১১ আগস্ট ২০২২
`

প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া সর্বোচ্চ ৫২, খাসি ২০ টাকা নির্ধারণ

কোরবানির পশুর চামড়ায় লবণ লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ; কোরবানির পর ৭ দিন ঢাকা অভিমুখে এবং আন্তঃজেলা কোনো চামড়াবাহী যান চলাচল করতে পারবে না
-

গতবারের চেয়ে কিছু দাম বাড়িয়ে কোরবানির পশুর চামড়া দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ঢাকায় ৪৭ টাকা থেকে ৫২ টাকা, ঢাকার বাইরে ৪০ টাকা থেকে ৪৪ টাকা, খাসির চামড়া সর্বত্র ১৮ টাকা থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়া সর্বত্র ১২ টাকা থেকে ১৪ টাকা ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে ট্যানারি মালিক ও চামড়া দ্রব্যের ব্যবসায়ীদের সাথে বৈঠক শেষে দাম নির্ধারণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
উল্লেখ্য, গত বছর লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ঢাকায় ৪০ টাকা থেকে ৪৫ টাকা, ঢাকার বাইরে ৩৩ টাকা থেকে ৩৭ টাকা, খাসির চামড়া সর্বত্র ১৫ টাকা থেকে ১৭ টাকা এবং ছাগল, ভেড়া ও মহিষের চামড়া সর্বত্র ১২ টাকা থেকে ১৪ টাকা ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে হিসাবে এ বছর ঢাকা ও ঢাকার বাইরে গরুর চামড়ার দর প্রতি বর্গফুটে ৭ টাকা এবং খাসির চামড়ার দর প্রতি বর্গফুটে ৩ টাকা বাড়ল। এ ছাড়া প্রতি বর্গফুট বকরির চামড়ার দর অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
‘পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ সভায় বক্তব্য রাখেন। চামড়ার স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারদর, চাহিদা, সরবরাহ, রফতানির সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে এ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে বৈঠক শেষে জানানো হয়।
বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য পশু কোরবানির পর নিজেদের প্রয়োজনীয় লবণ যুক্ত করে সংরক্ষণ করতে হবে। কোরবানির ৭ দিন পর্যন্ত ঢাকা অভিমুখে এবং আন্তঃজেলা কোনো চামড়াবাহী যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। লবণ যুক্ত করার কারণে কোনো চামড়া নষ্ট হবে না এবং সময় নিয়ে উপযুক্ত মূল্যে চামড়া বিক্রয় করা সম্ভব হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং চামড়ায় লবণযুক্ত করা নিশ্চিত করতে হবে। দেশের মসজিদগুলোতে এ বিষয়ে কোরবানিদাতাদের সচেতন করতে হবে।
প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, এত দিন কোরবানির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় লবণযুক্ত না করার কারণে অনেক সময় চামড়া নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকত। ফলে বিক্রেতা কম দামে চামড়া বিক্রয় করতে বাধ্য হতেন। এবারে চামড়ায় নির্ধারিত সময়ে এবং প্রয়োজনীয় লবণ যুক্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এখন আর কোনো চামড়া নষ্ট হবে না এবং বিক্রেতাগণ উপযুক্ত মূল্য পাবেন। চামড়ার গুণগত মান নিশ্চিত করতে যথাযথভাবে চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে, যাতে কোনো চামড়া নষ্ট না হয়। সরকার এ বিষয়ে জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য দেশের প্রচারমাধ্যমে টিভিসি প্রচার, লিফলেট বিতরণসহ পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চামড়ার এ মূল্য গরিবের হক। এতিমখানা, মাদরাসা, আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মতো সংস্থাগুলোই বেশির ভাগ চামড়া সংগ্রহ করে থাকে।
গরিবদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চামড়া ক্রয় নিশ্চিত করতে ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যাংক প্রয়োজনীয় টাকা ঋণ মঞ্জুর করেছে। দেশে প্রয়োজনীয় লবণ মজুদ রয়েছে, লবণের সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রয়েছে। হাটে কোরবানির পশুর হাসিলার সময় পশু ক্রেতাদের প্রয়োজনীয় লবণ ক্রয় নিশ্চিত করবে সিটি করপোরেশন। মাঠপর্যায়ে সবধরনের সহযোগিতা প্রদানের জন্য প্রশাসনকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এবার কোরবানির চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত মূল্যে ক্রয়-বিক্রয়ে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না এবং নষ্ট হবে না।
প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, দেশের চামড়া রফতানি বেড়েছে, আরো বাড়বে। সরকার দেশের প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওয়েট ব্লু চামড়া ‘কেস-টু-কেস’ ভিত্তিতে রফতানির অনুমতি প্রদান করছে।
ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে সভায় বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো: আকতার হোসেন, শিল্পসচিব জাকিয়া সুলতানা, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মো: মকবুল হোসেন, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ,বাংলাদেশ ফিনিশ লেদার অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন, হাইড অ্যান্ড স্কিন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আফতাব খান প্রমুখ।


আরো সংবাদ


premium cement