১১ আগস্ট ২০২২
`

১০৪ গার্মেন্টে শ্রমিক অসন্তোষের শঙ্কা

-

বেশ কিছু পোশাক কারখানায় জুুন মাসের বেতনভাতা এখনো পরিশোধ করা হয়নি। ফলে বকেয়া দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে দাখিল করা গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে ২৭ জুন চিঠি পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের রাজনৈতিক শাখা ২-এর উপসচিব এস এম ফেরদৌস স্বাক্ষরিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে লেখা পুলিশ অধিদফতরের চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প রফতানি আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জিডিপিতে অবদানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের কারণে আর্থিক সঙ্কট, উৎপাদনে সীমাবদ্ধতা, সঠিক অবকাঠামোর অভাব, নেতিবাচক প্রভাব, কাজের অর্ডার কম বা না পাওয়া বা অর্ডার বাতিল হওয়ার কারণে গার্মেন্ট মালিকরা শ্রমিকের অনেক সময় বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে পারেন না বা পরিশোধ করেন না। এ ছাড়াও হঠাৎ ফ্যাক্টরি অন্যত্র স্থানান্তর, কোনো প্রকার পূর্ব নোটিশ ছাড়াই শ্রমিক ছাঁটাই, গার্মেন্ট বন্ধ করে দিয়ে কর্তৃপক্ষের ফ্যাক্টরিতে অনুপস্থিত থাকা ও মোবাইল ফোন বন্ধ রাখার কারণে শ্রমিকরা তাদের বকেয়া বেতন দাবিসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন।
সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী ঢাকা মহানগরী, সাভার-আশুলিয়া, টঙ্গী-গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে ৪ হাজার ৩৪৭টি গার্মেন্টের মধ্যে ১০৪টি ফ্যাক্টরির কর্তৃপক্ষ কর্তৃক শ্রমিকদের মে-২০২২ মাসের বেতনভাতা জুন-২০২২ মাসের মধ্যেও পরিশোধ করার সম্ভাবনা নেই। এসব গার্মেন্টে যেকোনো সময় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠিতে অনুরোধ করা হয়।
জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, গার্মেন্ট কারখানায় যেকোনো ধরনের অসন্তোষ এড়াতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তৎপর রয়েছে। বিজেএমইএ ও বিকেএমইএ নেতাদের সাথে এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।
জাতীয় গার্মেন্ট শ্রমিক-কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি বলেন, বর্তমানে গার্মেন্টে অনেক অর্ডার আছে। তাই ১০৪টি গার্মেন্টে শ্রমিক অসন্তোষ হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে এমনটি আমি বিশ্বাস করি না। কোনো মালিকেরই বেতনভাতা না দিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। প্রতি বছরই এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বর্তমানে দুই-তিনটি গার্মেন্টের মালিককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিজিএমইএ তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। গার্মেন্টের মেশিনারিজ বিক্রি করে হলেও শ্রমিকদের বেতনভাতা দেয়া হয়।


আরো সংবাদ


premium cement