২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭ আশ্বিন ১৪২৮, ১৪ সফর ১৪৪৩ হিজরি
`

‘অস্তিত্বহীন’ বিমানে ইসরাইল-মিসর যাত্রা!

গোপনীয়তা বজায় রাখতে বিমানের গায়ে লোগো ব্যবহার করা হতো না। - ছবি : সংগৃহীত

বিমান রয়েছে। রয়েছেন যাত্রী। বিমানে চেপে এক দেশ থেকে অন্য দেশে পৌঁছেও যাচ্ছেন তারা। অথচ টের পাচ্ছেন না কেউ!

মিসরের কায়রো থেকে ইসরাইলের তেল আভিভের মধ্যে এভাবেই ৩৯ বছর ধরে যোগাযোগ রেখে চলেছে একটি ‘অস্তিত্বহীন’ বা ‘ভৌতিক’ বিমান।

আমেরিকার হস্তক্ষেপে ১৯৭৯ সালে ইসরাইল এবং মিসরের মধ্যে শান্তিচুক্তি হয়েছিল। চুক্তির একটি শর্ত ছিল, দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল শুরু করতে হবে।

১৯৮২ সালে এয়ার সিনাই তৈরি করে মিসর। মিসরের রাজধানী কায়রো এবং ইসরাইলের তেল আভিভের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হয়।

এয়ার সিনাইয়ের এই রুটে আগে মিসরের ইজিপ্টএয়ার সংস্থার নেফারতিতি অ্যাভিয়েশনের বিমানের চলাচল ছিল। পরবর্তী কালে এই রুটেই এয়ার সিনাই নামে ওই বিমান চলাচল শুরু হয়।

কিন্তু ইসরাইলের সাথে শান্তিচুক্তি এবং পরবর্তী কালে দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচলে রাজনৈতিক চাপ পড়তে শুরু করে মিসরের উপর। ওই চুক্তির পরই বাকি সমস্ত আরব দেশ মিসরকে বয়কট করে।

মিসরের অভ্যন্তরেও এ নিয়ে ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করে। ভিতর এবং বাইরে দুই চাপের মধ্যে মিসর সম্পূর্ণ ‘অভূতপূর্ব’ একটি সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। এই রুটে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেয় তারা। অন্যদিকে, মিসরকে শান্তিচুক্তির শর্তের কথাও মাথায় রাখতে হয়েছিল। চুক্তির শর্ত যাতে না ভাঙে, তার জন্য তাই একপ্রকার লুকিয়ে এই রুটে বিমান চালাতে শুরু করে মিসর। কীভাবে?

তখনই এয়ার সিনাই সংস্থা তৈরি করে ফেলে তারা। এর আগে পর্যন্ত এই রুটে ইজিপ্টএয়ার নামে বিমান চলাচল করত। ইজিপ্টএয়ারে পাইলট, বিমান, বিমানসেবিকা- সব নিয়েই উড়তে শুরু করে এয়ার সিনাই।

নাম বদলানোর পাশাপাশি আরো একটি কাজ করেছিল মিসর। গোপনীয়তা বজায় রাখতে বিমানের গায়ে লোগোর ব্যবহার বন্ধ করে দেয়। এমনকি এই সংস্থার কোরো ওয়েবসাইটও ছিল না। ফলে কোনো যাত্রী যদি কায়রো থেকে তেল আভিভ যাওয়ার জন্য অনলাইনে টিকিট কাটতে উদ্যোগী হতেন, তাহলে তিনি খুবই সমস্যায় পড়তেন। কারণ তন্ন তন্ন করে খুঁজেও কায়রো থেকে তেল আভিভ যাওয়ার সরাসরি এই একটিমাত্র বিমান এয়ার সিনাইয়ের কোনো ওয়েবসাইট তিনি খুঁজে পেতেন না।

