২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭ আশ্বিন ১৪২৮, ১৪ সফর ১৪৪৩ হিজরি
`

আফগানিস্তানের লস্কর গাহ শহরের বেশিরভাগই তালেবান দখলে


আফগানিস্তানের হেলমান্দ প্রদেশের রাজধানী লস্কর গাহের বেশিরভাগ এলাকাই তালেবান দখল করে নিয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। লস্কর গাহ ও তার আশাপাশে তালেবান এবং সরকারি সৈন্যদের মধ্যে লড়াইয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় কমপক্ষে ৪০ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। হেলমান্দ প্রদেশে এখনো তীব্র লড়াই চলছে।

তালেবান ইতোমধ্যেই লস্কর গাহের কেন্দ্রস্থলে ঢুকে পড়েছে। শহরের সরকারি প্রচারমাধ্যমের অফিস দখল করে তাদের অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু করেছে। তবে হেলমান্দে আফগান বাহিনীর অধিনায়ক জেনারলের সামি সাদাত বিবিসিকে বলেছেন, তালেবান কিছু জায়গা দখল করেছে ঠিকই। কিন্তু তারা সেখানে টিকতে পারবে না। তিনি যত শিগগিরই সম্ভব লস্কর গাহর বাসিন্দাদের শহর ছেড়ে যাবার আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসঙ্ঘ বলছে, একদিকে তালেবানের স্থল অভিযান, আর অন্যদিকে সরকারি বাহিনীর বিমান হামলা- এ দুয়ের মাঝে পড়ে বিপন্ন হয়ে পড়েছে বেসামরিক মানুষজন। লড়াইয়ের কারণে লস্কর গাহ ও পাশের প্রদেশের রাজধানী কান্দাহার থেকে হাজার হাজার লোক ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে।

লস্কর গাহের হাসপাতালগুলো জখম লোকজনের ভিড়ে উপচে পড়ছে বলে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ্যান্টনি ব্লিংকেন বলেছেন, তিনি তালেবানের নৃশংসতার কিছু খবর পেয়েছেন, যা গভীরভাবে বিচলিত হওয়ার মতো।

সামাজিক মাধ্যমে স্পিন বোল্ডাক শহরের কিছু প্রতিশোধমূলক হত্যার ভিডিও বেরিয়েছে। তবে তালেবান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। হেলমান্দের ওপর তালেবানের এই হামলা আফগানিস্তানে তাদের সবচেয়ে বড় অভিযান। তালেবান যদি লস্কর গাহ দখল করতে পারে তাহলে সেটি হবে ২০১৬-এর পর প্রথম প্রাদেশিক রাজধানীর পতন। এটি সরকারি বাহিনীর জন্য এক বড় আঘাতও। কারণ আমেরিকান ও ব্রিটিশ বাহিনী আফগান সরকারি বাহিনীর সৈন্যদের ওইখানেই প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

তালেবান একযোগে তিনটি প্রাদেশিক শহর দখল করার জন্য আক্রমণ চালাচ্ছে। লস্কর গাহ ছাড়া অন্য দু’টি শহর হচ্ছে কান্দাহার ও হেরাত। কান্দাহারের বিমান বন্দরে রোববার তালেবান রকেট হামলা চালায়। গত তিন দিনে সেখানে পাঁচজন নিহত ও ৪২ জন আহত হয়েছে বলে জাতিসঙ্ঘ মিশন জানিয়েছে।

কান্দাহার দখল করতে পারলে তালেবান দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে শক্ত ভিত্তি পেয়ে যাবে। এ ছাড়া পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত শহরেও যুদ্ধ চলছে। হেলমান্দে সরকারি বাহিনীর প্রধান জেনারেল সামি সাদাত বিবিসিকে জানিয়েছেন, এই লড়াইয়ে অন্যান্য উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সদস্যরা তালেবানের সাথে যোগ দিচ্ছে। তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, তালেবান জয়লাভ করলে তা শুধু লস্কর গাহকেই হুমকিতে ফেলবে না। তিনি বলেন, এর ফলে চোরাগোপ্তা হামলার ঘটনা বেড়ে যাবে। ইউরোপ বা আমেরিকাতে যেসব ছোট কট্টরপন্থী সংগঠন গোপনে কাজ করছে, তারা নতুন নতুন সদস্য জোগাড়ে উৎসাহিত হবে।

সার্বিকভাবে বিশ্ব নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে জেনারেল সামি উল্লেখ করেন।

সূত্র : বিবিসি



আরো সংবাদ


খেলাপিদের বিশেষ সুবিধা আরো এক বছর চায় বিজিএমইএ মুস্তাফিজদের দারুণ বোলিংয়ে রোমাঞ্চকর লড়াই জিতল রাজস্থান সাবমেরিন ইস্যু : ‘ক্রুদ্ধ’ ম্যাক্রঁ কি বেশি ঝুঁকি নিয়ে ফেললেন? গাড়িচালক মালেকের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন দুদকের আফগানিস্তানে আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ হার এড়ালো বার্সেলোনা অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর স্বাস্থ্যের ২৮৩৯ পদে নিয়োগপ্রক্রিয়া বাতিল দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে : ওবায়দুল কাদের মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা শিথিল খালেদা জিয়ার মুক্তি ইস্যুতে আপস করা যাবে না: বিএনপি

সকল