১৭ জানুয়ারি ২০২১
`

বিশ্বকাপের আগেই এতো সম্মান !

বিশ্বকাপের আগেই এতো সম্মান ! - সংগৃহীত

আরো দুই বছর পর কাতার বিশ্বকাপ। মানে ২০২২ সালে। তবে গতকাল ২৯ নভেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় পৌঁছানোর পর যেভাবে সম্মান করা শুরু কাতারি দায়িত্বশীলদের, তা ঠিক যেন বিশ্বকাপের আবহওই তৈরী করে দিয়েছে।

অবশ্য বাংলাদেশ থেকে আসা আমরা ১০/১২ ক্রীড়া সাংবাদিকের আসার উদ্দেশ্যই বিশ্বকাপের একটি অংশ কভার করা। অর্থাৎ বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব। গত বছরের নভেম্বর ওমানের সাথে কাতার বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের সর্বশেষ অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ। তবে ওমানী কর্তৃপক্ষের চেয়ে বেশ কড়াই দেখা গেল কাতারী কর্তৃপক্ষকে।

অবশ্য যখনই শুনেছে আমরা এসেছি কাতার- বাংলাদেশ বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচ কভার করতে তখনই ‘ওহ ফিফা’ বলেই ছাড়পত্র দিয়ে দিচ্ছে আমাদের। সাধারণত: এই ধরনের সম্মানটা পাওয়া যায় বিশ্বকাপ ফুটবল চলা কালে। যা পেয়েছিলাম, ২০১৪ সালের ব্রাজিল এবং ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের সময়।

চলমান বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের ম্যাচ গুলো কাতার বিশ্বকাপেরই একটি পরীক্ষামূলক পর্ব। তাই এখন থেকেই সব অভিজ্ঞতা অর্জন করছে তারা। অতিথিদের সম্মানের পর্বটাও শুরু হয়ে গেছে। কাতারে প্রবেশের সময় অবশ্যই প্রত্যেক বিদেশীকে কিনতে হবে মোবাইলের সিম। দোহায় বিমান থেকে নেমে বিমানবন্দরে প্রবেশের সময়ই কিনতে হয় সিম।

এরপর করোনা টেস্টের জন্য নমুনা দেয়া। এই দুই ক্ষেত্রেই আমাদের একটু বেশীই কদর করা হলো অন্যদের চেয়ে। তাৎক্ষনিক সিম কিনতে বাধ্য করার একটি উদ্দেশ্য, করোনা টেস্টের রিপোর্ট জানানো। যে মোবাইলের সিম কিনবেন তাদের অ্যাপস ডাউনলোড করতে হবে। তাছাড়া অতিথি ব্যক্তিকে নজরে রাখা। কোনো অন্যায় করে পার পাওয়ার কোনো সুযোগই নেই। মোবাইলের সূত্র ধরে অল্পক্ষনের মধ্যেই পুলিশ খুঁজে বের করবে। জানান স্থানীয় বাংলাদেশী ব্যবসায়ী জি এম হাজারী।

কাতারে প্রবেশের সময় সবাইকে দেখতে হয় হোটেল বুকিং দেয়ার কাগজ। এই হোটেল রিজার্ভেশন কাগজ ছাড়া কেউই ইমিগ্রেশন পার হতে পারবে না। আমাদের কাছে হোটেল রিজার্ভেশনের কোনো কাগজ ছিল না। শুধু বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন থেকে দেয়া চিঠিতে উল্লেখ আছে হোটেল ওয়ান্দহামের কথা। প্রথমে এই চিঠি মন গলাতে পারছিল না বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে। বারবারই বলা হচ্ছিল হোটেল বুকিং এর কাগজ কোথায় ? এরপরই যখন বলা হলো, আমরা বিশ্বকাপ বাছাই ম্যাচ কভার করতে এসেছি তখন সে একই শব্দ ‘ওহ ফিফা’।

অবশ্য দোহা বিমানবন্দরে সব কাজ শেষ হওয়ার পর কিছুক্ষনের জন্য আমাদের বসিয়ে রাখা হয়। কারন কাতার ফুটবল ফেডারেশনের দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তি রিসিভ করতে না এলে বের হতে দেয়া হবে না আমাদের। অবশেষে ফোনে যোগোযোগ করা হলে প্রায় ৩০/৩৫ মিনিট পর এসে হাজির কাতার ফেডারেশনের ভলিন্টিয়ারের কাজ করা মোহাম্মদ বশির। এরপর তার সাথে আমাদের বের হতে দেয়া।
বিমানবন্দরে ছবি তোলা নিষেধ।

এরপরও আমরা পেলাম ছবি তোলার অনুমতি। কাতার ফেডারেশনের দেয়া গাড়ীতে চড়েই আমরা মিনিট বিশেক পর পৌছালাম পাঁচ তারকা হোটেল ওয়ান্দহামে। পারস্য উপসাগরের একেবারে পাশে টর্নেডো টাওয়ার ও দোহা টাওয়ারের সামান্য (দুই মিনিটের হাঁটা পথ) দূরে হোটেল ওয়ান্দাহম দোহা ওয়েস্ট বে। একেবারে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সামনে। সেখানেও সেই সম্মান। এই হোটেলে অনেক বাংলাদেশী চাকুরী করে।



আরো সংবাদ


সকল