১০ ডিসেম্বর ২০২২, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`
গণছাঁটাইয়ের প্রতিবাদ ও বকেয়া বেতন দাবি

আশুলিয়া ও সাভারে তৈরী পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বিক্ষোভ

আশুলিয়ায় গণছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে গার্মেন্টশ্রমিকদের সড়ক অবরোধ : নয়া দিগন্ত -

আশুলিয়ায় গণছাঁটাই ও হঠাৎ করে কারখানা বন্ধের প্রতিবাদ এবং সাভারে বকেয়া বেতন দাবিতে বিক্ষোভ করেছে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা।
তুরাগ সংবাদদাতা জানান, আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের জন রন সুয়েটার্স কয়েক দিন আগে দুই শতাধিক কর্মী ছাঁটাই করে। বিষয়টি নিয়ে গার্মেন্টকর্মীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছিল। এর মধ্যেই গতকাল শনিবার কর্তৃপক্ষ কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গেটে ছুটির নোটিশ ঝুলিয়ে দেয়। পরে শ্রমিকরা হঠাৎ করে ফ্যাক্টরি বন্ধের প্রতিবাদ এবং অফিস খুলে দেয়ার দাবিতে আন্দোলন শুরু করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক জানান, সকালে অফিস এসে তারা গেটে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত বন্ধের (সাধারণ ছুটি) নোটিশ ঝুলানো দেখতে পান। এ নোটিশের আগে সুয়েটার্স কর্তৃপক্ষ কোনো কিছু জানায়নি।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, ইতোপূর্বে অভিযুক্ত তিনজন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তাকে নতুন করে কোম্পানি নিয়োগ দেয়। তারা হলেন, ডিজিএম আব্দুর রহমান, ইয়ার্ন কন্ট্রোলার শাহ আলম এবং ফিনিশিং ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম। তারা ইতোপূর্বে শ্রমিকদের সাথে চরম দুর্ব্যবহার, এমনকি মারপিট করতেন। শ্রমিকদের তীব্র প্রতিবাদের কারণে কোম্পানি তাদের চাকরিচ্যুত করতে বাধ্য হয়েছিল। সম্প্রতি তারা পুনঃনিয়োগ পেয়ে প্রথম সুযোগেই দুই শতাধিক শ্রমিক ছাঁটাই করে। বিষয়টির প্রতিবাদ জানানোর কারণেই কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে কোম্পানির ডিজিএম তরিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ডাইরেক্টরের সাথে কথা বলতে বলেন। ডাইরেক্টর ইমরানকে ফোন করলে তিনি অ্যাডমিন কর্মকর্তার মনিরের সাথে কথা বলান। মনির বলেন, মালিক লেবার ল’ ২৬ ধারা অনুযায়ী চূড়ান্ত ক্ষমতা বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের পূর্বে অবহিত না করেই ছাটাই করতে পারেন। চাকরিচ্যুত সব ব্যক্তিকে যাবতীয় পাওনা বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু চাকরিচ্যুত করা হয়নি এমন কিছু শ্রমিক আন্দোলন করে কোম্পানির শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছে।
সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, সাভারে বকেয়া বেতন ও বন্ধ কারখানা খুলে দেয়ার দাবিতে এবং শ্রমিক নেতা আব্দুল মজিদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার একটি তৈরি পোশাক কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে শ্রমিকরা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সাভারের দক্ষিণ কৃষ্ণপুর এলাকায় ড্রেসআপ গার্মেন্টের সামনে এ বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানায়, ওই পোশাক কারখানায় কাজ করে আসছিলেন প্রায় ২১০ জন নারী ও পুরুষ শ্রমিক। ১০ সেপ্টেম্বর কারখানাটির মালিক মোস্তফা নানা অজুহাত দেখিয়ে শ্রমিকদের না জানিয়ে বেতন ভাতা পরিশোধ না করে কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের নোটিশ টাঙিয়ে দেন কারখানার মূল ফটকে। পরে শ্রমিকরা এসে সেদিন কারখানায় ঢুকতে না পেরে চলে যায়। পরে গত দুই দিন আগে কারখানার সামনে শ্রমিকরা অবস্থান নিলে শ্রমিক নেতা আব্দুল মজিদের ওপর সেখানে সন্ত্রাসীরা হামলা ও মারধর করে। এদিকে বকেয়া বেতন পরিশোধ ও বন্ধ কারখানা খুলে না দেয়া পর্যন্ত শ্রমিকরা আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলে জানান।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম সুজন অবিলম্বে কারখানা চালু এবং শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করার দাবি জানান।


আরো সংবাদ


premium cement