০২ জুলাই ২০২২
`

ডলার সঙ্কট কাটাতে ব্যাংকগুলোকে একসাথে কাজ করতে হবে : গভর্নর

-

দেশে চলমান ডলার সঙ্কট কাটাতে সব ব্যাংককে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ফজলে কবির। তিনি বলেন, করোনার প্রাদুর্ভাব চলকালীন সব ব্যাংক একসাথে কাজ করে ব্যবসাবাণিজ্য স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। এতে ব্যবসাবাণিজ্য দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। করোনার মতো চলমান ডলার সঙ্কটের মাঝেও সব ব্যাংককে একসাথে কাজ করতে হবে। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সবধরনের নীতিসহায়তা দেয়া হচ্ছে। তিনি মনে করেন, সব ব্যাংক একযোগে কাজ করতে পারলে করোনা সঙ্কটের মতো ডলারের অস্থিরতাও কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
গতকাল শনিবার রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এসব কথা বলেন। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান সেলিম রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেনÑ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আলহাজ আব্দুস সামাদ লাবু, আলহাজ আব্দুল মালেক মোল্লা, আলহাজ হাফেজ মো: এনায়েত উল্লাহ, আলহাজ নিয়াজ আহমেদ, আলহাজ ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ, আলহাজ মো: লিয়াকত আলী চৌধুরী, আলহাজ মো: আনোয়ার হোসেন, আলহাজ মো: হারুন-অর-রশিদ খান।
চলমান সঙ্কট কাটাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে গভর্নর জানান, চাহিদার তুলনায় ডলারের ঘাটতি রয়েছে। আর ডলারের দামের ভিন্নতা নিয়েও ব্যাংক ও খোলাবাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সবমিলে ডলার সাশ্রয়ে বিলাসবহুল পণ্য আমদানিতে নতুন শর্ত আরোপ করেছি। বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছি। কিছু পণ্য আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি করেছি। আর প্রবাসী আয় বাড়াতে রেমিট্যান্স পাঠানো সহজ করেছি। পাশাপাশি ‘যেসব পণ্য (খাদ্য, শিশুখাদ্য, জ্বালানিসহ অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যপণ্য, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, স্থানীয় ও রফতানিমুখী শিল্প এবং কৃষি খাত) মূল্যস্ফীতে বেশি প্রভাব ফেলে সেসব ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ থেকে সরাসরি সাপোর্ট দিচ্ছে। আর যেসব পণ্য মূল্যস্ফীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে না সেসব পণ্য আমদানির বিপরীতে ঋণপত্র স্থাপনের (এলসি) নগদ মার্জিন বাড়ানো হয়েছে।
করোনায় ব্যাংকিং খাতের অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশ ২০২০ সালে প্রথম করোনার মুখোমুখি হয়। ওই সময়ে ব্যাংক খাত অসাধারণ কাজ করেছে। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে গিয়ে কিছু ক্ষতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকে কর্মরত ১৮৯ জন ব্যাংকার মৃত্যুবরণ করেছেন; কিন্তু ব্যাংক খাত বন্ধ রাখা হয়নি।’
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সেলিম রহমান বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ড পালন করে থাকি। এর ধারাবাহিকতায় শিক্ষাবৃত্তি প্রদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম চলমান রাখা হবে।’
আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও ফরমান আর চৌধুরী বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘এ বৃত্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে।’
ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের আওতায় প্রতি বছর মেধাবীদের বৃত্তি দিয়ে আসছে। এর অংশ হিসেবে ২০১৯ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ২০০ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেয়া হয়েছে। আর শিক্ষা খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রতি বছর নতুন করে ২০০ মেধাবী শিক্ষার্থীকে স্নাতক পর্যায়ে চার বছরের জন্য এ বৃত্তি দেয়া হয়। আর নতুন ও পুরনো মিলে প্রতি বছর আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের বৃত্তি প্রদান কার্যক্রমের আওতায় মোট ৮০০ শিক্ষার্থীকে প্রায় চার কোটি টাকার বৃত্তি দেয়া হবে। বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা প্রতি মাসে সাড়ে তিন হাজার এবং উপকরণ ক্রয়ের জন্য প্রতি বছর এককালীন আট হাজার টাকা করে বৃত্তি পাবেন।


আরো সংবাদ


premium cement