২৮ অক্টোবর ২০২১
`

জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের বক্তা তালিকা থেকে বাদ গনি সরকারের প্রতিনিধি

-

জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বিশ্বের নেতাদের সামনে আফগানিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে সাবেক আশরাফ গনি সরকারের নিয়োগ করা দূত গোলাম ইসাকজাইয়ের বক্তব্য রাখার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তার নাম বাদ দেয়া হয় বক্তাদের তালিকা থেকে। তিনি নিজেই নাম প্রত্যাহার করেন বলে জানানো হয়েছে। ফলে তালেবানের আপত্তি উপেক্ষা করে সাধারণ পরিষদে সোমবার তার বক্তৃতা রাখা হলো না। আলজাজিরা।
আফগানিস্তানের অংশগ্রহণ ছাড়াই স্থানীয় সময় সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনের সমাপ্তি ঘটল। সাধারণ পরিষদের সভাপতির মুখপাত্র মনিকা গ্রেইলি এ খবর নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আফগান সরকারের পক্ষ থেকে নাম প্রত্যাহারের কারণ বর্ণনা করা হয়নি। তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর জাতিসঙ্ঘে দেশটির প্রতিনিধির আসন নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে এ ঘটনা ঘটল। গত সপ্তাহে তালেবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য রাখার ইচ্ছার কথা জানান এবং দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় নেতৃত্ব দেয়া ড. সুহাইল শাহিনকে জাতিসঙ্ঘে নিজেদের দূত হিসেবে মনোনয়ন দেন।
গত ১৫ আগস্ট কাবুল পতনের মধ্য দিয়ে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। চলতি মাসের শুরুর দিকে দেশটিতে সরকার গঠন করে তারা। এরপর তারা জাতিসঙ্ঘের মতো মঞ্চ থেকে স্বীকৃতি পেতে উদ্যোগী হয়। ২০ সেপ্টেম্বর জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশন শুরু হয়। এই অধিবেশনে যোগ দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে জাতিসঙ্ঘকে একটি চিঠি দেয় তালেবান।
জাতিসঙ্ঘকে দেয়া চিঠিতে তালেবান বলে, ক্ষমতাচ্যুত আফগান সরকার-নিযুক্ত জাতিসঙ্ঘের স্থায়ী প্রতিনিধি গোলাম ইসাকজাইকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ইসাকজাই আর আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করছেন না। তার জায়গায় সুহাইল শাহিনকে তারা স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে। সুহাইল তালেবানের অন্যতম মুখপাত্র।
গতকাল সোমবার তালেবানের পক্ষ থেকে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে একটি চিঠি দেয়া হয়। চিঠিতে এবারের অধিবেশনে তালেবানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকিকে অংশ নেয়ার সুযোগ দিতে আবেদন জানানো হয়। জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে কে বা কারা যোগ দিতে পারবে, তা নির্ধারণ করে সংস্থার নয় সদস্যের ক্রিডেনশিয়াল কমিটি। এই কমিটিতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন রয়েছে। এ ব্যাপারে কমিটির একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বৈঠকটি হয়নি বলে জাতিসঙ্ঘের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। এক কূটনীতিক এএফপিকে জানান, জাতিসঙ্ঘের কাছে আবেদন পাঠাতে অনেক দেরি করে ফেলেছে তালেবান। এ কারণে গোলাম ইসাকজাইয়ের এই অধিবেশনে অংশ নেয়ার সুযোগ বহাল থাকে। তিনি এখনো জাতিসঙ্ঘ স্বীকৃত আফগান প্রতিনিধি।
অধিবেশনের শেষ দিনে ইসাকজাইয়ের অংশ নিয়ে বক্তব্য দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনি নিজের নাম প্রত্যাহার করেন।
জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের চলমান অধিবেশনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা ভাষণ দিয়েছেন। আফগানিস্তান, মিয়ানমার ও গিনির প্রতিনিধিদের ভাষণের মধ্যে দিয়ে গতকাল এই অধিবেশন শেষ হওয়া কথা ছিল। তবে এ দিন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও মোয়ে তুনও অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে পারেননি। এ ব্যাপারে একমত হয় যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন। মিয়ানমারে গত ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর কিয়াও মোয়ে তুনকে বরখাস্ত করে দেশটির জান্তা সরকার। তার স্থলে একজন সাবেক জেনারেলকে নিয়োগ দেয়া হয়। তবে তার নিয়োগ অনুমোদন করেনি জাতিসঙ্ঘ।
