২০ সেপ্টেম্বর ২০২০

ওবামার সাথে চুক্তি করিনি যে ট্রাম্পের সাথে পরিবর্তন করতে হবে : ইরান

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ - সংগৃহীত

ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ২০১৬ স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতার পরিবর্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত নয়া সমঝোতা মেনে নেয়ার জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী যে আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে চুক্তি করেনি যে তার ক্ষমতা হারানোর সঙ্গে সঙ্গে চুক্তিটি বাতিল হয়ে যাবে।

জারিফ নিজের অফিসিয়াল টুইটার পেজে লিখেছেন,‘আমরা কোনো ‘ওবামীয় চুক্তি’ করিনি যে সেটিকে এখন ‘ট্রাম্পীয় চুক্তির’ সঙ্গে পরিবর্তন করতে হবে। আজ যদি আমরা তা করি তাহলে কে আমাদেরকে এই গ্যারান্টি দিতে পারবেন যে, আগামী বছর আমাদেরকে আবার ‘বাইডেনীয়’, বা ‘স্যান্ডার্সীয়’ কিংবা ‘ওয়ারেনীয়’ চুক্তি সই করতে হবে না?’ চলতি বছরের শেষদিকে অনুষ্ঠেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য তিন প্রার্থীর নাম উল্লেখ করে জারিফ এ মন্তব্য করেন।

তিনি আরো বলেন, ইরান সংলাপ ও কূটনীতিতে বিশ্বাসী। কিন্তু ছয় বিশ্বশক্তি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যে প্রস্তাব পাস হয়েছে সে ব্যাপারে তেহরান আবার আলোচনায় বসতে প্রস্তুত নয়।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন পরমাণু সমঝোতার পরিবর্তে একটি ‘ট্রাম্প ডিল’ বা ‘ট্রাম্পীয় সমঝোতা’ মেনে নেয়ার আহ্বান জানানোর একদিন পর জারিফ এ প্রতিক্রিয়া জানালেন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য পরে জনসনের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জানিয়েছে, তিনি একথা বোঝাতে চেয়েছেন যে, যদি ওয়াশিংটন ও তেহরান সম্মত হয় তাহলে পরমাণু সমঝোতার পরিবর্তে তুলনামূলক একটি ভালো চুক্তি করা যেতে পারে। দিনের শেষ মার্কিন প্রেসিডেন্ট এক টুইটার বার্তায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একমত প্রকাশ করে বলেন, ইরানের বর্তমান পরমাণু সমঝোতার জায়গায় একটি ‘ট্রাম্পীয় চুক্তি’ সই করা যেতে পারে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী জনসন এতদিন পরে এসে যে কথাটি বলেছেন সে কথা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই বলে এসেছেন। ট্রাম্প ২০১৮ সালের মে মাসে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে তিনি এর চেয়ে ভালো চুক্তি সই করবেন। কিন্তু তেহরান তখন থেকে বলে এসেছে, বর্তমান পরমাণু সমঝোতার প্রতিটি শব্দ নিয়ে দর কষাকষি করে কয়েক বছরের প্রচেষ্টায় এটি অর্জিত হয়েছে। কাজেই এ ব্যাপারে এমনকি আলোচনা করতেও প্রস্তুত নয় ইরান। সূত্র : পার্সটুডে।


আরো সংবাদ