০৩ আগস্ট ২০২০

মার্কিন সিদ্ধান্তের পর জেরুসালেমে বসতি বাড়াচ্ছে ইসরাইল

-
24tkt

ইসরাইল গত বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে যে জেরুসালেমের উত্তরে ১১ হাজার অবৈধ আবাসন ইউনিট অনুমোদন দেয়া হবে। ফিলিস্তিনের দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতিকে বৈধতা দেয়ার মার্কিন সিদ্ধান্তের কয়েক সপ্তাহ পরে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কঠোর-ইসরাইলি দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের ধারাবাহিক পদক্ষেপের সর্বশেষ ঘটনা ফিলিস্তিনে ইসরাইলি বসতিকে বৈধতা দান। এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেয়া ইসরাইলপন্থী পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম। মিডল ইস্ট মনিটরের রিপোর্ট অনুযায়ী, নতুন বসতি ইউনিটগুলো দখলকৃত জেরুসালেমের উত্তরে অবৈধ আটারোট শিল্প বসতিতে ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন ৬০০ ডুনামস (৫৪ হাজার বর্গমিটার) জায়গার ওপরে নির্মিত হবে।

ইসরাইল টুডে পত্রিকার মতে, বেশ কয়েক বছর আগে তৈরি করা এই পরিকল্পনাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আপত্তিসহ ‘অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলগুলোতে বসতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক চাপের কারণে’ আটকে দেয়া হয়েছিল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ১৮ নভেম্বর ঘোষণা করেন, ১৯৭৮ সালের স্টেট ডিপার্টমেন্টের আইনি মতামতকে প্রত্যাখ্যান করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের প্রশাসন ইসরাইলের বসতি স্থাপন নীতিকে অবৈধ বলেছিল। এই মতামতটি ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইসরাইলি বসতি নির্মাণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা করার ভিত্তি ছিল। অবশ্য জিমি কার্টারের উত্তরসূরি রোনাল্ড রিগ্যান জিমির সেই নীতির প্রকাশ্য বিরোধিতা করেন।

বসতিগুলো অবৈধ ছিল না বললেও রোনাল্ড রিগ্যান এগুলোকে উসকানিমূলক বলেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক প্রেসিডেন্ট বসতি নির্মাণকে শান্তি আলোচনার প্রতিবন্ধকতা হিসেবে এর সমালোচনা করলেও সেটিকে তারা অবৈধ বলতে রাজি হননি। ‘অবৈধ’ ও ‘শান্তিতে বাধা’ বলেও অভিহিত করেছিলেন অনেকে।

ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘ দিন ধরে যুক্তি দিচ্ছে যে, ইসরাইলি জনবসতিগুলো তাদের একটি কার্যকর ও স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবির পরিপন্থী। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলগুলোতে সব ইসরাইলি জনবসতিকে অবৈধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথে একটি বড় বাধা হিসেবে বিবেচনা করে।

১৯৬৭ সালে ইসরাইলের দখল করা অঞ্চলটি সার্বভৌম ইসরাইলের অঞ্চল নয়, ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলি নাগরিক নয় এবং তাদের ভোট দেওয়ার অধিকার নেই। আজও পূর্ব জেরুসালেমে প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার ইহুদি বাস করে। পূর্ব জেরুসালেমের বেশির ভাগ তথা ৩ লাখ ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি বাসিন্দা ক্রমবর্ধমান জনাকীর্ণ এলাকাগুলোতে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে যেখানে জায়গা খুব কম।

পিস নাউ জানিয়েছে, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রথম দুই বছরে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ পূর্ব জেরুসালেমের বসতিগুলোতে এক হাজার ৮৬১ আবাসন ইউনিটকে অনুমোদন দিয়েছে। এটি আগের দুই বছরে অনুমোদিত এক হাজার ১৬২ এর তুলনায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যানগুলোতে দেখা যায় যে বসতি স্থাপনের জন্য এক হাজার ৮১ জনকে অনুমতি দেয়া হয়েছিল শুধু ২০১৭ সালেই, যা ২০০০ সালের পরে বছরে অনুমোদন প্রাপ্ত সর্বোচ্চ সংখ্যা। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ফিলিস্তিনিদের জন্য মোট এক হাজার ২৩৩ আবাসন ইউনিট অনুমোদিত হয়েছিল।

এ দিকে আলজাজিরা জানায়, দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর গুলিতে ১৬ বছরের এক ফিলিস্তিনি কিশোর প্রাণ হারিয়েছে। আহত হয়েছে আরো পাঁচজন। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত শুক্রবার গাজা উপত্যকার দক্ষিণাঞ্চল খান ইউনুসের কিশোর ফাহাদ আল আসতালকে পেটে গুলি করে হত্যা করে ইসরাইলের সেনারা।

টানা এক যুগের ইসরাইলি অবরোধে পৃথিবীর বৃহত্তম উন্মুক্ত কারাগারে রূপান্তরিত হয়েছে গাজা উপত্যকা। অবরোধ প্রত্যাহারের দাবিতে গত বছর থেকে সীমান্তে প্রতি শুক্রবার সাপ্তাহিক বিক্ষোভ করে আসছেন ফিলিস্তিনিরা। তখন থেকে এ পর্যন্ত সেখানকার বেসামরিক অঞ্চলে ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে ৩৪৮ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছে কয়েক হাজার।

ইসরাইলি সীমান্তে গত শুক্রবারের সাপ্তাহিক বিক্ষোভ আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়েছিল। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তবে সেখানে কিছু ফিলিস্তিনি যুবক জড়ো হয়েছিল। পরে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় ইসরাইলি বাহিনী। ইসরাইলি সেনাসূত্র জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। গাজার শাসক দল হামাসের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পরিকল্পনা এবং ফিলিস্তিনিদের ব্যবহার করে হামলা চালানোর অভিযোগ করছে ইসরাইল। ২০০৮ সালের পর থেকে হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে এ পর্যন্ত তিনটি যুদ্ধ হয়েছে।


আরো সংবাদ

সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে গুলি করে হত্যা : পুলিশের ২১ সদস্য প্রত্যাহার (১৩৬৯৪)আজারবাইজানে ঢুকেছে তুর্কি জঙ্গিবিমান; যৌথ মহড়া শুরু (৮৮৬৫)ভারতের যেকোনো অপকর্মের কঠিন জবাব দেয়ার হুমকি দিলো পাকিস্তান (৭৭০৪)হামলায় মার্কিন রণতরীর ডামি ধ্বংস না হওয়ার কারণ জানালো ইরান (৭৫৭১)অবশেষে ১৪ লাখ টাকায় বিক্রি হলো সেই ‘ভাগ্যরাজ’ (৬৪৪৭)আমিরাতের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে কেন সন্দিহান ইরান-কাতার? (৬৩৯৬)লিবিয়া ইস্যুতে তুরস্ক ও আমিরাতের মধ্যে তুমুল বাগযুদ্ধ (৬৩৯৬)হিজবুল্লাহর জালে আটকা পড়েছে ইসরাইল! (৫৯২৩)ভারত-চীন সীমান্তের নতুন স্থানে চীনা বাহিনীর অবস্থান, আতঙ্কে ভারত (৫৪৭৯)পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি (৫১৯১)