১৮ জানুয়ারি ২০২২
`

ইউনেস্কো পুরস্কার জিতল দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদ

-

জাতিসঙ্ঘের শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা বা ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে ঢাকার কাছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে অবস্থিত প্রায় দেড় শ বছরের পুরনো একটি মসজিদ। মসজিদটির নাম দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদ। ১ ডিসেম্বর ইউনেস্কোর এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অফিস থেকে অনলাইনে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল- ফিজি থেকে শুরু করে কাজাখস্তান পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের শ্রেষ্ঠ কাজগুলোকে প্রতি বছর স্বীকৃতি দেয় ইউনেস্কো। এ পুরস্কারের নাম দেয় হয়েছে ‘এশিয়া-প্যাসিফিক অ্যাওয়ার্ডস ফর কালচারাল হেরিটেজ কনসারভেশন’।
ইউনেস্কো জানিয়েছে, ২০২১ সালে ছয়টি দেশের ৯টি স্থাপনাকে এ স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ‘অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট’ ক্যাটাগরিতে স্বীকৃতি পেয়েছে কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর হানাফিয়া জামে মসজিদ। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, চীন, জাপান, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন স্থাপনা ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে। ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের দোলেশ্বর ইউনিয়নে অবস্থিত এ মসজিদ নির্মিত হয় ১৮৬৮ সালে। সেই সময়ে জনসংখ্যার বিবেচনায় এটি ছোট আকারে নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর মসজিদটি একাধিকবার সম্প্রসারণ করা হয়। সময়ের পরিবর্তনে এ মসজিদের অবকাঠামো ক্ষয়ে যাচ্ছিল। কয়েক বছর আগে মসজিদটিকে সংস্কার করে পুরনো রূপ দেয়ার উদ্যোগ নেন সেখানকার সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।
স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ এ সংস্কারকাজের নেতৃত্ব দেন এবং ২০১৮ সালে এর সংস্কারকাজ শেষ হয়। পুরনো মসজিদের পাশেই নির্মাণ করা হয় নতুন আরেকটি মসজিদ। পুরনো মসজিদটি এখন লাইব্রেরি ও মক্তবে রূপান্তরিত হয়েছে। পরে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য আবেদন করেন স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ।
তিনি বলেন, সাধারণত বাংলাদেশে পুরনো মসজিদ ভেঙে নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এ ক্ষেত্রে পুরনোটা রেখে নতুনটা তৈরি করা হয়েছে এবং পুরনোটাকে একেবারে আদি অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দেড় শ’ বছর আগে চুন-সুরকি দিয়ে এই মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছিল। তাই এ মসজিদকে পুরনো রূপ দেয়ার জন্য চুন-সুরকি দিয়ে সংস্কার করতে হয়েছে বলেও জানান স্থপতি আহমেদ।
মসজিদটি সংস্কারের উদ্যোক্তা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, দেড় শ’ বছর আগে মসজিদটি নির্মাণের সাথে তার পূর্বপুরুষদের ভূমিকা ছিল। তাই আমাদের লক্ষ্য ছিল, পুরনোকে সাথে নিয়ে নতুনের কথা বলা। আর সেভাবেই মসজিদটি সংস্কার করা হয়েছে।
ইউনেস্কো এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এসব স্থাপনার মাধ্যমে ঐতিহ্যের যে বৈচিত্র্য ধরে রাখা হয়েছে সেটি সত্যিই প্রশংসার বিষয়। যেসব স্থাপনা পুরস্কার পেয়েছে সেগুলোতে টেকসই উন্নয়নের নানা দিক রয়েছে। পুরনো স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণ ঠিকমতো হয়েছে কি না, সেটি বিশ্লেষণ করে দেখে ইউনেস্কোর বিশেষজ্ঞ কমিটি। স্থপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ জানান, সে মানদণ্ড পূরণ করতে পেরেছে দোলেশ্বর হানাফিয়া মসজিদ।
পুরনো স্থাপনা রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগকে উৎসাহ দেয় ইউনেস্কো। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০০ সাল থেকে এ পুরস্কার চালু করে ইউনেস্কো।


আরো সংবাদ


premium cement