২৯ মে ২০২২, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯, ২৭ শাওয়াল ১৪৪৩
`

কুঋণ কিনতে কোম্পানি গঠনে অচলাবস্থা

-

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কুঋণ কিনে নেয়ার জন্য সরকারি পর্যায়ে একটি কোম্পানি গঠন প্রক্রিয়ায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলÑ ‘বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন (বামকো)’ শীর্ষক প্রতিষ্ঠানটি গঠন করে ব্যাংকের মন্দ বা কুঋণ কিনে নেয়া হবে। পরে খেলাপিদের কাছ থেকে এই ঋণ আদায় করা হবে। কিন্তু দুই বছরের কাছাকাছি সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কোম্পানিটি আলোর মুখ দেখেনি। আদৌ সরকারি খাতে এই ধরনের কোম্পানি গঠন করা হবে কিনা তা নিয়ে এখন দ্বিধাদ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের শুরুর দিকে এই কোম্পানি গঠনের প্রাথমিক কাজ শুরু করা হয়। আমলা নির্ভর এই কোম্পানিকে ঋণ খেলাপিদের প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণ ও বিক্রি করারও ক্ষমতা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসেবে থাকার কথা ছিল পদাধিকার বলে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব। করপোরেশনের সদস্য সংখ্যা হবে ১০, পরিশোধিত মূলধন তিন হাজার কোটি টাকা এবং অনুমোদিত মূলধন থাকবে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত এই আইনের নামকরণ করা হয়েছিল ‘বাংলাদেশন অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন আইন-২০২০’( বিএএমসিও)।
খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল এবং পুনর্গঠন করে দেয়া এবং যেকোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ কিনে নেয়ার ক্ষমতা থাকবে এই করপোরেশনের। করপোরেশনের আয় ও মুনাফা হবে সম্পূর্ণ করমুক্ত।
কাজ করতে পারবে কোনো খেলাপি প্রতিষ্ঠানের ‘রিসিভার’ হিসেবেও। করপোরেশনের সিইওকে নিয়োগ দেবে সরকার। পরিচালনা পর্ষদকে ‘সততা ও বিশ্বস্ততার’ শপথ নিতে হবে। আর এই কোম্পানিটি গঠন করা হবে একটি নতুন আইনের অধীনে।
কোম্পানি গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একটি সূত্র জানায়, গত বছরের শুরুতে এই আইনের একটি খসড়া তৈরি করে তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে সেটি আর সম্ভব হয়নি। পরে এই নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। তবে অন্য একটি সূত্র জানায়, এটি আদৌতে গঠন করা হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। উচ্চপর্যায় থেকে এখনো এই বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
জানা গেছে এই করপোরেশনকে একটি ‘বিধিবদ্ধ’ সংস্থা হিসেবে বর্ণনা করে আইনে বলা হয়েছে, ‘এই করপোরেশনের একটি সিলমোহরও থাকবে এবং করপোরেশন মামলা দায়েরও করতে পারবে।
পরিচালনা পর্ষদ : এ দিকে এই আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, করপোরেশনে পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হবেন পদাধিকার বলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব। তার অধীনে পর্ষদে সদস্য হিসেবে থাকবেন অর্থ বিভাগের একজন যুগ্মসচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের একজন সদস্য, রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্মসচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের একজন সদস্য, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের একজন সদস্য, ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর মনোনীত একজন সদস্য, করপোরেশন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও একজন সদস্য হিসেবে থাকবেন।
পর্ষদের মেয়াদ হবে তিন বছর : সূত্র জানায়, ২৯ পৃষ্ঠার এই আইনে ধারা রয়েছে ৪৬টি। এই ধারার মধ্যে আবার রয়েছে অনেক উপধারা। এমনই এক ধারা হচ্ছে-২৪। এই ধারায় বামকোকে ‘নন-পারফর্মিং ঋণ’ (খেলাপি ঋণ) আদায় ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কিছু ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। সেই ক্ষমতায় বলা হয়েছে, ‘এই আইন কার্যকর হওয়ার সাথে সাথে, অন্য আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ননপারফর্মিং ঋণ আদায় ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। এই কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছেÑ ঋণগ্রহীতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির ব্যবসায়ের যথাযথ দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ব্যবসায়ের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বা কর্তৃত্ব গ্রহণ (টেকওভার); ঋণগ্রহীতার ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির ব্যবসায়ের সম্পূর্ণ বা আংশিক বিক্রি বা লিজ দিতে পারবে। ঋণগ্রহীতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি কর্তৃক প্রদেয় ননপারফরমিং ঋণের পুনঃতফসিলীকরণ কিংবা পুনর্গঠন করতে পারবে। একই সাথে ঋণগ্রহীতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি কর্তৃক প্রদেয় বকেয়া নিষ্পত্তি করবে। এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে জামানতের দখল, সুরক্ষা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে লিজ বা বিক্রি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি কর্তৃক গৃহীত ঋণের গুণগত মান বিবেচনা করে সম্পূর্ণ বা যেকোনো অংশ শেয়ারে রূপান্তরকরণ করতে পারবে করপোরেশন।
