০৫ এপ্রিল ২০২০

সম্রাটের স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

সম্রাটের স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ - ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার আসামি পক্ষের আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশ শুনানী শেষে সোমবার এ আদেশ।

সম্রাটের পক্ষে আদালতে দায়ের করা আবেদনে উল্লেখ করেন, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজাপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে এবং ৪ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কাশিমপুর কারাগারে ছিলেন ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। মারাত্মক অসুস্থ হওয়ায় তাকে গত ২৩ নভেম্বর বিএসএমএমইউ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের সিসিইউতে নেয়া হয়। ২০ বছর আগে আসামির বাইপাস সার্জারি ও ভাল্ব প্রতিস্থাপন করা হয়।
বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার তিনবার হার্ট অ্যাটাক হয়। মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে চিকিৎসা অব্যাহত আছে। কিন্তু আসামির শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের কোনো তথ্য দেয়া হচ্ছে না। তাকে পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। উন্নত চিকিৎসার অভাবে আসামির শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। এ নিয়ে তার পরিবারের সদস্যরা খুবই উদ্বিগ্ন।

এ অবস্থায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অতি অল্প সময়ের মধ্যে তার চিকিৎসার সার্বিক পরিস্থিতির প্রতিবেদন দাখিলের মাধ্যমে আদালতকে অবহিতকরণ, পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য প্রদান ও উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত সম্রাটের স্বাস্থ্য সম্পর্কে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

এদিন সম্রাটের বিরুদ্ধে র‌্যাবের দায়ের করা অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলায় চার্জশিট গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এদিন সম্রাট অসুস্থ থাকায় তাকে আদালতে হাজির করেনি কারা কর্তৃপক্ষ। এজন্য আদালত আসামির উপস্থিতিতে আগামী ২৫ মার্চ চার্জশিট গ্রহণের তারিখ ধার্য করেন। মাদক মামলায় সম্রাটের পাশাপাশি তার সহযোগী ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সহসভাপতি এনামুল হক আরমানও আসামি। গত বছর ৬ নভেম্বর অস্ত্র আইনের মামলায় সম্রাটের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা র্যাব-১ এর উপ-পরিদর্শক শেখর চন্দ্র মল্লিক। ৯ ডিসেম্বর মাদক মামলায় সম্রাট এবং আরমানের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‌্যাব-১ এর এসআই আ. হালিম।

উল্লেখ্য, গত বছর ৬ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তাকে নিয়ে দুপুর দেড়টার দিকে তার কাকরাইলের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। এ সময় ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, পিস্তল ও বিরল প্রজাতির বন্য প্রাণীর চামড়া উদ্ধার করা হয়। বন্য প্রাণীর চামড়া রাখার দায়ে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত। ওই দিনই রাত পৌনে ৯টার দিকে সম্রাটকে কারাগারে নেয়া হয়। ৭ অক্টোবর বিকেলে র‌্যাব-১ এর ডিএডি আব্দুল খালেক বাদী হয়ে রমনা থানায় সম্রাটের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেন।


আরো সংবাদ