১৮ জুলাই ২০২৪, ৪ শ্রাবণ ১৪৩১, ১১ মহররম ১৪৪৬
`

৭০ বছর ধরে হাইকোর্ট মাজারের ইফতারে ভক্তদের মিলনমেলা

-


দীর্ঘ প্রায় ৭০ বছর ধরে পবিত্র মাহে রমজানে হাইকোর্ট মাজারের ইফতারে ধনী-গরিব, পাগল-ফকির ভক্তদের মিলনমেলায় পরিণত হয়। প্রতিদিন গড়ে ১০০০ থেকে ১২০০ মানুষ এখনে ইফতার সামনে নিয়ে বসেন। মহান আল্লাহর কাছে হাত তুলে দোয়া করেন। মাজার মসজিদে একই পাত্রে মুড়ি, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজু, চপ, খিচুড়ি তেহারি, বিভিন্ন ফল নিয়ে চার থেকে পাঁচজন বসে ইফতার করেন। ইফতারের উপকরণের সাথে থাকে রূহ আফজার শরবত ও মাজারে আসা বিভিন্ন খাবার। রমজানে এ ইফতারের উদ্যোগ হাইকোর্ট মাজারে আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।


ইফতারের আগমুহূর্তে মাজার ঘুরে দেখা যায়, মাজার ও মসজিদের ভেতরে ইফতার প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্লাস্টিকের লাল বাটিতে মুড়ি, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজু, চপ, খিচুড়ি, তেহারি, আপেল, মাল্টা, রূহ আফজার শরবত প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রায় তিনশত লাল বাটিতে ইফতার সাজানো হয়েছে। শরবতের গ্লাস ও জগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ধনী গরিব ভক্ত সব ধরনের মানুষ একত্রে বসেছেন ইফতারে। ইফতারের আগে সবাই হাত তুলে দোয়া করেন।
মাজার মসজিদে ১০-১২ জনের সাথে ইফতার নিয়ে বসেছেন মাজারভক্ত শহীদুল্লাহ। জানতে চাইলাম কতদিন থেকে তিনি এখানে ইফতার করেন। জবাবে বললেন, স্বাধীনতার পর থেকে তিনি এই মাজারে চলাফেরা করেন। প্রতি রমজানে এখানে ইফতার করেন। ১৯৭৭ সাল থেকে প্রতি বছর এখানে ইফতার করেন। তিনি বলেন, এখানে ইফতার করে শান্তি পাই। তিনি বলেন, এখানে হিন্দু-মুসলিম, ধনী-গরিব সবাই আসেন। এখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসে ইফতার করি। এখানে ইফতারের প্রস্তুতি শুরু হয় বেলা ৩টার পর থেকে। আসরের নামাজ শেষে দোয়া হয়; কখনো থাকে সংক্ষিপ্ত জিকিরের আয়োজন। এসব শেষে সবাই ইফতারের জন্য বসে যান সুশৃঙ্খল ও সারিবদ্ধভাবে। স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন ৪০ জন। তবে শুক্রবার ও বৃহস্পতিবার মানুষের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়ে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মাজার ও মসজিদের ভেতরের এ আয়োজনের পাশাপাশি মসজিদসংলগ্ন কড়ই গাছতলায় চলে আরেক দলের ইফতারি বিতরণ। মূলত মাজারের ভক্তদের দান ও স্বেচ্ছা উদ্যোগে হয় এ আয়োজন। মাজার মসজিদে খাদেমরা জানান, মসজিদের সামনের রাস্তা হয়ে গেট পর্যন্ত প্রতিদিন প্রায় তিন শতাধিক রিকশাচালক রিকশার ওপরে বসেই ইফতার করেন।


মাজার মসজিদের খতিব আহমেদ রেজা ফারুকী বলেন, প্রায় ৭০ বছর থেকে মাজার মসজিদ প্রতিষ্ঠার সময় থেকে রমজানে এখানে ইফতার আয়েজন করা হয়। এ ছাড়া মাজার মসজিদসংলগ্ন লঙ্গরখানায় দুই বেলা খাবারের ব্যবস্থা থাকে। সব মিলে প্রতিদিন ১০০০ থেকে ১২০০ এর বেশি মানুষ এখানে ইফতার করেন। মুড়ি, ছোলা, খেজুর, পেঁয়াজু, চপ, খিচুড়ি, তেহারি ছাড়া বিভিন্ন ফল ও শরবত থাকে। আর রমজানের শেষ ১০ দিন মাজার মসজিদে ইফতারের পাশাপাশি সেহরি খাবারও ব্যবস্থা থাকে।
তিনি জানান, দান, অনুদান এবং মাজারের ফান্ড থেকে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ইফতারে খরচ হয়। তিনি আরো জানান, মাজার মসজিদে পুরুষদের পাশাপাশি মহিলাদের জন্য আলাদাভাবে ইফতারের ব্যবস্থা থাকে। প্রায় ৪০০ মাহিলা এখানে ইফতার করেন।
মাহে রমজানে ইফতারের পাশাপাশি বছরের সবসময় এখানে দুপুরে ও সন্ধ্যায় লঙ্গরখানা চলছে। প্রায় ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী এখানে বিনাপয়সায় কাজ করেন। গরিব-দুঃখী ছাড়াও অসহায় মানুষের জন্যই এ আয়োজন করা হয়। মূলত মাজার কমিটিই এসব কিছু আয়োজন করে। সুপ্রিম কোর্ট মসজিদ ও মাজার পরিচালনা করতে ৯ সদস্যের একটি কমিটি আছে। কমিটির প্রধান উপদেষ্টা হলেন দেশের প্রধান বিচারপতি। এ ছাড়া কমিটিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের ছয়জন বিচারপতি রয়েছেন। পাশাপাশি আছেন অ্যাটর্নি জেনারেলসহ সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী।

 


আরো সংবাদ



premium cement
‘যুদ্ধ শুরু হলে নিশ্চিতভাবে লেবানন হবে ইসরাইলের জন্য দোযখ’ ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার ছবি যেভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে? ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান ইরানের কোটাবিরোধী আন্দোলনে রক্তাক্ত সহিংসতায় চট্টগ্রামে ৪ মামলা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহবান পুলিশ সদর দফতরের কোটা আন্দোলনকারী ৬ শিক্ষার্থী হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম খাগড়াছড়িতে গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে শিশু নিহত, আহত মা ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধসহ শিক্ষার্থীদের ৬ দফা দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস জবি প্রশাসনের ছাত্রলীগ ও প্রশাসনের সাঁড়াশি অভিযান, ছাত্রশিবিরের তীব্র নিন্দা জাফর ইকবালের বই পুড়িয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ কোটা আন্দোলনে নিহতদের নাম বুকে লিখে তাজিয়ার আদলে প্রতিবাদী মিছিল

সকল