৩১ মার্চ ২০২০

ইরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দায় স্বীকার নতুন সশস্ত্রগোষ্ঠীর

ইরাকে অবস্থিত মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের ঘাঁটিতে রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে নতুন এক সশস্ত্রগোষ্ঠী। সংগঠনটির নাম রিভলিউশনারি লিগ। গত বুধবার (১৮ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে দেয়া এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে মার্কিন জোটের ঘাঁটিতে রকেট হামলা চালানোর সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে এই সংগঠন।

বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। ইরানের সাথে আবারো দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্য দিকে আবার সিরিয়ায় মার্কিন বাহিনীর সাথে বিরোধে জড়িয়েছে রুশ সেনারা। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে নতুন সশস্ত্রগোষ্ঠীটি। এই সশস্ত্রগোষ্ঠীকে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাদের জন্য নতুন আতঙ্ক বলে ভাবা হচ্ছে। গত ১১ মার্চ ইরাকে অবস্থিত মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের তাজি ঘাঁটিতে রকেট হামলা চালানো হয়। এতে দু’জন মার্কিন ও একজন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন। এ হামলার জন্য দীর্ঘ দিনের শত্রু ইরানকে দায়ী করে মার্কিন প্রশাসন। এ জন্য প্রতিশোধ নিতে সিরিয়া ও ইরাকে ইরানি কমান্ডার ও যোদ্ধাদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। তবে তাতে ইরানের বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এরপর শনিবার (১৪ মার্চ) ইরাকের তাজি ঘাঁটিতে ফের অভিযান চালায় মার্কিন জোটের বিরোধীরা। এ দিন মার্কিন জোটের তাজি ঘাঁটিতে ৩৩টি রকেট নিক্ষেপ হয়েছে। তাও আবার দিনের বেলাতেই। যথারীতি এবারো ইরানকেই দায়ী করে মার্কিন প্রশাসন।

তবে ইরান শুরু থেকেই এ ব্যাপারে চুপ ছিল। এসব হামলার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়াই জানায়নি তেহরান। তাই কারা এই হামলা চালিয়েছে তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল নানান রহস্য। বুধবার (১৮ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে দেয়া এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে মার্কিন জোটের ঘাঁটিতে রকেট হামলা চালানোর সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে রিভ্যুলিউশনারি লিগ নামে এই সশস্ত্র সংগঠন। পাশাপাশি ওই ভিডিও বার্তায় মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালানো অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে রিভ্যুলিউশনারি লিগ। তারা বলেছে, শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্য না ছাড়লে সেখানে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।

এ দিকে রিভ্যুলিউশনারি লিগ সম্পর্কে এখনো সুস্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এতটুকু জানা গেছে, রিভ্যুলিউশনারি লিগ তৈরি হয়েছে অনেক আগে। তবে এত দিন অনেকটাই নিষ্ক্রিয় ছিল এই সশস্ত্রগোষ্ঠীর সদস্যরা। আর তাদের লক্ষ্য মূলত হামলার মাধ্যমে ইরাক ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোতে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করা।

পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলোর দাবি, হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো রিভ্যুলিউশনারি লিগের উত্থানের পেছনেও ইরানের প্রভাব রয়েছে। এমনকি এই সশস্ত্রগোষ্ঠীর সদস্যদের সাথে ইরানের কৌশলগত সম্পর্কও রয়েছে। আর ইরানের উসকানিতেই মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে রিভ্যুলিউশনারি লিগ। তবে ইরানের নেতারা এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি। তা ছাড়া পাঠানো ভিডিও বার্তায় ইরানের সাথে সম্পৃক্ততার ব্যাপারে কিছুই বলেনি রিভ্যুলিউশনারি লিগ। সূত্র : মিডলইস্ট মনিটর


আরো সংবাদ