১৯ অক্টোবর ২০২০

এনামুল বাছিরের জামিন বিষয়ে হাইকোর্টের রুল


অবৈধ আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে করা মামলায় সাময়িক বরখাস্ত দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে কেন জামিন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। তার এক আবেদনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারি করে।

আদালতে আজ দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। এনামুল বাছিরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস।

খুরশীদ আলম খান জানান, আদালত এনামুল বাছিরের জামিন প্রশ্নে তিন সপ্তাহের রুল জারি করেছে।

গত ১৯ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদ‌কের প‌রিচালক শেখ মো. ফানা‌ফিল্লা এ মামলায় অভিযোগপত্র দা‌খিল করেন। এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর সি‌নিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ মামলাটি বিচারের জন্য চার নম্বর বিশেষ জজ আদালতে বদলির আদেশ দেন। গত ১৮ মার্চ অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয় একই আদালত।

গত বছরের ৯ জুন একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্নীতির অনুসন্ধান থেকে দায়মুক্তি পেতে দুদক পরিচালক বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন পুলিশের বরখাস্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমান। ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথন রেকর্ড করে ওই চ্যানেলকে দেন মিজান। সেই সাথে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারও দেন। অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা থেকে বাঁচতে ওই অর্থ ঘুষ দেন বলে ডিআইজি মিজান দাবি করেন।

এ প্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ার পর দুদক তাদের সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখতকে প্রধান করে তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি গত বছরের ১০ জুন প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরিচালক বাছিরকে দুদকের তথ্য অবৈধভাবে পাচার, চাকরির শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সর্বোপরি অসদাচরণের অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে কমিশন।

গত বছরের ১৬ জুলাই ৪০ লাখ টাকার ঘুষ কেলেঙ্কারির অভিযোগে ডিআইজি মিজান ও দুদক পরিচালক বাছিরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। সংস্থার ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ দুদকের পরিচালক ও অনুসন্ধান দলের নেতা শেখ মো. ফানাফিল্লাহ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। পরে ২২ জুলাই রাতে মো. ফানাফিল্লার নেতৃত্বে দুদকের একটি টিম মিরপুরের দারুস সালাম এলাকা থেকে বাছিরকে গ্রেপ্তার করে।

মামলাটি বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। ইউএনবি


আরো সংবাদ