২৮ জানুয়ারি ২০২২, ১৪ মাঘ ১৪২৮, ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪৩
`

বগুড়ায় ২০০ বছরের পুরনো ক্ষুদ্রতম দুই মসজিদ

-

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারের তারাপুর ও মালশন গ্রামে কালের সাক্ষী হয়ে আছে অতি প্রাচীন ক্ষুদ্র দু’টি মসজিদ। অনেকের ধারণা, দেশের মধ্যে এ দু’টি মসজিদ সবচেয়ে ক্ষুদ্র। প্রায় ২০০ বছরের পুরনো মসজিদ দু’টি এখনো টিকে আছে।
আদমদীঘি উপজেলার তারাপুর ও মালশন গ্রামের প্রবীণদের সূত্রে জানা যায়, মসজিদে সামান্য উঁচু একটি গম্বুজ রয়েছে। গম্বুজের ওপর আছে একটি মিনার। মিনারটির বেশ কিছু অংশ অনেক আগে ভেঙে পড়েছে। দেড় ফুট পুরুত্বের দেয়ালে ব্যবহৃত ইটগুলো আকারে খুব ছোট। এই মসজিদের দরজায় দু’টি সুন্দর খিলান রয়েছে। দরজার খিলান, ভেতরের মিম্বর ও মেহরাব বলে দেয় স্থাপনাটি একটি মসজিদ। চুন-সুরকি দিয়ে তৈরি স্থাপনাটি বেশ পুরনো।
গ্রামবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৭৭০ থেকে ১৭৯০ সালের কোনো এক সময় মসজিদ দু’টি নির্মিত হয়। জমিদারি প্রথার সময় আদমদীঘি উপজেলার এ অঞ্চলটি বিভিন্ন জমিদারের শাসনাধীন ছিল। তৎকালীন সময়ে নাটোরের রানী ভবানী পরিচালিত ভারত উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ জমিদারি বিস্তৃত ছিল প্রায় ১২ হাজার ৯৯৯ বর্গমাইল, যার মধ্যে এই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা অন্তর্ভুক্ত ছিল। রানী ভবানীর বাবার বাড়ি ছিল আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ান গ্রামে। কথিত আছে, হিন্দু বসতিপূর্ণ ওই এলাকায় সেই সময় তারাপুর গ্রামে শুধু একটি মুসলিম পরিবার বসবাস করত। ওই পরিবারের সদস্যরা নামাজ আদায়ের জন্য একটি মসজিদ নির্মাণের জন্য স্থানীয় সমাজ প্রধানদের কাছে আবেদন করে। কিন্তু হিন্দু (সনাতন ধর্মালম্বী) সমাজপতি দ্বারা পরিচালিত সমাজব্যবস্থায় তাদের এ দাবি বারবার উপেক্ষিত হয়। পরে তারা রানী ভবানীর কাছে আবেদনের বিষয়টি তোলেন। রানী ভবানী তখন তার বাবার বাড়ি ছাতিয়ান গ্রামে বেড়াতে এসেছিলেন। তিনি সম্মতি দিলেও তখনকার স্থানীয় হিন্দু সমাজপতিরা তার কাছে এই কাজ বন্ধের আবেদন করেন। এ নিয়ে অনেক যুক্তিতর্কের পর তিনজনের নামাজ পড়ার জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করে দেন রানী ভবানী।
আয়তনের দিক থেকে ক্ষুদ্র এই মসজিদের প্রস্থ ৯ ফুট, উচ্চতা মিনারসহ ১২ ফুট। মিনারটির ঘের ২৭ ফুট। মসজিদটির মিহরাব এতই ক্ষুদ্র যা ভেতরে না গেলে চোখে পড়ে না। মিহরাবের উচ্চতা সাড়ে তিন ফুট, প্রশস্ত দেড় ফুট। মসজিদটির দরজার উচ্চতা সাড়ে ছয় ফুট এবং প্রস্থ আড়াই ফুট। সর্বোচ্চ তিনজন মানুষ এ মসজিদে নামাজ আদায় করতে পেরেছে বলে ধারণা করা হয়। তারাপুরের এই মসজিদের মতো আরেকটি মসজিদ রয়েছে পাশের মালশন গ্রামে। এর দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ও উচ্চতা তারাপুর গ্রামের মসজিদের চেয়ে একটু বড়। তবে নির্মাণশৈলী একই ধরনের। এই মসজিদটি সম্পর্কেও পরিষ্কার কোনো ইতিহাস কেউ বলতে পারে না। এখানে একসঙ্গে পাঁচজনের নামাজ আদায় করার মতো জায়গা রয়েছে। পুরনো ও জীর্ণ মসজিদ দুু’টি অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকলেও সেখানে আর মুয়াজ্জিনের আজান ধ্বনিত হয় না। মসজিদ দু’টি কত আগে তৈরি হয়েছিল, কে তৈরি করেছিলেন, কেন এত ছোট ছিল, এসব বিষয়ের সঠিক ইতিহাস আড়ালে থাকলেও ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে এ দু’টি মসজিদ অনেক গুরুত্ব বহন করে। তবে দুই গ্রামবাসী মসজিদ দু’টি সংস্কার করে পুনরায় নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানিয়েছে।
স্থানীয় তারাপুর গ্রামের কাউন্সিলর মোহাম্মদ কামরুল জানান, প্রতœতত্ত্ব বিভাগ এদিকে কখনো নজর দেয়নি। আমরা গ্রামবাসী ব্যক্তিগতভাবে এটিকে রক্ষার চেষ্টা করে যাচ্ছি। ভ্রমণপিপাসু ও ইতিহাস অনুসন্ধিৎসু দর্শনার্থীরা প্রায় প্রতিদিনই মসজিদটি দেখতে আসে। প্রতœতত্ত্ব বিভাগ মসজিদটির তদারকি না করলে যেকোনো সময় নষ্ট হতে পারে এ স্থাপনা দু’টি।


আরো সংবাদ


premium cement
আইসিবি এএমসিএল পেনশন হোল্ডারসথ ইউনিট ফান্ডের ১০ টাকা লভ্যাংশ ঘোষণা জুমার নামাজ শেষে মসজিদে দোয়ার আহ্বান হেফাজতের সাংবাদিক এমদাদুল হক খানের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ইউক্রেন নিয়ে অবস্থান ব্যাখ্যা করল রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র দুবাইয়ে খেলবেন জোকোভিচ জাতীয় উশুতে এসএ গেমস স্কোয়াড বাছাই ইরাককে হারিয়ে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার সুযোগ পেল ইরান পোশাক শিল্পে নারী শ্রমিকদের হার কমে যাওয়ার কারণ কী? কোটি ডলার ব্যয়ের উৎস বিএনপিকে ব্যাখ্যা করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী বিটকয়েন : ক্রিপ্টোকারেন্সি তৈরিতে যেভাবে খনি হয়ে উঠেছে কাজাখস্তান দেশের অধস্তন আদালত তদারকিতে ৮ বিচারপতির মনিটরিং কমিটি

সকল