২৮ অক্টোবর ২০২১
`

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় জামিন পেলেন মিনু বুলবুলসহ রাজশাহী বিএনপির ৩ নেতা

-

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকির অভিযোগে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় রাজশাহী বিএনপির তিন শীর্ষ নেতার জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সিটি মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিনের আবেদন করেন। পরে বেলা পৌনে ৩টার দিকে রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক ও এইচ এম ইলিয়াস হোসাইন তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ হাজার টাকার বন্ডে বিএনপির তিন নেতার প্রত্যেকের জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক।
এ দিকে, বিএনপি নেতাদের আত্মসমর্পণকে ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে প্রশাসনের তরফ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। এদিন বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাজশাহী মহানগর বিএনপির তিন শীর্ষ নেতা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে যান। কিন্তু আদালতে মূল নথি না থাকায় আত্মসমর্পণের জন্য গতকাল রোববার পরবর্তী দিন ধার্য করেন বিচারক। ওই দিন বিচারক মামলার নথিও তলব করেন।
এর আগে গত ২ মার্চ রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন অভিযোগ তুলে বিএনপির চার শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। যাদের নামে মামলা করা হয় তারা হলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক সিটি মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপির বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন। মহানগর আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুসাব্বিরুল ইসলাম বাদি হয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের কাছে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার আবেদন করেন। পরে জেলা প্রশাসক মামলাটি অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠান।
গত ১৬ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মামলাটি অনুমোদন হয়ে আসে। এরপর ৩১ মার্চ রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। মামলায় গত ২৬ আগস্ট উচ্চ আদালত থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন পান আসামিরা।
অবশ্য মামলা দায়েরের আগে মহানগর আওয়ামী লীগ ক্ষমা চাইতে বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনুকে উদ্দেশ্য করে ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছিল। অন্যথায় মামলা করা হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। তবে ৭২ ঘণ্টা পর মিনু একটি বিবৃতি দিয়ে নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এরপরই মহানগর আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার জন্য আবেদন করে।



আরো সংবাদ