২৩ অক্টোবর ২০২০

প্রাচীন কূপে আড়াই হাজার বছরের পুরনো কফিনের সন্ধান

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কবর দেয়ার পর এগুলো কখনো খোলা হয়নি। - ছবি : বিবিসি

মিসরে প্রাচীন এক গোরস্থানে আড়াই হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে কবর দেয়া ২৭টি শবাধার বা কফিন উত্তোলন করা হয়েছে।

রাজধানী কায়রোর দক্ষিণে সাক্কারা এলাকার একটি পবিত্র স্থানে সদ্য সন্ধান পাওয়া কূপের ভেতরে পাথরের তৈরি এসব শবাধারের খোঁজ পাওয়া যায়।

কর্মকর্তারা বলছেন, এ মাসের শুরুর দিকে তোলা হয় ১৩টি কফিন। তার পরে আরো ১৪টি শবাধার মাটির নিচ থেকে ওঠানো হয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ববিদরা বলছেন, মিসরে এতো ব্যাপক সংখ্যায় শবাধার এর আগে খুব কমই তোলা হয়েছে।

কফিনগুলোর যেসব ছবি প্রকাশ করা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে এগুলো কাঠের তৈরি। এসবের গায়ে নানা রঙ দিয়ে নকশা আঁকা। এগুলোর সাথে ছোট ছোট বেশ কয়েকটি মামিও রয়েছে।

সাক্কারার এই সমাধিক্ষেত্রে তিন হাজার বছর ধরে লাশ কবর দেয়া হতো। এটি জাতিসঙ্ঘের বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য এলাকা বা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট।

‘প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, এসব কফিন পুরোপুরি বন্ধ এবং কবর দেওয়ার পর এগুলো কখনো খোলা হয়নি,’ মিসরের পুরাতত্ত্ব মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে শনিবার একথা বলা হয়েছে।

‘আরো গোপন কিছু’
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, পুরাতত্ত্ববিষয়ক মন্ত্রী খালেদ আল-আনানি এই কফিন খুঁজে পাওয়ার ঘোষণা দিতে বিলম্ব করেছেন। তিনি নিজে ওই গোরস্থানটি পরিদর্শন করে দেখার পর সদ্য আবিষ্কৃত এসব শবাধারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।

প্রত্নতত্ত্ববিদরা ৩৬ ফুট গভীর কূপের ভেতরে নেমে এসব কফিন উপরে নিয়ে আসেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কাজটি তাদের জন্য খুব একটা সহজ ছিলো না।

সাক্কারা গোরস্থানে খননকাজ এখনো চলছে। বিশেষজ্ঞরা এসব কফিনের বিষয়ে আরো তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

এসব কফিনে কবে, কাদের কবর দেয়া হয়েছে, কেন এগুলো কখনো খোলা হয়নি- এসব প্রশ্নকে ঘিরে যেসব রহস্য তৈরি হয়েছে কর্মকর্তারা এখন সেসব ভেদ করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

মন্ত্রণালয় বলছে, তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে এসব কফিনের রহস্য ভেদ করার পর সেগুলো সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

এসব কফিনের পাশাপাশি কূপের ভেতর থেকে আরো যেসব পুরাতাত্ত্বিক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে সেগুলোও খুব সুন্দর নকশা করে তৈরি, গায়ে রঙ করাও।

এর আগে ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে প্রত্নতত্ত্ববিদরা সাক্কারার স্টেপ পিরামিডের কাছ থেকে মামি করা বেশ কিছু প্রাণীর সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল।

এসব প্রাণীর মধ্যে রয়েছে বিড়াল, কুমির, গোখরা সাপ এবং পাখি।

রাজধানী কায়রো থেকে ৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে এই সাক্কারা।

প্রাচীন মিসরের রাজধানী মেমফিসের লোকজন এই এলাকাটিকে তাদের গোরস্থান হিসেবে ব্যবহার করতো।

পর্যটন শিল্পকে চাঙ্গা করতে মিসরে সম্প্রতি এধরনের পুরাকীর্তি খুঁজে বের করার ওপর জোর দেয়া হয়েছে।

সূত্র : বিবিসি


আরো সংবাদ

ঢাকা-১৮ থেকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন শুরু : জাহাঙ্গীর শুধু কথা বলার কারণে সংগ্রাম সম্পাদক ও সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হয়েছে : ডা: জাফরুল্লাহ দেশে করোনায় আরো ১৪ জনের মৃত্যু খালেদা জিয়াই হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রকৃত বন্ধু : খোরশেদ করোনায় স্থগিত সিএএফ চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সেমি-ফাইনাল নিম্নচাপটি আজ সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ উপকূল অতিক্রম করতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পত্তিতে মহামারীর কামড়!‌ ধনী হয়ে উঠল চীন ও ভারত :‌ রিপোর্ট রাঙ্গাবালীতে স্পিডবোট ডুবির ঘটনায় এখনো নিখোঁজ ৫ ভারত নোংরা : ট্রাম্প বৈরী আবহাওয়ায় সেন্টমার্টিনে আটকা পড়েছেন চার শতাধিক পর্যটক কারাবাখ যুদ্ধে প্রায় ৫ হাজার লোক প্রাণ হারিয়েছে : পুতিন

সকল