০৮ মে ২০২১
`
সৌদি আকাশে অজানা আতঙ্ক

পাইলট জেদ্দার ফ্লাইট নিয়ে যাচ্ছেন মদিনায়

সৌদি আকাশে অজানা আতঙ্ক -

সৌদি আরবের আকাশে ফ্লাইট নিয়ে প্রবেশের পর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাইলটদের থাকতে হচ্ছে অজানা আতঙ্কে। নির্ধারিত বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি না পেয়ে তাদের গতিপথ পরিবর্তন করে চলে যেতে হচ্ছে অন্য বিমানবন্দরে। এতে এক দিকে পাইলট ও যাত্রীদের যেমন থাকতে হচ্ছে শঙ্কায়, অন্য দিকে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীনও হতে হচ্ছে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থাটিকে।

সর্বশেষ, গত ৫ এপ্রিল সৌদি আরবের জেদ্দা বিমানবন্দরের উদ্দেশ্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইটটি জেদ্দা বিমানবন্দরে নামার প্রস্তুতি নিতে গেলে দেশটির সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি নামার অনুমতি দেয়নি। পরে বিমানের পাইলট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক ফ্লাইটটি নিরাপদে অবতরণের জন্য মদিনা বিমানবন্দরে চলে যায়। সেখানকার বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টা অবস্থানের পর ক্লিয়ারেন্স পেয়ে আবারো ফ্লাইটটি নিয়ে জেদ্দা বিমানবন্দরে অবতরণ করান পাইলট।

শুধু ৫ এপ্রিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের উড়োজাহাজের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে তা কিন্তু নয়, একইভাবে ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ৬-৭টি সৌদি আরবগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নির্দিষ্ট বিমানবন্দরের পরিবর্তে অন্য বিমানবন্দরে অবতরণ করাতে হয়েছে বলে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায়। তবে কী কারণে একের পর এক ফ্লাইট পাইলটদের ডাইভারশন করতে হচ্ছে সে ব্যাপারে সৌদি সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের তরফ থেকেও এখনো কোনো কিছুই জানানো হয়নি বলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাইলট সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে।

জানা গেছে, ৫ এপ্রিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের (বিজি ৪০৩৫) ফ্লাইটটি ঢাকা থেকে সন্ধ্যা ৬টার দিকে জেদ্দার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। সেই ফ্লাইটটি জেদ্দার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (বাংলাদেশ সময়) রাত ১টায় নামার কথা। কিন্তু সেটি ডাইভারড হয়ে রাত ৩টা ৪৫ মিনিটে মদিনা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে দুই ঘণ্টা পর ফ্লাইটটি জেদ্দা যায়। সেখান থেকে যাত্রী নিয়ে আবার ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয়।

একইভাবে ২৫ মার্চ এবং ১৫ মার্চ ঢাকা থেকে জেদ্দার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া পৃথক দু’টি ফ্লাইট নামতে না পেরে ডাইভারড হয়ে চলে যায়। একইভাবে ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-রিয়াদ রুটের (বিজি-৪০৩৯) ফ্লাইটটি রিয়াদ না নেমে ডাইভারড হয়ে দাম্মাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এর আগে ১৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা-রিয়াদ রুটের ফ্লাইটটিও রিয়াদ এয়ারপোর্টে নামার অনুমতি না পেয়ে সেটি দাম্মাম বিমানবন্দরে গিয়ে অবতরণ করে বলে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একজন পাইলটের সাথে যোগাযোগ করে এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি নয়া দিগন্তকে নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, এটার ব্যাপারে আমরা কিছু বলতে পারব না। এয়ারপোর্ট অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ থাকে, সেই হিসেবে হয়তো ফ্লাইট ডাইভারশন করতে হয়। এটার কোনো কারণ কেউ বলতে পারবে না।

এক প্রশ্নের উত্তরে ওই পাইলট বলেন, এর জন্য আমাদের বিমানের অনেক ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু কিছু করার নেই। সৌদি সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে কি এর কোনো কারণ জানানো হচ্ছে কি না আপনাদের- জানতে চাইলে তিনি বলেন, না তাদেরকে জিজ্ঞেস করা যাবে না।

ফ্লাইট ডাইভারশন অহরহ হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যখন ফ্লাইট নিয়ে যাই তখন বলে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য এয়ারপোর্ট বন্ধ। তেল তো আর বেশিক্ষণ থাকে না। যে আমি বেশিক্ষণ বিশ হাজার ফিট উপরে হোল্ড করব। ওরাই হোল্ড করতে বলে। কখন নামতে পারব সেটিও অনিশ্চিত। তখন তো আর বেশিক্ষণ উপরে থাকতে পারি না। আমরা তো আর এক্সট্রা তেল নিয়ে যাই না। সে ক্ষেত্রে ডাইভারশন করতে হয়।



আরো সংবাদ