২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯, ১ রবিউল আওয়াল ১৪৪৪ হিজরি
`

ডিএসইর বাজার মূলধন কমলো ১০ হাজার কোটি টাকা

-

এক সপ্তাহ ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর গেল সপ্তাহজুড়ে দেশের শেয়ারবাজারে বড় দরপতন হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে লেনদেনে অংশ নেয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি কমেছে মূল্যসূচক। এতে এক সপ্তাহেই প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি কমে গেছে। বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে চার কার্যদিবস লেনদেন হয়। এর প্রতি কার্যদিবসই দরপতনের মধ্যে ছিল বাজার। অবশ্য আগের সপ্তাহে লেনদেন হওয়া পাঁচ কার্যদিবসেই বাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এতে ডিএসইর বাজার মূলদন ২১ হাজার ৩৬৪ কোটি টাকা বেড়ে যায়।
এমন বড় উত্থানের পরেই শেয়ারবাজারে চলতি সপ্তাহের শুরু হয় দরপতন দিয়ে। এ দরপতনের পেছনে মুখ্য ভূমিকা রাখে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি। গত ৫ আগস্ট প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিন ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা, অকটেনে ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং পেট্রল ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা করে সরকার।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের এমন সিদ্ধান্ত আসার পর গত সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার দরপতনের মধ্যে পড়ে শেয়ারবাজার। পরের তিন কার্যদিবসও দরপতন হয়। এতে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ তিন হাজার ২৬৬ কোটি টাকা, যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল পাঁচ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ গেল সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ১০ হাজার ২১১ কোটি টাকা। বাজার মূলধন কমার পাশাপাশি গেল সপ্তাহে ডিএসইতে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেয়া ৪১ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৮৭টির। আর ৫৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে গেল সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স কমেছে ১৬৩ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৩৩১ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৫৫ শতাংশ। আর বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক গেল সপ্তাহে কমেছে ৭০ দশমিক ৮১ পয়েন্ট বা ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ১১৯ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ।


প্রধান ও ডিএসই-৩০ মূল্যসূচকের পাশাপাশি কমেছে ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিতে পরিচালিত কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই শরিয়াহ সূচক। গেল সপ্তাহে এ সূচকটি কমেছে ২৯ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ১৪ শতাংশ। আগের সপ্তাহে সূচকটি বাড়ে ৬৬ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ১২ শতাংশ।
সব ক’টি সূচকের পতনের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। গত সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে ডিএসইতে গড়ে লেনদেন হয়েছে ৮৯৬ কোটি এক লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে লেনদেন হয় এক হাজার ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন কমেছে ২১৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা বা ১১ দশমিক ৪৪ শতাংশ।
আর গত সপ্তাহজুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে তিন হাজার ৫৮৪ কোটি পাঁচ লাখ টাকা। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয় পাঁচ হাজার ৫৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। সেই হিসাবে মোট লেনদেন কমেছে এক হাজার ৪৭৪ কোটি ৫৯ লাখ টাকা বা ২৯ দশমিক ১৫ শতাংশ। মোট লেনদেন বেশি হারে কমার কারণ পবিত্র আশুরা উপলক্ষে বন্ধ থাকায় গত সপ্তাহে শেয়ারবাজারে এক কার্যদিবস কম লেনদেন হয়।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৩৩২ কোটি ৮৩ লাখ ২৮ হাজার টাকা, যা মোট লেনদেনের ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১১২ কোটি সাত লাখ ৯৬ হাজার টাকা। ১০৭ কোটি ৯২ লাখ ৮৬ হাজার টাকা লেনাদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন। এ ছাড়া লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে সি পাল বিচ রিসোর্ট, অলেম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, সোনালী পেপার, কপারটেক ইন্ডাস্ট্রিজ, ম্যাকসন স্পিনিং, লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ এবং ওরিয়ন ইনফিউশন।

 


আরো সংবাদ


premium cement