২৫ মে ২০২২
`

বাণিজ্যিক ব্যাংকে সরেজমিন বার্ষিক পরিদর্শন হচ্ছে না

-

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে সরেজমিন তদন্ত করছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর আলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন টিম সরেজমিন না গিয়ে ব্যাংকগুলোর পাঠানো তথ্য সফটওয়্যার ভিক্তিতে করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জানা গেছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আটটি পরিদর্শন বিভাগ ও আটটি শাখা অফিস এই পরিদর্শন চালাবে। মঙ্গলবার থেকে প্রধান কার্যালয়ের চারটি পরিদর্শন বিভাগ কাজ শুরু করবে। অন্য বিভাগগুলোও অচিরেই এ কার্যক্রম শুরু করবে।
প্রতিবারের মতো এবারো মোট ঋণের মধ্যে ৬০ শতাংশ রয়েছে এমন সব বড় শাখাগুলো তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করা হবে। এর মধ্যে বেশির ভাগ শাখাই ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা অঞ্চলে। কিছু শাখা অন্যান্য অঞ্চলে। এর মধ্যে বৈদেশিক বাণিজ্যের বেশির ভাগ শাখাই পরিদর্শনের আওতায় আসবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকগুলোর সারা বছরের ঋণসহ লেনদেনের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম রয়েছে কি না তা তদারকি করে থাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সাথে বছরের শুরুতেই এ সংক্রান্ত টিম গঠন করে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। কর্মসূচি অনুযায়ী ব্যাংকগুলোতে তদারকি করা হয়। ওই সূত্র জানায় ব্যাংকগুলো থেকে প্রতি বছর যেসব জালজালিয়াতির ঘটনা উদঘাটন হয় এসবের ৮০ থেকে ৯০ ভাগই উঠে আসে বার্ষিক পরিদর্শনের ভিত্তিতে। আর এ বার্ষিক পরিদর্শন হয় ব্যাংকগুলোতে সরেজমিনের ভিত্তিতে। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শনের এ পদ্ধতি স্থগিত করে সফটওয়্যার ভিত্তিতে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিদর্শন বিভাগের এক কর্মকর্তা গতকাল নয়া দিগন্তকে জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার কারণে এবার পরিদর্শন কার্যক্রম সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। পরিদর্শকরা এবার আপাতত সরেজমিনে কোনো শাখায় যাবে না। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে পাঠানো কোর ব্যাংকিং সলিউশন (সিবিএস) সফটওয়্যারের মাধ্যমে পাঠানো তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদন তৈরি করে ব্যাংকগুলোর বার্ষিক প্রতিবেদন তৈরি, লাখ লোকসানের হিসাব নিষ্পত্তি করা ও বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেয়ার অনুমোদন দেবে। তবে শর্তজুড়ে দেবে পরে কোনো অনিয়ম বা ঘাটতি ধরা পড়লে সেগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরামর্শ মত সমাধান করতে হবে। পরিদর্শক দল প্রয়োজন মনে করলে পরে বিভিন্ন শাখা পরিদর্শন করতে পারবে।
এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আরেক কর্মকর্তা জানান, এবার করোনার কারণে ঋণ পরিশোধে যে ছাড় দেয়া হয়েছিল তার মেয়াদ গত ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ বিশেষ সুবিধার আওতায় গত ২০ জানুয়ারির মধ্যে ঋণ পরিশোধ করা গেছে। লেনদেনটি ২০ জানুয়ারি হলেও এটি ৩১ ডিসেম্বরের লেনদেন বলে গণ্য করা হবে। যে কারণে পরিদর্শন কার্যক্রম পিছিয়েছে। এ ছাড়া আইনের কারণে ব্যাংকগুলোর বার্ষিক সাধারণ সভা করতে হবে। এ জন্য মার্চের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে।
সূত্র জানায়, বছরজুড়ে ব্যাংকগুলো যেসব লেনদেন করে তার প্রায় সবই কোর ব্যাংকিং সলিউশনের আওতায়। লেনদেনের এ সফটওয়্যারটিই পাঠিয়ে দেয় বাণিজ্যিক ব্যাংক। এগুলো পর্যালোচনা করা হয়। তবে কোনো অনিয়ম পেলে পরে শাখা পর্যায়ে তদন্ত করা হবে। এর মধ্যে ঋণ গ্রহীতাদের ফাইল দেখা হয়। কোনো অনিয়ম থাকলে এগুলোতেই ধরা পরে। সফটওয়্যারভিত্তিক লেনদেনে তা ধরা সম্ভব নয়। করোনার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অনেক ক্ষেত্রে নীতি সহায়তায় বড় ছাড় দিচ্ছে। এ কারণে এ ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া হচ্ছে।


আরো সংবাদ


premium cement