০৬ জুলাই ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯, ৬ জিলহজ ১৪৪৩
`
বিজ্ঞানীদের মধ্যে অসন্তোষ

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে ব্যাপক অনিয়ম

-

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে (ব্রি) বিজ্ঞানীদের বদলি, পদোন্নতি ও দায়িত্ব বণ্টনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালক ড. মো: শাহজাহান কবীরের বিরুদ্ধে। পদোন্নতি ও দায়িত্ব বণ্টনে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পছন্দের ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার এবং হয়রানিমূলক বদলিতে প্রতিষ্ঠানটিতে গবেষণার পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী বিজ্ঞানীদের অভিযোগ।
একাধিক বিজ্ঞানী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দুর্নীতির অভিযোগে কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ড. আমিনুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে ব্রি প্রধান কার্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান হিসেবে পদায়ন করে পুরস্কৃত করা হয়েছে। মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান এবং চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার (চলতি দায়িত্ব) ড. রফিকুল ইসলামকে বঞ্চিত করে ড. আমিনুল ইসলামকে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে চিফ সায়েন্টিফিক অফিসারে পদোন্নতি দেয়া হয়। একই সাথে ড. রফিকুল ইসলামকে হয়রানিমূলকভাবে কুমিল্লা আঞ্চলিক কার্যালয়ে বদলি করা হয়।
অপর দিকে বিভাগীয় পদ না থাকা সত্ত্বেও কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার (পিএসও) ড. মোসাদ্দেক হোসেনকে ডিঙ্গিয়ে তার জুনিয়র ড. মোফাজ্জল হোসেনকে চিফ সায়েন্টিফিক অফিসারে (সিএসও) পদে পদোন্নতি দিয়ে সিরাজগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান করা হয়। সেখানে ড. মোফাজ্জল হোসেন নতুন শ্রমিক নিয়োগে অনিয়মের আশ্রয় নেন। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের আপত্তিতে তাকে বদলি করে ব্রি’র প্রধান কার্যালয়ে ফেরত আনা হয়।
অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে ফলিত গবেষণা বিভাগের ফজলুল ইসলামকে বিভাগ পরিবর্তন করে প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার হিসেবে পদোন্নতি দিয়ে খামার বিভাগের প্রধান করা হয়। এ ক্ষেত্রে খামার বিভাগের সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার (এসএসও) ড. মামুনুর রহমান ও রেজাউল মনিরকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হয়। অপর দিকে পদ না থাকা সত্ত্বেও ফজলুল ইসলামকে ব্রি রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান করা হয়। ভুক্তভোগী বিজ্ঞানীরা আরো জানান, নিয়োগবিধি অনুযায়ী সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার পদে নিয়োগে পাঁচ বছর গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকতে হয়। অথচ এক বছর গবেষণা কাজের অভিজ্ঞতা থাকা নিয়াজ ফারহাতকে এনজিও এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কথিত অভিজ্ঞতা দেখিয়ে নিয়ম লঙ্ঘন করে ব্রি’র কৃষি পরিসংখ্যান বিভাগে নিয়োগ দেয়া হয়। অধিকতর জুনিয়র নিয়াজকে এখন প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার হিসেবে পদোন্নতি দেয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্রি মহাপরিচালকের আশীর্বাদপুষ্ট পোস্ট হার্ভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের বিজ্ঞানী ড. দুরুল হুদাকে ধান গবেষণার গাড়ি মেরামত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। দুইজন সিনিয়র বিজ্ঞানীকে ডিঙিয়ে অধিকতর জুনিয়র ড. দুরুল হুদাকে বিভাগীয় পদ না থাকা সত্ত্বেও চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার (সিএসও) পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। শাহজাহান কবীর ও দুরুল হুদা গাড়ি মেরামতের নামে অতিরিক্ত খরচ দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ তসরুপ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গাড়ি মেরামতে অস্বাভাবিক খরচ নিয়ে সম্প্রতি অডিট বিভাগ আপত্তি জানিয়েছে। কারখানা ও যন্ত্রপাতি বিভাগের এসএসও ড. আফজাল হোসেন নিম্নমানের মেরামতকাজে অস্বাভাবিক বিল পরিশোধে আপত্তি জানালে ড. দুরুল ডিজির কাছে আফজালের বিরুদ্ধে মিথ্যা নালিশ করেন। এতে আফজাল হোসেনকে বঞ্চিত করে রীতিবহির্ভূতভাবে পোস্ট হার্ভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের ভিন্ন অভিজ্ঞতার পছন্দের এসএসও ড. গোলাম কিবরিয়াকে এ বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হয়। নানা অনিয়মের প্রতিবাদ করায় উপপরিচালক (প্রশাসন) এমরান হোসেনকে পাস কাটিয়ে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সিনিয়র সহকারী পরিচালক (সংগ্রহ) কাওসার আহমদকে দিয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়া হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। কাওসার আহমদ ভাণ্ডার বিভাগের সহকারী পরিচালক হিসেবে যোগদান করলেও তাকে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে বদলি করে সংগ্রহ বিভাগের সহকারী পরিচালক করা হয়। বর্তমানে নিয়মবহির্ভূতভাবে একই সাথে সহকারী পরিচালক (সংগ্রহ) ও নব সৃষ্ট পদ সিনিয়র সহকারী পরিচালকের চলতি দায়িত্ব পালন করছেন।
অথচ শুধু মহাপরিচালকের পছন্দের তালিকায় না থাকায় পদ থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি না পেয়ে চাকরি শেষ করেছেন কোনো কোনো বিজ্ঞানী। তিন বছর ধরে পদোন্নতিযোগ্য পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন পদে পদোন্নতি দিচ্ছেন না ডিজি। প্রতিষ্ঠানটিতে অনিয়মই নিয়মে পরিণত হচ্ছে। লাগামহীন এসব অনিয়মের কারণে দেশে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে গবেষণায় নিয়োজিত বিজ্ঞানীরা মানসিক চাপে রয়েছেন। এতে গবেষণা কাজে বিঘœ ঘটছে, নষ্ট হচ্ছে বিজ্ঞানীদের মধ্যে সমন্বয় ও কর্মপরিবেশ। এ ব্যাপারে বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার গাজীপুরে ব্রি মহাপরিচালকের দফতরে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাক্ষাৎ দেননি।


আরো সংবাদ


premium cement