১৯ অক্টোবর ২০২১, ৩ কার্তিক ১৪২৮, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩ হিজরি
`

নাবলুসের ঈগল : ইসরাইলের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সফল স্নাইপার হামলাকারী

নাবলুসের ঈগল - ছবি : সংগৃহীত

১.
'ফজরের নামাজ পড়ে সামরিক ইউনিফর্ম পরলাম। পকেটে এক কপি কোরআন শরিফ, হাতে পুরোনো আমেরিকান এম১ বন্দুক ও ৭০ রাউন্ড গুলি।

আজকে যেকোনো একটি পরিণতি নিশ্চিত, হয়তো শাহাদাত নয়তো বন্দিত্ব। কিন্তু আমি ঘরে ফিরে এলাম ১১ জন ইসরাইলি সৈনিক নিহত ও ৯ জনকে আহত করার পর।'

এই কথাগুলো হলো নাবলুসের স্নাইপারের, ইসরাইলের বিরুদ্ধে যিনি সবচেয়ে সফল হামলা চালিয়েছিলেন।

২.
কায়েদ হাম্মাদ। ১৯৮০ সনে পশ্চিম তীরের পূর্ব রামাল্লার সিলওয়াদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই রাজনীতি সচেতন ছিলেন, একসময় ফাতাহ পার্টিতে যোগ দেন। ফাতাহের সামরিক উইং থাকলেও সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের প্রতি কখনোই তার আগ্রহ দেখা যায়নি।

তবে রামাল্লা ও নাবলুস শহরের মাঝামাঝি হারামিয়া উপত্যকায় একটি ইসরাইলি চেকপোস্টের অত্যাচারে তিনি অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিলেন। তাই ইসরাইলি আগ্রাসন মোকাবেলা ও ওই অঞ্চল থেকে চেকপোস্টটা উৎখাত করাই তার জীবনের লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াল।

সেই লক্ষ্যে তিনি টাকা জমাতে শুরু করলেন। একপর্যায়ে তার কাছে ১,৮০০ ডলার জমা হলো। এটা দিয়ে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পুরোনো একটি এম১ রাইফেল ও ৩৫০টি গুলি ক্রয় করলেন।

অস্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কে অজ্ঞতা তার মিশনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধার সৃষ্টি করতে পারেনি। তিনি পার্শ্ববর্তী গ্রাম ও আঙুরের ক্ষেতে গিয়ে নিশানা প্রাকটিস করতেন। একপর্যায়ে এতটাই দক্ষতা অর্জন করলেন যে উড়ন্ত মাছিকেও তিনি লক্ষ্যভেদ করতে পারতেন।

২০০২ সালের ৩ মার্চ রবিবার বাদ ফজর অস্ত্র হাতে বেড়িয়ে পড়লেন। ইসরাইলি সৈন্যদের হারামিয়া চেকপোস্টের উল্টোদিকে ১৫০ মিটার দূরে পাহাড়ে গাছ-গাছালির মাঝে অবস্থান গ্রহণ করলেন।

শূন্যে প্রথম গুলিটি করে চেকপোস্ট থেকে সৈন্যদের বের করে নিয়ে এলেন।এরপর একজনের পর একজন সৈন্যের উপর টার্গেট প্রাকটিস করতে লাগলেন। মাত্র ২৬টি ফায়ার করতে পেরেছিলেন, যার ফলে ১১ জন নিহত ও ৯ জন আহত হয়েছিল।

এরপরই পুরোনো বন্দুকটি ফেটে গেলে মূহুর্মূহু গোলাবর্ষণের মধ্যে সেটি রেখেই নিরাপদে বাসায় ফিরে আসেন।

৩.
হামলাকারীকে আটক করার জন্য হন্যে হয়ে খোঁজা শুরু করে ইসরাইলি গোয়েন্দারা। সন্দেহভাজন হিসেবে কায়েদ হাম্মাদও আটক হন। কিন্তু গোয়েন্দাদের ধারণা ছিল এটা কোনো প্রফেশনাল অথবা বয়স্ক যোদ্ধার কাজ। তাই সহজেই ছাড়া পেয়ে যান হাম্মাদ। কেননা তিনি কোথাও প্রথাগত সামরিক প্রশিক্ষণ নেননি।

এর আড়াই বছর পর অবশ্য গোয়েন্দাদের ভুল ভাঙে এবং তিনি আটক হন। সম্ভবত ফেলে আসা রাইফেলের ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে তাকে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

এরপর ৩০-এর অধিক এজলাসের পর তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়া হয়।

অবশ্য, ইসরাইলি পক্ষ দাবি করে থাকে, তার গুলিতে একজন ক্যাপ্টেন, একজন লেফটেন্যান্ট, একজন ফার্স্ট সার্জেন্ট ও চারজন সার্জেন্ট-মেজর নিহত হয়। বেসামরিক নাগরিক নিহত হয় তিনজন।

সূত্র : স্টেপ নিউজ



আরো সংবাদ