কিন্তু উল্টোপথে তেল আভিভ যাওয়ার জন্য একাধিক বিমান সংস্থার ওয়েবসাইট ভেসে উঠত তার সামনে। তবে এয়ার সিনাইয়ের টিকিট বুক করতে আগ্রহীদের জন্য কিছু বার্তা ভেসে উঠত ইন্টারনেটে। তাতে ক্লিক করলে ট্রাভেল এজেন্সির ইমেইল, যোগাযোগ নম্বর পাওয়া যেত।

সেই নম্বরে যোগাযোগ করে যাত্রীকে নিজের বিবরণ মেইল করে পাঠাতে হতো। পাসপোর্টের স্ক্যান কপি এবং আরো যা যা তথ্য জানতে চাইত, সে সবই ইমেইলের মাধ্যমে পাঠাতে হতো। সব কিছু বিবেচনা করে তারপর ইমেইলেই ফ্লাইটের সময়, তারিখ এবং বিমান ভাড়া জানিয়ে দিত ওই সংস্থা।

এরপরই নির্দিষ্ট ঠিকানায় টাকা দিতে হতো যাত্রীকে। এখানেও গোপনীয়তা বজায় রাখতে ক্রেডিট কিংবা ডেবিটের মতো কোনো কার্ড ব্যবহার করা যেত না। শুধুমাত্র নগদেই সেই টাকা দিতে হতো যাত্রীকে। এই গোপনীয়তার কারণে যাত্রীদের মধ্যে একটি অনিশ্চয়তাও কাজ করত। তারা ঠিক জায়গায় টাকা দিলেন কি না, তা বিমানের ওঠার আগে পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারতেন না।

এই বিষয়টি মাথায় রেখে ২০২০ সালে প্রথম এই ফ্লাইটের জন্য একটি ওয়েবসাইট তৈরি হয়। নাম রাখা হয় ফ্লাইএয়ারসিনাই.কম। এই ওয়েবসাইট থেকে কায়রো-তেল আভিভের মধ্যে এয়ার সিনাই ফ্লাইটের যাবতীয় তথ্য (উড্ডয়নের সময়, টিকিট ভাড়া ইত্যাদি) দেয়া রয়েছে। এবং এখান থেকে খুব সহজেই যাত্রীরা টিকিট বুক করে নিতে পারেন। ক্রেডিট কার্ডও ব্যবহার করতে পারেন।

ফ্লাইএয়ারসিনাই.কম যদিও সরাসরি এয়ার সিনাইয়ের ওয়েবসাইট নয়। একটি থার্ড পার্টি ট্র্যাভেল এজেন্সি যাত্রীদের সুবিধার্থে এই ওয়েবসাইটটি বানিয়েছে। ফলে ঘরে-বাইরের চাপ সামলাতে আজও যাত্রীদের কায়রো থেকে তেল আভিভ উড়িয়ে নিয়ে যায় মিসরের এই ‘অস্তিত্বহীন’ বিমান।



আরো সংবাদ


বিএনপিবিহীন ইউপি নির্বাচনেও সহিংসতা : মূলে ‘শিওর শট’! করোনাকালেও অর্থনীতি শক্তিশালী অবস্থানে : খাদ্যমন্ত্রী ‘ক্রনিক মায়েলয়েড লিউকোমিয়া নিয়ে আতঙ্ক নয়’ পার্লামেন্টের দু’এমপিকে জেলে পুরল তিউনেসিয়ার সামরিক আদালত প্রধানমন্ত্রীর এসডিজি পুরস্কার বাংলাদেশের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে : সেতুমন্ত্রী স্বামীর ঘরে ফিরতে কবিরাজের কাছে গিয়ে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিকদের ধর্মঘট প্রত্যাহার ইলিশের ২৩ টনের প্রথম চালান বেনাপোল দিয়ে ভারতে রফতানি সাফের জন্য দল ঘোষণা করল বাফুফে বিশ্ব নেতৃত্বকে তালেবানের সাথে সম্পর্ক রাখতে বলল কাতার চীন এ বছর বিশ্বকে ২০০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন দেবে : শি জিনপিং

সকল