মানবিক সহায়তার অনুমতি যুক্তরাষ্ট্রের : এ দিকে তালেবানের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট আফগানিস্তানের জনগণকে মানবিক সহায়তা এবং আর্থিক সহায়তার জন্য লাইসেন্স জারি করেছে। ইউএস ট্রেজারি অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোলের পরিচালক আন্দ্রেয়া গাকি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ট্রেজারি আফগানিস্তানের জনগণের জন্য মানবিক সহায়তার প্রবাহ এবং তাদের মৌলিক মানবিক চাহিদা পূরণকারী অন্যান্য কার্যক্রম সহজতর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
মূলত পাকিস্তান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে একটি বোঝাপড়া অনুসরণ করে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় এই সুবিধাসমূহ ঘোষণা দেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসাদ মজিদ খান ওয়াশিংটনে পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডনকে বলেন, পাকিস্তান সবসময় বিশ্বাস করে যে, এই চার দেশ আফগানিস্তানে টেকসই শান্তির জন্য একটি কার্যকর প্লাটফর্ম প্রদান করে। চারটি দেশের মধ্যে দু’টি-পাকিস্তান এবং চীন-আফগানিস্তানের সাথে সীমান্ত রয়েছে এবং অন্য দু’টি-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া-যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে সামরিক অভিযানে জড়িত ছিল।
যুদ্ধাপরাধের তদন্ত ফের শুরু করতে চায় আইসিসি : আফগানিস্তানে সংগঠিত যুদ্ধাপরাধের তদন্ত ফের শুরু করার অনুমোদন চেয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটার। গতকাল সোমবার এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তালেবান ক্ষমতা দখলের পর আদালতের বিচারকদের কাছে এই অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। তালেবান ও ইসলামিক স্টেট খোরাসানের কর্মকাণ্ডের ওপর গুরুত্ব রেখে এই তদন্ত পরিচালিত হবে। আফগানিস্তানে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত শুরু করতে ইতোমধ্যে ১৫ বছর কাটিয়ে দিয়েছে আইসিসি। অবশেষে গত বছর পূর্ণ তদন্ত শুরু হয়। তবে সেই তদন্ত আটকে দেয় আফগান সরকার। তাদের দাবি ছিল তারা নিজেরাই এই অপরাধের তদন্ত করবে। হেগ-ভিত্তিক আইসিসি কেবল তখনই কোনো সদস্য দেশে হস্তক্ষেপ করে যখন সংশ্লিষ্ট দেশ যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ কিংবা গণহত্যার বিচারে অক্ষম বা অনিচ্ছুক হয়।
গত মাসে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আফগান সরকারের পতন এবং তালেবান ক্ষমতা দখলের পর দেশটির পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ বদল হয়েছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন আইসিসির নতুন প্রসিকিউটর করিম খান। তিনি বলেন, ‘বিষয়গুলো সতর্কতার সাথে পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে, এই মুহূর্তে আফগানিস্তানে কোনো কার্যকর এবং প্রকৃত অভ্যন্তরীণ তদন্তের আশা নেই।’
তদন্ত আবার শুরু হবে কি না সেই বিষয়ে চূড়ান্ত দেবে আদালত। আফগানিস্তান যুদ্ধে জড়িত মার্কিন বাহিনী, আফগান সরকার, তালেবানসহ সব পক্ষের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত দেবেন বিচারকরা।



আরো সংবাদ


সাইফউদ্দিনের বিশ্বকাপ শেষ, দলে ফিরলেন রুবেল (২৪১৭৬)প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর (১৭৪০৭)কাঁচপুরের বিশাল কারখানা বন্ধের পেছনে কারণ কী? (১৪৪৮৪)কেন ওভারটোন সেতুতে আত্মহত্যা করে কুকুররা (১৩৬২১)স্ত্রীকে বিক্রি করে স্মার্টফোন কিনল নাবালক স্বামী! (১২৫৩৮)পাকিস্তান জেতায় লাভ ভারতীয়দের! (১১৩৩৩)ওয়াকার ইউনিসের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটার (৭৯৫৪)নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জয়ে ভারত আরো চাপে! (৭৬৭৪)ভারতে ফের ডুবোজাহাজের তথ্যপাচার, ৩ নৌ-কর্মকর্তা গ্রেফতার (৬৭৩৯)নির্বাচনের বিষয়ে বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নেবেন : ডিকসন (৬৬৬৪)