০৪ জুলাই ২০২০

ইসরাইলের দখলের বিরুদ্ধে যা করতে যাচ্ছে আরব বিশ্ব

অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও ভূরাজনৈতিক আগ্রহকে মাথায় রেখে আস্তে আস্তে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করছে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ৷ কিন্তু ইসরাইলের পশ্চিম তীর অধিগ্রহণকে কীভাবে দেখবে আরব বিশ্ব, সে বিষয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা৷

আগামী ১ জুলাই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের ৩০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করার লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ নিতে যাবেন বলে জানা গেছে৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত এই চাল সারা বিশ্বজুড়ে নানামুখী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে৷

ফিলিস্তিনের পক্ষে থাকা আরব লীগও জানিয়েছে যে এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে এই অঞ্চলের ভেতরে-বাইরে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে ধর্মীয় যুদ্ধের আঁচ৷ পাশাপাশি, জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ মে মাসে জার্মান সংবাদপত্র ডেয়ার স্পিগেলকে জানিয়েছেন যে ইসরাইল এই অধিগ্রহণের পথে অনড় থাকলে ব্যাপক গণ্ডগোল বাধতে পারে৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আরব আমিরাতের দূত ইউসেফ আল-ওতাইবাও মনে করেন যে এই পদক্ষেপ আরব-ইসরাইল সম্পর্কের স্বাভাবিকত্বে আঘাত হানতে পারে৷

আংশিক অধিগ্রহণ
জেরুসালেমে মার্কিন কনসুল জেনারেল জেক ওয়ালেস এবিষয়ে বলেন, ‘‘ইসরাইল থেকে পাওয়া খবর থেকে আমরা জেনেছি যে আরব দেশগুলোর প্রতিক্রিয়ার জেরে সম্পূর্ণ অধিগ্রহণের বদলে আংশিক অধিগ্রহণের পথে হাঁটছে তারা৷’’

ওয়ালেসের মতে, আরব দেশগুলোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতেই এমন পদক্ষেপ৷ এই অধিগ্রহণ যদি ১৯৬৭ সালের তথাকথিত সীমান্ত মেনে করা হয়, যা আন্তর্জাতিক মতানুসারে অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চল ও ইসরাইলের সীমান্তও (সম্পাদকের নিজস্ব মতামত), তাহলে এর প্রত্যুত্তরে জর্ডান নানা বিধিনিষেধ আরোপ করতে পারে, জানান তিনি৷

এর আগে মার্কিন-ইসরাইলের অধিগ্রহণ বিষয়ক সিদ্ধান্তে ফিলিস্তিনের বন্ধু হিসেবে পরিচিত আরব দেশগুলোর বিরোধিতা নজরে আসলেও তা ছিল তুলনামূলকভাবে ক্ষীণ৷ এর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ইসরাইলের সাথে এই দেশগুলির ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুসম্পর্কের কথা৷

এবিষয়ে ইসরাইল ফোরাম ফর রিজিওনাল থিংকিঙের গবেষক এলিজাবেথ সুরকভ বলেন, ‘‘আরব দেশগুলো এতদিন ধরে যা করে এসেছে তারই ফসল এই দুর্বল প্রতিরোধ৷ ফিলিস্তিনিদের ওপর অসহনীয় সামরিক অত্যাচারের সময়েও ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে লেগেছিলেন তারা৷’’

দ্বিধাবিভক্ত মধ্যপ্রাচ্য
জর্ডান ও অন্যান্য আরব দেশগুলো যদি ইসরাইলের এই পদক্ষেপের বিরোধিতায় অনড় থাকে, তাহলে তা ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষকে আরো কড়া হতে উৎসাহ দেবে৷ পাশাপাশি, গাজা অঞ্চলে হামাসের কার্যকলাপ বাড়িয়ে ইসরাইলকে কড়া বার্তা দেওয়া সম্ভব হবে৷

কিন্তু ইসরাইলের তিন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক প্রধান ফরেন পলিসি পত্রিকায় একটি প্রতিবেদনে আরব দেশগুলোর উদ্দেশ্যে সাবধানবাণী দিয়েছেন৷ তাদের মত, বিরোধিতার পথে থাকলে এরপর কূটনৈতিক রাস্তায় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা কমবে৷

এর মধ্যে, বর্তমান অবস্থাকে আরো জটিলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের বিষয়টি৷ কড়া পদক্ষেপের ফলে যদি বড় সংখ্যায় শরণার্থীরা জর্ডানের সীমান্তে এসে পৌঁছান, তাহলে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে বলে অনেকের ধারণা৷

জেক ওয়ালেসের বক্তব্য, ‘‘রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহর ওপর এখন একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের সম্পর্ক বজায় রাখা ও অন্যদিকে নিজের দেশের নাগরিকদের পক্ষ থেকে উঠে আসা ফিলিস্তিনপন্থি আওয়াজের চাপ৷ এটাই হয়ত জর্ডানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগ্রহণের সময়৷’’ ডয়চে ভেলে


আরো সংবাদ

চীনের বিরুদ্ধে যুদ্ধপ্রস্তুতি অস্ট্রেলিয়ার! (১৪৬৪৯)ভারতকে জবাব দিতে সীমান্তে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র মোতায়েন চীনের (১৪৪৮৯)লাদাখ সীমান্তে পাকিস্তানের ২০ হাজার সেনা মোতায়েন : ফিরে ফেলা হচ্ছে ভারতকে? (১৩৫০৯)বাংলাদেশে করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের দাবি, বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন (৭৪২১)দেশে করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ঘোষণা দিল গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড (৫৮৭০)নিজেকে আক্রান্ত মনে হলে যা করবেন (৫৩৭১)রূপগঞ্জে ব্যবসায়ীকে হত্যার পর লাশ ড্রামে ভরে সিমেন্টের ঢালাই, ৯০ দিন পর উদ্ধার (৪৭২৯)চিকিৎসকদের ২০ কোটি টাকা খরচের যে হিসাব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ (৪৬০৬)সিরিয়া নিয়ে আবারো আলোচনায় তুরস্ক-ইরান-রাশিয়া (৪১৮৭)এসিডপানে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু (৩৭৯৫)