০৯ এপ্রিল ২০২০

বিদেশফেরতদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখতে পুলিশে হস্তান্তরের নির্দেশ

বিদেশফেরতদের পুলিশে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। - ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের সংক্রামণ এড়াতে বিদেশফেরতদের বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টাইনে রাখতে ও স্বাস্থ্যগত পরীক্ষা করতে তাদেরকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ ও পররাষ্ট্র সচিবের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এক রিটের প্রাথমিক শুনানি করে বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো: মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ চার দফা নির্দেশনা দেন।

অন্য তিন দফা নির্দেশনা হচ্ছে- বিদেশফেরত সবাইকে ১৪ দিন বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টাইনে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র সচিব ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি নির্দেশ। বিদেশ ফেরতদের ও সন্দেহভাজনদের মেডিকেল চেক আপ/স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে স্বাস্থ্য সচিবের প্রতি নির্দেশ এবং জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কোয়ারেন্টাইনে রাখা ব্যক্তিদের তদারকি করতে জনপ্রশাসন সচিবের প্রতি নির্দেশ।

আদেশের বিষয়টি রিটকারী আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত ১৫ মার্চ দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ।

রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বাস্থ্যসচিব, শিক্ষাসচিব, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়।

বৃহস্পতিবার এই রিটের ওপর শুনানি হয়। রিটের পক্ষে আইনজীবী ইউনুছ আলি আকন্দ নিজেই শুনানি করেন। আদালত এমিকাস কিউরি হিসেবে রেজা-ই রাব্বী খন্দকারের বক্তব্য শোনেন। এছাড়া রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নওরোজ এম আর চৌধুরী।

উল্লেখ্য, চীনের উহান প্রদেশ থেকে ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ করোনাভাইরাস বর্তমানে বিশ্বের প্রায় অধিকাংশ দেশেই ছড়িয়ে পড়েছে। এ ভাইরাসে এ পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮৭ জন আক্রান্ত হয়েছে। অপরদিকে মারা গেছে ৮ হাজার ৯৬১ জন।

এছাড়া চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৫ হাজার ৬৭৩ জন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনেক দেশেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গেছে। মারা গেছেন একজন।

সূত্র : ইউএনবি


আরো সংবাদ