১৪ আগস্ট ২০২২
`
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা

১ রাত পাহারা দিয়ে ১৫ রাত শান্তিতে ঘুমাই

-

নিজেদের নিরাপত্তা নিজেরাই নিশ্চিত করছেন কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা। স্বেচ্ছাপাহারা নামে পরিচিত এ ব্যবস্থায় ক্যাম্পে অপরাধ কমেছে ৯৫ শতাংশ। বেড়েছে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারও।
রোহিঙ্গারা বলছেন, স্বেচ্ছাপাহারা ব্যবস্থা চালুর পর তারা নিরাপদে আছেন। স্বস্তি নেমেছে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবনেও।
জানা গেছে, কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ধ্যা নামার পরপরই সুনসান নীরবতা আর অন্ধকারের সুযোগে ক্যাম্পে অপরাধীরা যখন সক্রিয়। ঠিক তখনই ‘এক রাত জেগে পাহারা দিয়ে আর ১৫ রাত শান্তিতে ঘুমাই’ এই মন্ত্রে ১০ লাখ মানুষের নিরাপত্তায় রাতভর পাহারা দিতে প্রস্তুত হন পাঁচজন।
২০২১ সালে রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ড ও সিক্স মার্ডারের পর উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সৃষ্টি হয় থমথমে পরিস্থিতি। চাঁদাবাজি, অপহরণ, মাদকব্যবসা আর ধর্ষণ বাড়তে থাকে ভয়ানক হারে। এ সময় ক্যাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি শান্তিকামী রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ত করার প্রত্যয়ে ‘স্বেচ্ছা পাহারা ব্যবস্থা’ চালু করে- ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন। বর্তমানে ৩৪টি ক্যাম্পের সব কয়টিতেই চালু হয়েছে এ ব্যবস্থা।
ক্যাম্পকে কয়েকটি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। আর ব্লককে সাব ব্লকে। ৫০-৬০ কিলোমিটার দূরত্বের প্রতিটি সাব ব্লকের সামনে পালাক্রমে ১৫ দিন পরপর ৫ জন করে পাহারা দেন। এভাবে প্রতি রাতে ১১ হাজার পাহারাদার দায়িত্ব পালন করে। আর শান্তিতে ঘুমায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা। এ পাহারা ব্যবস্থা তিন স্তরে মনিটরিং করা হয়।
এ ব্যবস্থায় অপহরণ, চাঁদাবাজি, ধর্ষণ আর ভয়ভীতি প্রদর্শন শূন্যের কোটায় নেমে আসায় স্বস্তিতে রোহিঙ্গারা। স্থানীয়দের সাথে রোহিঙ্গাদের সংঘাত নিয়ন্ত্রণে এই ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, নিরাপত্তায় দলগতভাবে এগিয়ে যাওয়ার দরকার। শুধু পুলিশ নিরাপত্তা দিচ্ছে; কিন্তু এর সাথে রোহিঙ্গাদের সংযুক্ত করা হয়েছে। এমনটা করলে যাদের জন্য আমরা নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়াতে চাই; তারাই জানতে পারবেন এখানে কারা অপরাধী, কারা দুষ্কৃতিকারী। তাহলে অপরাধের তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি ফলপ্রসূ ব্যবস্থা হবে। তিনি বলেন, গত বছরের ২৩ অক্টোবর থেকে জামতলীসহ দুটি ক্যাম্পে স্বেচ্ছায় পাহারার ব্যবস্থা চালু হয়। এটা মূল্যায়ন করে দেখা যায়, স্বেচ্ছায় পাহারার ব্যবস্থা অত্যন্ত ফলপ্রসূ।
পাহারায় অংশগ্রহণকারী রোহিঙ্গারা অপরাধীদের সম্পর্কে দ্রুত তথ্য দিচ্ছেন। ফলে মাত্র ৯ মাসে দষ্কৃতকারী গ্রেফতার ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার বেড়েছে চার গুণ। গুলি উদ্ধার বেড়েছে ৬০ গুণ। আগ্নেয়াস্ত্র ও স্বর্ণ উদ্ধার বেড়েছে যথাক্রমে ৭ গুণ ও ৩ গুণ। আর সার্বিকভাবে অপরাধ কমেছে ৯৫ শতাংশ।


আরো সংবাদ


premium cement