০৫ মার্চ ২০২১
`

জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলা থেকে এরশাদকে অব্যাহতি

জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলা থেকে এরশাদকে অব্যাহতি - ফাইল ছবি

চল্লিশ বছর আগে এক ব্যর্থ সৈন্য অভ্যুত্থানের পর জেনারেল মঞ্জুরকে হত্যা মামলা থেকে মরহুম প্রেসিডেন্ট এরশাদকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে ওই ব্যর্থ অভ্যুত্থানে নিহত হন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। আর এর কয়েক দিন পর হত্যা করা হয় সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে।

এ মামলার তদন্ত এবং বিচারকাজ অনেকদূর এগিয়ে যাওয়ার পরও এক সম্পূরক চার্জশিটে জেনারেল এরশাদ ও আরেকজন অভিযুক্ত জেনারেল আব্দুল লতিফকে তাদের মৃত্যুর কারণে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জেনারেল মঞ্জুর হত্যা মামলায় আদালত অধিকতর তদন্তের ব্যাপারেও আদেশ দিয়েছিল ২০১৪ সালে। এখন এসে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সম্পূরক চার্জশিট দিলো। এই অধিকতর তদন্তের মাঝেই জেনারেল এরশাদ ও আরেকজন অভিযুক্ত অবসপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আব্দুল লতিফ মারা গেছেন। ফলে এই দু'জনকে অব্যাহতি দেয়া হলো সম্পূরক চার্জশিটে।

সিআইডি পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্পূরক চার্জশিট ঢাকার দায়রা জজ আদালতে পেশ করা হয়েছে।

অবসরপ্রাপ্ত মেজর কাজী এমদাদুল হকসহ তিনজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা যারা আগে অভিযুক্ত ছিলেন, তাদের সম্পূরক চার্জশিটেও অভিযুক্ত হিসেবে রাখা হয়েছে। কিন্তু ২০১৪ সালেই মামলাটির বিচার কার্যক্রম যুক্তিতর্ক পর্যন্ত হয়েছিল অর্থাৎ একেবারে শেষ পর্যায়ে গিয়েছিল। ওই সময়ই অধিকতর তদন্তের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।

মামলায় সরকার পক্ষের আইনজীবী আসাদুজ্জামান রচি বলছেন, ‘সাক্ষী নেয়ার একপর্যায়ে দেখা গেছে জেনারেল মঞ্জুরের স্ত্রী ও মেয়ে প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। কিন্তু তাদের সাক্ষী করা হয়নি। ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে তাদের সাক্ষী করার জন্য আমরা আদালতের কাছে অধিকতর তদন্তের আবেদন করেছিলাম। আদালত তা মঞ্জুর করে অধিকতর তদন্তের আদেশ দিয়েছিল।‘

মামলার এজাহারে বলা রয়েছে, ১৯৮১ সালের ১ জুন জেনারেল মঞ্জুরকে পুলিশের হেফাজত থেকে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে নেয়ার পর তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনার ১৪ বছর পর ১৯৯৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানায় জেনারেল মঞ্জুরের ভাই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী সিআইডি পুলিশের সাবেক কর্মকর্তা আব্দুল কাহার আকন্দ বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের কারণেই আদালত অধিকতর তদন্তের আদেশ দিয়েছিল। এখন মামলার বিচার কার্যক্রম আবার এগিয়ে নেয়া যেতে পারে। যেহেতু মামলার সাক্ষী নিয়ে একটি বিষয় ছিল। সেটাতো ঠিক হয়েছে। এখন কোনো জটিলতা নেই। এরশাদ সাহেব নেই। কিন্তু বাকি তিনজন অভিযুক্ত আছে। ফলে বিচার কাজ শেষ করতে পারে।’

তবে অভিযুক্তদের পক্ষের একজন আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মামলাটির তদন্ত এবং বিচার কাজ চলার সময় কয়েকবার সরকার বদল হয়েছে। ওই সরকারের সময় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে দফায় দফায় সময়ের আবেদনের কারণে বছরের পর বছর মামলার কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এই আইনজীবী বলেছেন, মূল অভিযুক্ত জেনারেল এরশাদের মৃত্যুর পর এখন সম্পূরক চার্জশিট দেয়া হলেও মামলাকে সরকার পক্ষ কতটা গুরুত্ব দেবে-তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আসাদুজ্জামান রচি বলেন, ‘অন্য অভিযুক্ত যারা আছে, তাদের বিচার তো শেষ করতে হবে। তা এখন করা হবে।’

এ দিকে অবসরপ্রাপ্ত কাজী এমদাদুল হকসহ তিনজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা যারা শেষপর্যন্ত সম্পূরক চার্জশিটেও অভিযুক্ত রয়েছেন, তাদের সকলেই জামিনে মুক্ত আছেন।

সূত্র : বিবিসি



আরো সংবাদ