০৬ এপ্রিল ২০২০

সালমান শাহের মৃত্যু : পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বিচারকের স্বাক্ষর

-

চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি দেখিলাম বলে স্বাক্ষর করেছেন বিচারক। চুড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ৩০ মার্চ পরবর্তী শুনানী অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার সকালে সংশ্লিষ্ট জিআর শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আনিছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান দেখিলাম বলে স্বাক্ষর করেছেন। ৩০ মার্চ মামলাটির তারিখ ধার্য রয়েছে। সেদিন পিবিআইয়ের দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণের বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে।

এর আগে মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতের ছয় শ' পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি আদালতে জমা দেন পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আলোচিত এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।

পিবিআই'র এই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হননি, তিনি পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছিলেন।

পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, পিবিআই’র তদন্তে ঘটনার সময় উপস্থিত ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৪৪ জনের জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় এবং ১০ জনের সাক্ষ্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি ঘটনা সংশ্লিষ্ট আলামত জব্দ করা হয়। এসব বিষয় পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, চিত্রনায়ক সালমান শাহ পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছেন। হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সালমান শাহের আত্মহত্যার পাঁচটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হলো- চিত্রনায়িকা শাবনূরের সাথে সালমানের অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা, স্ত্রী সামিরার সাথে দাম্পত্য কলহ, মাত্রাধিক আবেগপ্রবণতার কারণে একাধিকবার আত্মঘাতী বা আত্মহত্যার চেষ্টা, মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা জটিল সম্পর্কের বেড়াজালে পড়ে পুঞ্জীভূত অভিমানে রূপ নেয়া এবং সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনে অপূর্ণতা।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহ। ওই ঘটনায় তখন অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান তিনি। অপমৃত্যুর মামলার সাথে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগের বিষয়টি একসাথে তদন্ত করতে অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন আদালত।

সূত্র : বাসস


আরো সংবাদ