২১ অক্টোবর ২০২০

ভিপি নুরের মামলার এজহারে যা আছে

ভিপি নুরের মামলার এজহারে যা আছে - ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের ১১ তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থী। ২১শে সেপ্টেম্বর বিকেলে রাজধানীর কোতয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে এই মামলা দায়ের করা হয়। 

মামলার এজহারে বাদী উল্লেখ করেন, মামলার দুই নম্বর আসামি বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহবায়ক হাসান আল মামুন একই ডিপার্টমেন্টের ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী হওয়ায় ও বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকারের সুবাদে বড় ভাই হিসেবে ২০১৮ সালের জুলাই মাসের ২৯ তারিখ পরিচয় হয়। ডিপার্টমেন্টের বড় ভাই হওয়ার সুবাধে তার সাথে কথা বার্তার এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে।

এরই ধারাবাহিতায় বাদীর সাথে আসামি হাসান আল মামুন এর সাথে ম্যাসেঞ্জার, হটসঅ্যাপ ও ইমোতে কথা হয়। সেখানে মামুন বিভিন্ন সময় শারীরিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেয়। ফলশ্রুতিতে এ বছর মার্চের ২ তারিখ আনুমানিক দুপুর ২টায় নবাবগঞ্জ এর বড় মসজিদ রোড, ১০৪, লালবাগ এলাকায় বাদীকে যেতে বলেন। বাদী সেখানে গেলে মামুন তার বাসায় নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর এপ্রিলের ১ তারিখ বাদী অসুস্থ হয়ে পরলে মামলার এক নম্বর আসামি ও হাসান আল মামুনের বন্ধু নাজমুল হাসান সোহাগের মাধ্যমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়।

বিষয়টি বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হলে বাদী তার ক্যাম্পাস কো-অডিনেটরদের সাথে যোগাযোগ এর চেষ্টা করেন যা হাসান আল মামুনের নির্দেশে ১ নং আসামি নাজমুল হাসান সোহাগ সফল হতে দেয়নি। বরং বাদী যেনো হাসপাতালে অবস্থান করতে না পারে সেজন্য অপচেষ্টা চালায়। যা বাদীর প্রাণনাশ এর কারন হতে পারতো বলে বাদী মামলায় উল্লেখ করেন।

বাদী মামলায় আরো উল্লেখ করেন, এরই মধ্যে হাসান আল মামুনকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়া হলে তিনি বিয়ে করতে সম্মত হয়। কিন্তু বাদী সুস্থ হলে আসামি বিয়ে করতে নানা ধরনের টালবাহানা শুরু করেন। পরবর্তীতে হাসান আল মামুনের সাথে কোনো যোগাযোগ না থাকায় মামলার ১নং আসামি বাদীকে মামুনের সাথে দেখা করিয়ে দেয়া ও মিমাংসা করে দেয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কোতয়ালি থানাধীন ৫৬৩/৫৬৬ মিউনিসিপাল হকার্স মার্কেট, সদরঘাট হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে সকাল ৭টা ৪০ এ নিয়ে আসে।

সেখান থেকে নাজমুল হাসান সোহাগ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে লঞ্চ যোগে বাদীকে চাঁদপুর নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে মামলার দুই নাম্বার আসামী হাসান আল মামুনকে দেখতে না পেয়ে বাদীর সন্দেহ হয় এবং তাড়াতাড়ি ঢাকায় ফেরার জন্য সোহাগকে অনুরোধ করে। ওই দিন বিকেলে ঢাকায় ফেরার পথে লঞ্চের কেবিনে মামলার ১ নম্বর আসামি সোহাগ বাদীকে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে। এসময় কান্নাকাটি করলে সোহাগ বাঁদিকে নষ্ট মেয়ে হিসেবে উপস্থাপন করতে চায় এবং লঞ্চে তার আরো লোকজন আছে বলে ভয় দেখায়। সে বাদীকে বিভিন্ন রকম ভয় দেখায় এবং বলে কান্নাকাটি করে কোন লাভ হবে না। সেই সাথে হাসান আল মামুনের বিষয়টা কাউকে না জানাতে বলেন। তারপর রাত ৮ টায় তারা সদরঘাটে আসেন।

এরপর আসামি সোহাগ বাদীকে হেয় পতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে দুটি ফেইক ফেইজবুক আইডি খুলে বিভিন্ন সেক্সুয়াল গ্রুপে বাদীর ফোন নম্বর ছড়িয়ে দেয়।

পরবর্তীতে বাদী বিষয়টি নুরুল হক নুরুকে জানালে সে মামুন তার পরিষদের বলে জানান এবং আসামিদের সাথে কথা বলে সুষ্ঠু মিমাংসা করে দেয়ার আশ্বাস দেন। এরপর নুরুল হক নুরু জুন মাসের ২৪ তারিখ মিমাংসার আশ্বাস দিয়ে নীলক্ষেত এ দেখা করতে আসেন।

কিন্তু সেখানে নুর মিমাংসার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বাদীকে এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন। নুর বলেন, বাদী যদি বাড়াবাড়ি করেন তাহলে তাদের ভক্ত দিয়ে বাদীর নামে উল্টোপাল্টা পোষ্ট করাবে এবং পতিতা বলে প্রচার করবে। তাদের ছাত্র অধিকার পরিষদে ১.২ মিলিয়ন সদস্য আছে। তার একটা লাইভে বাদীর সব সন্মান নষ্ট হয়ে যাবে।

বাদী আরো উল্লেখ করেন, ইতিমধ্যে মামলার ৪ নং আসামি সাইফুল ইসলাম বাদীর নামে কুৎসা রটাতে ৫নং আসামি মো. নাজমুল হুদা ও ৬ নং আসামি আব্দুল্লাহ হিল বাকি কে লাগিয়ে দেয়। তারা ম্যাসেঞ্জার চ্যাট গ্রুপে বাদীর চরিত্র নিয়ে বিভিন্নভাবে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করার জন্য সম্মিলিতভাবে হীন কাজ করে।

বিষয়টি ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতৃত্ব স্থানীয় সকল নেতাকর্মী এসব ঘটনা জানেন বলে মামলায় উল্লেখ করে বাদী বলেন, তাদের মধ্যে কয়েকজন বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষে কাজ করতে চাইলেও বিবাদীরা তাদের বিভিন্ন ষড়যন্ত্রকারী বলে আখ্যা দেয় বলে বাদী জানতে পারেন। উপরিউক্ত বিবাদীগন পরষ্পর যোগসাজে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে ও বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে চাঁদপুরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণে সহযোগীতা করে বলে মামলায় উল্লেখ করেন বাদী।


আরো সংবাদ