এই আইনের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ‘অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন’ অর্থ এই আইনের অধীন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ননপারফরমিং ‘জামানতী ঋণ বা অগ্রিম’ ক্রয়, বিক্রি, সংরক্ষণ, আদায়, পুনর্গঠন, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সম্পদের সিকিউরিটাইজেশন ও ব্যবস্থাপনা, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতা রুগ্ণ প্রতিষ্ঠানের ব্যালেন্সিং, আধুনিকায়ন, বিস্তার ও প্রতিস্থাপন (বিএমআরই), পরামর্শ প্রদান এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা মূলধন বা উদ্ভাবন মূলধন প্রদান ও ব্যবস্থাপনাকারী কোনো বিশেষায়িত আর্থিক প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
আইনের খসড়ায় বলা হয়েছে, ‘করপোরেশন একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা হবে এবং এর স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সিলমোহর থাকবে এবং এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, এর স্থাবর ও অস্থাবর, উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করবার, অধিকারে রাখবার এবং হস্তান্তর করবার ক্ষমতা থাকবে এবং কর্পোরেশনের নিজ নামে মামলা দায়ের করতে পারবে।’ খেলাপি ঋণ আদায়ে বা হ্রাস করার জন্য এই করপোরেশন যেকোনো দেশী বা বিদেশী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করতে পারবে। এই করপোরেশনের তালিকাভুক্তি ছাড়া কোনো অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি কাজ করতে পারবে না। এই কোম্পানির সদর দফতর ঢাকায় হবে, কিন্তু শাখা অন্যান্য জায়গাও হতে পারে।
অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট করপোরেশনের কার্যাবলী : আইনের খসড়ায় এ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ঋণগ্রহীতা রুগ্ণ প্রতিষ্ঠানের ব্যালেন্সিং, আধুনিকায়ন, বিএমআরই। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে, দেউলিয়াবিষয়ক আইন, ১৯৯৭ (১৯৯৭ সালের ১০নং আইন) এর ধারা ৭৪ অনুযায়ী ‘সরকারি রিসিভার’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া করপোরেশন ঋণগ্রহীতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যবস্থাপনা পুনর্গঠন, পোর্টফোলিও এবং সম্পদের পুনর্গঠন করতে পারবে। ঋণগ্রহীতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির সম্পদ বা জামানত অর্জন, নিষ্পত্তিকরণ এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
ঋণগ্রহীতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির দেউলিয়াগ্রস্ত অবস্থা চিহ্নিতকরণ ও সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ’
আইনের ধারা ৭-এ করপোরেশনের শেয়ার মূলধনের বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, ‘কর্পোরেশনের অনুমোদিত শেয়ার মূলধন হইবে ৫ (পাঁচ) হাজার কোটি টাকা, যা প্রতিটি ১০ (দশ) টাকা মূল্যের ৫০০ (পাঁচশত) কোটি সাধারণ শেয়ারে বিভক্ত হবে; তবে শর্ত থাকে যে, সরকার, সময় সময়, অনুমোদিত শেয়ার মূলধন বৃদ্ধি করতে পারবে।’
করপোরেশনের পরিশোধিত শেয়ার মূলধন তিন হাজার কোটি টাকা, যা সরকারের অনুমোদনক্রমে, সময় সময়, বৃদ্ধি করা যাবে।’


আরো সংবাদ


premium cement
ক্লপের চোখ এখন ইস্তানবুলে ঢাকার সবচেয়ে বায়ুদূষিত এলাকা শাহবাগ, শব্দ দুষণে গুলশান ২ কলারোয়ায় পানিতে ডুবে পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু ঐতিহাসিক ইস্তাম্বুল বিজয়ের ৫৬৯তম বার্ষিকী আজ, কী ঘটেছিল সেদিন গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান কুয়ালালামপুরস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের ঢাবির পুকুরে ডুবে শিক্ষার্থীর মৃত্যু নেপালে নিখোঁজ বিমানের ধ্বংসাবশেষের খোঁজ মিলেছে আল্টিমেটামের ১৬ ঘণ্টায় র‌্যাবের অস্ত্র উদ্ধার, সাথে ছিল চিরকুট জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সম্মাননা পেলেন নয়াদিগন্তের শাহাদাত মিথ্যা জি‌তে গে‌লে দে‌শের অস্তিত্ব থাকবে না : দুদু সৈয়দপুরে রকেটের কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু

সকল