৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯, ৩ রবিউল আওয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

১৭ আগস্ট বোমা হামলা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল


২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে নিষিদ্ধ সংগঠন জামআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) বোমা হামলায় আনা সব মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।

সিরিজ বোমা হামলার ওই ঘটনার পর দেশে ১৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে এ ঘটনার ১৭ বছরে সব মামলারই তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে পুলিশ।

সেদিন ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলা চালায় জেএমবি। দেশের নিম্ন আদালত প্রাঙ্গণসহ পাঁচ শ’টি স্পটে এ সিরিজ বোমা হামলায় দু’জন নিহত এবং কমপক্ষে ১০৪ জন আহত হয়েছিলেন। আজ বুধবার ১৭ আগস্ট সেই সিরিজ বোমা হামলার ১৭ বছর পূর্ণ হলো।

নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতেই সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলা চালায় জেএমবি। বোমা হামলায় ঝালকাঠিতে দু’জন বিচারক নিহত হন।

পুলিশ সদর দফতরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় ১৫৯টি মামলার মধ্যে ডিএমপিতে ১৮টি, সিএমপিতে আটটি, আরএমপিতে চারটি, কেএমপিতে তিনটি, বিএমপিতে ১২, এসএমপিতে ১০, ঢাকা রেঞ্জে ২৩, চট্টগ্রাম রেঞ্জে ১১, রাজশাহী রেঞ্জে সাত, খুলনা রেঞ্জে ২৩, বরিশাল রেঞ্জে সাত, সিলেট রেঞ্জে ১৬, রংপুর রেঞ্জে আট, ময়মনসিংহ রেঞ্জে ছয় এবং রেলওয়ে রেঞ্জে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়।

এসব মামলার মধ্যে ১৪৩টি মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেয়া হয়। বাকি ১৬টি মামলায় ঘটনার সত্যতা থাকলেও আসামি শনাক্ত করতে না পারায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়।

মামলাগুলোতে ১৩০ জন এজাহারনামায় আসামি ছিলেন। বিভিন্ন অভিযানের মাধ্যমে মোট ৯৬১ জনকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছিল এক হাজার ১৩১ জনকে।

অভিযোগপত্রের আসামিদের মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছিল এক হাজার ২৩ জনকে। আসামিদের মধ্যে ৩২২ জনের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে। ১৫ জনের ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। এসব মামলায় খালাস পেয়েছেন ৩৪৯ জন আর জামিনে আছেন ১৩৩ জন।

সিরিজ বোমা হামলার পর পরই সারাদেশে জেএমবি বিরোধী অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। অভিযান গ্রেফতার করা হয় জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম (বাংলা ভাই), আতাউর রহমান সানি, খালেদ সাইফুল্লাহসহ সাড়ে চার শ’ সদস্যকে। ঝালকাঠিতে বোমা হামলায় দুই বিচারককে হত্যা মামলায় ২০০৭ সালে ফাঁসি কার্যকর করা হয় জেএমবির শীর্ষ এ নেতাদের।

১৯৯৮ সালে সংগঠনটি দেশব্যাপী তাদের কার্যক্রম শুরু করে। তবে দলটির প্রকাশ্য তৎপরতা শুরু হয় ২০০৩ সালের প্রথমদিকে। পরে ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩ জেলায় সিরিজ বোমা হামলা ও ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে দুই বিচারককে হত্যার মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসে এ সংগঠনটি।

জেএমবির শুরা কমিটির প্রধান সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, আধ্যাত্মিক নেতা শায়খ আবদুর রহমান, অপারেশন কমান্ডার আতাউর রহমান সানি, খালেদ সাইফুল্লাহসহ শীর্ষ ছয় জনের ফাঁসি ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ কার্যকর হওয়ার পর আত্মগোপনে যায় সংগঠনের অন্য নেতা-কর্মীরা।

পুলিশের কাউন্টার টোরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) রাজধানীসহ সারাদেশে তাদের বিভিন্ন আস্তানায় অভিযান চালায়। তাদের তৎপরতার মুখে জেএমবি’র তৎপরতা সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয়েছেন। অনেকে আবার ধরা পড়ছেন।

সূত্র : বাসস


আরো সংবাদ


premium cement
ছেলেকে নিয়ে যা জানালেন বুবলি ও সাকিব পাইপলাইনে নাশকতা ‘আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের’ উদাহরণ : এরদোগানকে পুতিন আফগানিস্তানের কাবুলে বিস্ফোরণ, নিহত ১৯ আহত ২৭ আড়াই বছর আগে শাকিবের সন্তানের মা হয়েছেন বুবলী আধিপত্য বিস্তারে ২ ডাকাত গ্রুপের সংঘর্ষ, নিহত ৩ হালুয়াঘাটে বন্য হাতির তাণ্ডব থামছেই না : এবার বিনষ্ট করলো বসতঘর বিশ্বজুড়ে করোনায় মৃত্যু সাড়ে ৬৫ লাখ ছুঁইছুঁই সাফজয়ী ফুটবলারদের নামে সেতু ইউক্রেনের জন্য আরো ১২ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা মার্কিনিদের আজারবাইজানকে ঠেকাতে আর্মেনিয়াকে ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে ভারত বিএনপির দুর্নীতি-দুঃশাসন বিদেশীদের কাছে তুলে ধরতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

সকল