০৪ জুলাই ২০২২, ২০ আষাঢ় ১৪২৯, ৪ জিলহজ ১৪৪৩
`
সমাবেশে ড. মোশাররফ

সরকারের উপরতলার নির্দেশেই ছাত্রদলের ওপর হামলা হয়েছে

জাতীয়তাবাদী যুবদলের বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন : নয়া দিগন্ত -

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর ছাত্রলীগের হামলা সরকারের উপরতলার নির্দেশেই হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের বিক্ষোভ সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এই অভিযোগ করেন।
ড. মোশাররফ বলেন, ছাত্রদলের মিছিলে ছাত্রলীগ-য্বুলীগের গুণ্ডারা যেভাবে আক্রমণ করেছে, আমাদের ছেলেদের শরীর থেকে রক্ত ঝরিয়েছে, ছাত্র-নেত্রীদের যেভাবে নির্দয়ভাবে আঘাত করেছে, আহত করেছে এসবই দেশে-বিদেশে পত্র-পত্রিকায় ভাইরাল হয়ে গেছে। নিন্দা জানাই এই ধরনের ঘৃণ্য কাজের জন্য। আমি শুধু বলতে চাই, আজকে যারা এই অপকর্মের সাথে জড়িত তারা তাদের উপরতলার নেতাদের নির্দেশেই এই কাজ করেছে, তারা আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ জায়গা, সরকারের সর্বোচ্চ স্থান থেকে নির্দেশে তারা এসব অপকর্ম করছে।
খন্দকার মোশাররফ বলেন, আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, এই নেতাদের নির্দেশে এই যুবলীগ-ছাত্রলীগের পাণ্ডারা নিউমার্কেটের ঘটনা ঘটিয়েছিল। প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদকে যারা হত্যা করেছিল তারা কিন্তু তাদের নেত্রী ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও রেহাই পায় নাই। বিশ্বজিতকে যারা রাস্তায় প্রকাশ্যে হত্যা করেছিল তাদের দল ক্ষমতা থাকা অবস্থায়ও তারা সেখান থেকে রেহাই পায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষক বলেন, আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলাম। আজকে আমার কষ্ট হয়, এই ছাত্ররা যাদের আমরা সোনার ছেলে বলি, সারা বাংলাদেশ থেকে বেছে বেছে যে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছো সেই সোনার ছেলেদেরকে এই গায়ের জোরের সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ব্যবহার করছে, তোমাদের দানবে পরিণত করছে। আমি ছাত্রদের বলতে চাই, ওই ধরনের নেতাদের প্ররোচনার তোমাদের নিজের জীবনকে শেষ করবে না। এখনো সময় আছে তোমাদের সম্বিত ফিরে আসুক।
যুবদলের নতুন আংশিক কমিটি ঘোষণার পরদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। এতে যুবদলের বিভিন্ন স্তরের সহস্রাধিক নেতাকর্মী অংশ নেয়।
সমাবেশে খন্দকার মোশাররফ বলেন, এই সরকারের দেশে-বিদেশে তাদের সমর্থন শূন্য হয়ে গেছে। তারা একা হয়ে গেছে। দেশের মানুষ এই স্বৈরাচার সরকারের থেকে মুক্তি চায়। আমি বিশ্বাস করি, এই ফয়সালা রাজপথেই হবে। আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, রাজপথে ফয়সালা হবে। এই রাজপথ থেকে আমাদেরকে একটা ধাক্কা দিতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের আন্দোলনের ইস্যু এই সরকারের পদত্যাগ, অবৈধ সংসদ বাতিল, বেগম খালেদা জিয়ার পূর্ণাঙ্গ মুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে স্বাধীনভাবে রাজনীতি করার পরিবেশ সৃষ্টি করা এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা যে নির্বাচনে জনগণের নিজের হাতে ভোট দেবে, ইভিএমে নয়।
নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে যুব দলের বিদায়ী সভাপতি সাইফুল আলম নিরব বলেন, টুকু-মুন্নার নেতৃত্বেই যুবদল আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে এই সরকারের পতন ঘটাবে ইনশা আল্লাহ। ছাত্রদলের ওপর হামলায় আমি বলতে চাই, এখন থেকে আমরা যুবদলসহ সব অঙ্গসংগঠন তাদের পাশে থাকব।
যুবদলের নতুন সভাপতি সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হামলা করা হচ্ছে, রক্ত ঝরানো হচ্ছে, রক্তাক্ত করা হচ্ছে। আমি এসব সন্ত্রাসীদের এবং প্রশ্রয়দাতাদের হুঁশিয়ারি দিতে চাই, আমাদের সহযোদ্ধা ছাত্রদল নেতাকর্মীদের শরীরের রক্ত ঝরেছে তার হিসাব আমরা নেবো ইনশা আল্লাহ।
যুবদলের নতুন যুগ্ম সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন ও গোলাম মওলা শাহীনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, যুবদলের বিদায়ী সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, মহানগর বিএনপির রফিকুল আলম মজনু, আমিনুল হক, যুবদলের নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্না, সহসভাপতি কামরুজ্জামান দুলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ইসাহাক সরকারসহ মহানগর নেতারা বক্তব্য রাখেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মামুন হাসান, জগলুল পাশা পাপেল, এনামুল হক এনামসহ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জের জেলা নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


আরো সংবাদ


premium cement