২৮ অক্টোবর ২০২১
`
প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সেমিনারে বক্তারা

শেখ হাসিনা তার দলের চেয়েও অধিক জনপ্রিয়

-

বাংলাদেশ তলাবিহীন ঝুড়ি এই তকমা এখন একুশ শতকের সেরা প্রহসন। এসবের পেছনে ছায়া হয়ে আছে একজনের অনিঃশেষ দায়বোধ, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। তিনি আর কেউ নন, স্বয়ং শেখ হাসিনা। একটি জরিপের তথ্যানুযায়ী শেখ হাসিনা তার দলের চেয়েও অধিক জনপ্রিয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত শেখ হাসিনা : নেতৃত্ব, মানবিকতা ও দূরদৃষ্টি শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরাম এই সেমিনারের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, মোটাদাগে যদি বলি, তার সমমানের রাজনীতিক দক্ষিণ এশিয়ায় নেই। অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা, সাহস, ঝুঁকি নেয়া সব মিলিয়ে তিনি এক অনন্য নেত্রী। সার্বিকভাবে বিশ্বনেত্রী। যত উন্নয়নই করি, সাফল্য ধরে রাখতে হলে সংগঠন অবশ্যই শক্তিশালী করতে হবে। দুর্নীতি অবশ্যই কমাতে হবে। কোনোভাবেই দল যেন জনগণের সহানুভূতি না হারায়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০০৯-১০ সালেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের বলেন, একটি রূপকল্প করে দেন। দেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশ করব আমরা। তার এই দূরদৃষ্টিসম্পন্ন চিন্তার ফলে ২০১৫ সালেই আমরা নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করি। মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা আমাদের কী হবে তা তিনি (শেখ হাসিনা) তখনই নির্ধারণ করেছিলেন। ২০৪১ সালেই দেশের অর্থনীতি কী হবে তা সেই রূপরেখাও তিনি করে দিলেন। রূপকল্প-২০২১ পরিকল্পনা করা হলো। এটি অলৌকিকভাবে অর্জিতও হয়েছে। এমডিজির ২১টি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ২০টি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে ফেলেছি। শেখ হাসিনার মতো এত প্রজ্ঞাবান, অভিজ্ঞ ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতা দক্ষিণ এশিয়ায় আর নেই।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাফল্য ধরে রাখতে হলে আমাদের শুদ্ধি অভিযান প্রয়োগ করতে হবে। ইতোমধ্যে এই অভিযান শুরু হয়েছে। যখন বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার শুরু হলো তখন কেউ বিশ্বাস করতে পারেনি যে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হবে। তখন থেকেই আমাদের শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স নীতি প্রয়োগ করেছেন। ক্যাসিনো বিরোধী অভিযান চালিয়েছেন। তিনি ক্যাবিনেট সদস্যদের বিচারের আওতায় এনেছেন। কাউকেই তিনি ছাড় দিচ্ছেন না। শুদ্ধি অভিযানের মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদ দূর করতে হবে । সামাজিকভাবে প্রচারণার মধ্য দিয়ে মৌলবাদ ও উগ্রবাদকে রুখতে হবে। রাজনৈতিক উগ্রবাদিতা পরিহার করতে হবে। কোনো নেতা যেন জনবিচ্ছিন্ন না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে তার দীর্ঘায়ু কামনা করে সাবেক আইজিপি ও কলামিস্ট এ কে এম শহীদুল হক বলেন, বঙ্গবন্ধু অনেক ত্যাগ স্বীকার করে দেশকে স্বাধীন করেছেন। দেশের দুঃখী-দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করেছেন। তার লক্ষ্যই ছিল দারিদ্র্য থাকবে না, ক্ষুধা থাকবে না, শোষণ থাকবে না, বৈষম্য থাকবে না। বঙ্গবন্ধুর সেই গুণাবলি তার কন্যা শেখ হাসিনার মধ্যেও আছে।
প্রধানমন্ত্রীর মানবিকতা তুলে ধরে শহীদুল হক আরো বলেন, রোহিঙ্গারা যখন আসা শুরু করে, তখন আমি পুলিশের আইজি ছিলাম। আমি প্রধানমন্ত্রীকে ফোন করে বললাম যে রোহিঙ্গারা যেভাবে আসছে, এটা তো ভয়াবহ অবস্থা। তাদের আসতে দেয়া কি ঠিক হবে? প্রধানমন্ত্রী বললেন, কেন ঠিক হবে না? কী করবা, ফেলে দিবা? যেভাবে রোহিঙ্গাদের হত্যা, ধর্ষণ করা হচ্ছে, তারা যাবে কোথায়, আসতে দাও। আমি তো আশ্চর্য হয়ে গেলাম। আমি ভেবেছিলাম, হয়তো তিনিও বলবেন যে দেখো, না আসতে বলো।
তারপর ক্যাম্প দেখতে গেলেন, তিনি সবার কথা শুনলেন, বাচ্চাদের কথা শুনলেন। তার চোখ দিয়ে এ সময় পানি আসছিল। তারপর মিটিং করলেন কক্সবাজার এসে। পরিষ্কার বললেন, রোহিঙ্গাদের মানবিক যেসব চাহিদা আছে, সেগুলো পূরণ করতে হবে। মাদার অব হিউম্যানিটি উপাধি তাকে বাঙালিরা দেয়নি, বিশ্ববাসী দিয়েছে।
দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকার কারণে বেঁচে আছেন। অনেকগুলো কারণে শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর ইতিহাস বিকৃতির যে অপসংস্কৃতি চালু হয়েছিল, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সেই সংস্কৃতির বিপরীতে একটি শক্তিশালী ভিত্তি ও চেতনা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. কামালউদ্দীন আহমদ বলেন, একসময় রাজনীতি ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে ছিল। এটিকে সেখান থেকে বের করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জনগণের সাথে দূরুত্ব কমে এসেছে। জাতিসঙ্ঘে আমাদের সেনাবাহিনী প্রশংসিত হচ্ছে এটিও শেখ হাসিনার পরিকল্পনার কারণে সম্ভব হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি রাশিদ আসকারী। এ সময় আরো বক্তব্য দেন প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের আহ্বায়ক ড. মীজানুর রহমান, ফোরামের সদস্যসচিব ও কলামিস্ট মিল্টন বিশ্বাস, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. কামালউদ্দীন আহমদ, চিকিৎসক ও কলামিস্ট মামুন আল মাহাতাব (স্বপ্নীল), রফিকুল ইসলাম মুকুল, সাংবাদিক সৌরভ জাহাঙ্গীর, উপস্থাপক ও কলামিস্ট আশরাফুল আজম খান, জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর মোস্তফা কামাল, ড. বদিউজ্জামান ভূইয়া, কেফায়েত উল্লা প্রমুখ।

 



আরো সংবাদ