংগৃহীত

অধিকৃত পশ্চিম তীর ও অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সম্প্রতি চালানো এক জরিপে দেখা গেছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ৭৮ ভাগ ফিলিস্তিনিই মাহমুদ আব্বাসের অপসারন চান।

মঙ্গলবার রামাল্লাভিত্তিক ফিলিস্তিনি থিংক ট্যাংক প্যালেস্টেনিয়ান সেন্টার ফর পলিসি অ্যান্ড সার্ভে রিসার্চ (পিসিপিএসআর) এই জরিপ প্রকাশ করেছে।

পিসিপিএসআর জানায়, চলতি বছরের ১৫-১৮ সেপ্টেম্বর নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে ফিলিস্তিনিদের মতামত যাচাই করতে নেয়া এই জরিপে পশ্চিম তীর ও গাজার এক হাজার দুই শ' ৭০ প্রাপ্তবয়স্ক বাসিন্দার সাক্ষাৎকার নেয়া হয়।

পিসিপিএসআরের প্রধান খলিল শিকাকি জানান, মাহমুদ আব্বাসের জন্য এটি সবচেয়ে 'দুর্দশাজনক জরিপ'।

দীর্ঘদিন ফিলিস্তিনিদের জনমত জরিপ নিয়ে কাজ করা শিকাকি বলেন, 'আজকের মতো তিনি (আব্বাস) আর কখনো এত খারাপ অবস্থানে থাকেননি।'

জরিপে জানানো হয়, মাহমুদ আব্বাসের পদত্যাগ চান ৭৮ ভাগ ফিলিস্তিনি। অপরদিকে তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে চান ১৯ ভাগ। এর মধ্যে পশ্চিম তীরের ৭৮ ভাগ বাসিন্দাই মাহমুদ আব্বাসের পদত্যাগ চান। অন্যদিকে গাজায় পদত্যাগ চান ৭৭ ভাগ বাসিন্দা।

অন্যদিকে আব্বাসের কাজে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন ২৪ ভাগ ফিলিস্তিনি। ৭৩ ভাগ ফিলিস্তিনি জানান, তারা আব্বাসের কাজে অসন্তুষ্ট।

জরিপে আরো দেখানো হয়, ৪৫ ভাগ ফিলিস্তিনিই মনে করছেন স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস নেতৃত্বের জন্য সর্বাধিক উপযুক্ত। অপরদিকে মাহমুদ আব্বাসের ফাতাহ পার্টির প্রতি সমর্থন জানান ১৯ ভাগ।

ফিলিস্তিনে এই মুহূর্তে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে ভোট দেবেন ৬৮ ভাগ ভোটার। এর মধ্যে ৩৭ ভাগ ভোটার হামাসকে ভোট দেবেন। অপরদিকে ফাতাহকে ভোট দেবেন ৩২ ভাগ ভোটার। অন্য দলগুলোকে ভোট দেবেন ১৩ ভাগ ভোটার। কোন দলকে ভোট দিবেন এই বিষয়ে সিদ্ধান্তহীন বলে জানান ১৮ ভাগ ভোটার।

অপরদিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হলে ৫১ ভাগ ভোটার অংশ নেবেন। এতে মাহমুদ আব্বাসকে ভোট দেবেন ৩৪ ভাগ। অপরদিকে হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়াকে ভোট দেবেন ৫৬ ভাগ ভোটার।

আবু মাজেন হিসেবে পরিচিত মাহমুদ আব্বাস ২০০৪ সালে ফাতাহ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যুর পর দলের নেতৃত্বে আসেন। ২০০৫ সালে তিনি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২০০৯ সালে তার মেয়াদ শেষ হলেও এখনো তিনিই প্রেসিডেন্টের পদ দখল করে আছেন।

সূত্র : মিডল ইস্ট আই



আরো সংবাদ