০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

আবরার হত্যার রায় শুনতে অপেক্ষায় ছিলেন মা, রায় ঘোষণা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ পরিবার

আবরার হত্যার রায় শুনতে অপেক্ষায় ছিলেন মা, রায় ঘোষণা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ পরিবার - ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায় হওয়ার কথা ছিল আজ। সকাল থেকেই সব কাজ শেষ করে টিভির পর্দার সামনে আবরার হত্যার মামলার রায় শোনার অপেক্ষায় ছিলেন ছেলেহারা মা।

কিন্তু দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আবরারের বাবার ফোনে জানতে পারেন আজ নয় রায় ঘোষণা হবে আগামী ৮ ডিসেম্বর। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। দুপুর ১২টায় তিনি টিভির সামনে বসেন। খবরের শুরুতেই আবরারের খবর দেখে চোখে পানি ধরে রাখতে পারেননি তিনি। টিভিতে ছেলের হত্যাকারীদের পুলিশ আদালতে নিয়ে যচ্ছে সেই দৃশ্যটি তিনি দেখেন। টিভির খবরের শুরুতেই দু’চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল আবরারের মায়ের। পাশে ছিল আবরারের ছোট ভাই ফায়াজ, কাকা আমিরুল ইসলাম, মামা আব্দুল কাদের ও কাকী ও মামী বসে ছিলেন।

সোয়া ১২টার দিকে ফাইয়াজের মোবাইলে ফোন আসে আবরারের বাবার। ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণ থেকে আবরারের তিনি জানান, ‘আজ আর রায় ঘোষণা হলো না, আগামী ৮ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা হবে।’ এ খবর শুনে রুমে থাকা আবরারের মা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকেন।

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘বড় আশা করছিলাম আজ আবরারের রায় হবে। খুনিদের উপযুক্ত শাস্তির কথা শুনবো। কিন্তু রায় না হওয়ায় আমরা সাংঘাতিক কষ্ট পেলাম। তিনি বলেন, আশা করছি ৮ ডিসেম্বর রায় ঘোষণা হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির রায় হবে।’

তিনি আরো বলেন, আসামিদের শাস্তি হওয়ার দরকার যাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর এ ধরনের হত্যাকাণ্ড যেন সংগঠিত না হয়। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আইনমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট আদালতে বিচারকের প্রতি উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান।

আবরারের ভাই ফায়াজ জানান, রায় ঘোষণা না হওয়ার কারণ বলতে পারবো না। তবে রায় যখনই হোকে উপযুক্ত শাস্তির রায় হবে বলে আশা রাখি। আজ রায় ঘোষণা না হওয়ায় আমরা দারুনভাবে মর্মাহত।

আবরার ফাহাদের মা নয়া দিগন্তকে বলেন, আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, হয়তো আদালতের সম্পূর্ণ রায় প্রস্তুত না হওয়ায় ঘোষণা করা হয়নি। আদালতের ওপর আমাদের বিশ্বাস আছে, আসামিদের উপযুক্ত সর্বোচ্চ শাস্তি হবে। তিনি বলেন, আমরা চাই তাদের দৃষ্টান্তমূলক একটা শাস্তি হোক যাতে আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে।


আরো সংবাদ


premium cement