১৯ এপ্রিল ২০২১
`

ইয়েমেনের ত্রাণ না পাওয়া ‘মৃত্যুদণ্ডের’ শামিল বললেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব

ইয়েমেনে অপুষ্টিতে ভোগা এক শিশু - ছবি : রয়টার্স

ইয়েমেনের জরুরি মানবিক সহায়তার জন্য যথাযথ ত্রাণ না পাওয়াকে দেশটির ‘মৃত্যুদণ্ডের’ শামিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। সোমবার যুদ্ধবিধস্ত দেশটির জরুরি সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সুইডেন ও সুইজারল্যান্ডের যৌথ আয়োজনে এক অনলাইন সম্মেলনে প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেকেরও কম অর্থ সংগ্রহ হওয়ায় এক বিবৃতিতে এই মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবারের এই সম্মেলনে জাতিসঙ্ঘ ৩৮৫ কোটি ডলার অর্থ সহায়তার আবেদন জানালে ১৭০ কোটি ডলার অর্থ সংগ্রহ হয়।

বিবৃতিতে আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘লাখ লাখ ইয়েমেনি শিশু, নারী ও পুরুষের জীবন ধারণের জন্য ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন। ত্রাণ সহায়তা বন্ধ করা (ইয়েমেনের জন্য) মৃত্যুদণ্ডের শামিল।’

বিবৃতিতে তিনি সম্মেলনের ফলাফলকে ‘হতাশাদায়ক’ হিসেবে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘আজকের অবস্থাকে প্রাথমিক অনুদান হিসেবে চিহ্ণিত করাই উত্তম হবে। যারা আন্তরিকতার সাথে অনুদান দিয়েছেন, আমি তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং অন্যদের আবার বিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছি যে, কয়েক দশকের মধ্যে বিশ্বের শোচনীয়তম দুর্ভিক্ষ প্রতিহত করতে তারা কী সহযোগিতা করতে পারেন।’

সোমবারের সম্মেলনে এক শ’র বেশি সরকার ও দাতা অংশ নেন। গত বছরের তুলনায় সম্মেলনে অংশ নেয়া দাতাদের অনেকেই কম ত্রাণ সহায়তার অঙ্গীকার করে।

এই বছর যুক্তরাষ্ট্র ১৯ কোটি ১০ লাখ ডলার ও সৌদি আরব ৪৩ কোটি ডলার সহায়তার অঙ্গীকার করে, যা গত বছরের তুলনায় কম।

তবে ব্যতিক্রম হিসেবে জার্মানি ২৪ কোটি ১০ লাখ ডলার সহায়তার অঙ্গীকার করে। গত বছর জার্মানি ১৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার সহায়তা দিয়েছিল।

২০১১ সালে আরব বসন্তের পরিপ্রেক্ষিতে জনগণের বিক্ষোভের জেরে ইয়েমেনে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক আলী আবদুল্লাহ সালেহ সরকারের পতন ঘটে। নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদ রাব্বু মানসুর হাদি দায়িত্ব নেন। নতুন সরকার গঠন হলেও ইয়েমেনের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব অব্যাহত থাকে।

বিবাদমান পক্ষগুলোর দ্বন্দ্বের জেরে ২০১৪ সালের শেষে ইরান সমর্থিত উত্তর ইয়েমেনের হাউছি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করলে প্রেসিডেন্ট হাদি সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি নেতৃত্বের জোট হাউছিদের বিরুদ্ধে ইয়েমেনে আগ্রাসন করলে দীর্ঘস্থায়ী গৃহযুদ্ধের মুখে পড়ে আরব উপদ্বীপের দরিদ্রতম দেশটি।

পাঁচ বছরের বেশি সময় চলমান এই গৃহযুদ্ধে হাউছি নিয়ন্ত্রিত সানাকেন্দ্রীক উত্তর ইয়েমেন ও বন্দর নগরী এডেনকেন্দ্রীক দক্ষিণাঞ্চলীয় সরকারের অধীন দক্ষিণ ইয়েমেনে বিভক্ত হয়ে পড়ে। যুদ্ধের ফলশ্রুতিতে দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হয়েছে ইয়েমেনে সাধারণ মানুষ।

জাতিসঙ্ঘের তথ্য অনুসারে, দেশটির মোট জনসংখ্যার অর্ধেক সংখ্যকই এই বছর দুর্ভিক্ষের কবলে পড়বে। এরই মধ্যে ক্ষুধায় দেশটিতে ৫০ হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছে।

সূত্র : আলজাজিরা



আরো সংবাদ